“Good Book” বা “Good Book” এ থাকা শব্দটা আমি recently শিখেছি বা জেনেছি। not “recent” recent but একটু দুরের recent। মানে হল, কারো মনে জায়গা করে নেয়া বা কারো কাছে ভালো থাকা।
আমার যতদূর মনে পরে খুলনা জিলা স্কুল বা খুলনা পাবলিক কলেজ জীবনে আমি তেমন কোন শিক্ষকের “Good Book” এ ছিলাম না। অন্তত ছাত্র হিসেবে তো নাই। ক্লাস এইটে যখন স্কাঊটিং শুরু করি তখন বেশ কিছু শিক্ষকের “Good Book” এ চলে আসি। কাজের ছেলে, এক্টিভ, ঘরের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানো স্বভাব, ডান পিটে ইত্যাদি ইত্যাদি কারনে। এছাড়াও বন্ধু মহলে তো থাকেই কিছু বন্ধু যাদের “Good Book” এ থাকে কেউ না কেউ।
ঢাকা সিটি কলেজে বিবিএ যখন শুরু করি পড়াশুনার একি অবস্থা। এরমাঝে কিভাবে যেন বিজিনেস ম্যাথ আর পরিসংখ্যানের প্রতি একটা ভালোবাসা জন্মে যায় আর পরিসংখ্যান স্যারের (আজিজ স্যার, যদি ভুল না করি) “Good Book” এ চলে আসি। শুধু আমি না ওই সময়ে আমরা যারা পিছনের বেঞ্চে বসে পুরো ক্লাসকে জ্বালাতাম তাদের অনেককেই স্যার ডেকে ডেকে বোর্ডে অংক করাতেন। আমাকে আফতাব নগর বলে ডাকতেন। পরবর্তীতে যখন কলেজের বিভিন্ন কালচারাল প্রোগ্রামে জরালাম অনেকের “Good Book” চলে এসেছিলাম।
জাহাঙ্গীর নগরে এমবিএ করার সময় একি অবস্থা। বলতে গেলে কারো “Good Book” এ ছিলাম না অন্তত পড়াশুনা নিয়ে। এমনিতে ক্লাস মাতিয়ে রাখতাম। অনেক সময় অবিশ্বাস পারফর্মেন্স দিতাম। কিন্তু আমি জানতাম আমার দৌড় কতদুর। চাকরি করে আবার পড়াশুনা! সে এক বিভীষিকার নাম।
এই “Good Book” শব্দটা কিন্তু কর্পোরেট লাইফে অনেক দামি এবং কাজের। উপরে উঠতে হলে, বিশেষ করে দ্রুত উপরে উঠতে হলে আপনাকে আপনার বসে বা ম্যানেজমেন্টের “Good Book” আসতে হবে। শুধু ভালো কাজ করলেই হবে না, আপনাকে সুক্ষ তেল মারা জানতে হবে। জানতে হবে ম্যানেজমেন্ট বা বসকে হাতে আনার পদ্ধতি। দুর্ভাগ্যবশত তেল মারাটা ভালো ভাবে শিখতে পারিনি বলে একটু হয়তো পিছনে পরে আছি, কিন্তু তাতে দুঃখ নেই।
যাইহোক, তো যারা এভাবে “Good Book” এ থাকে তারা যদি মিটিংএ বসে গন্ধওয়ালা পাদও দেয় ম্যানেজমেন্ট দাড়িয়ে তালি বাজায়। কাজ যেভাবেই করুক, তার দৌড়টা বেশ স্মুথ হয়।
আপনার অফিসে নিশ্চয়ই কম বেশি এগুলো হচ্ছে। অনেক অনেক ভালো কাজ করে, রাত দিন এক করে, অফিসে জন্য জীবন দেয়া বাকি রেখেও আপনি পিছনে পরে আছেন। কারন হয়তো আপনি কারো “Good Book” এ নেই।
এটা নিয়ে চাপ নেবার কোন দরকার নেই।
কেন বলছি...
এই হাদিসটা নিশ্চয়ই শুনেছেন, কেয়ামতের দিন সবাই মুক্তির আশায় ছোটাছুটি করবে। বিভিন্ন নবী আর পয়গাম্বারের কাছে যাবে মুক্তির আশায়। সেই নবী আর পয়গাম্বাররা নিজেদের ভুল আর পাপ নিয়ে তখন অস্থির থাকবেন। ইয়ানফসি-ইয়ানাফসি করবেন। তখন সবাই দৌড়ে যাবে আমাদের প্রিয় আর শেষ নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর কাছে। উনি তখন মহান আল্লাহর সামনে সেজদায় পরে যাবেন। উনি কান্না শুরু করবেন “ইয়া উম্মাতি” “ইয়া উম্মাতি” বলে। উনি ওনার একজন উম্মত ছাড়া বেহেস্তে যাবেন না।
বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি!
আপনি আমি কিন্তূ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) “Good Book” আছি। তাকে আমি আপনি কোন দিন দেখিনি, উনিও আমাদের দেখেন নাই। কিন্তু উনি আমাদের ছাড়া বেহেস্তে প্রবেশ করবেন না। ভাবা যায়!!!
আর একটা বলি।
এটাও শুনেছেন হয়তো।
আপনি মনে করছেন আপনি হয়তো আল্লাহকে স্মরণ করছেন।
ব্যাপারটা এমন না। আল্লাহ আপনাকে আগে স্মরণ করছে বলে আপনি ওনাকে স্মরণ করতে পারছেন।
আপনি নিজের ভেতর থেকে নামাজের তাগাদা পাচ্ছেন। নামাজ ছুটে গেলে লজ্জিত হচ্ছেন।
পবিত্র কোরআন পড়ছেন। পড়তে না পারলে শুনছেন। কোন না কোন ভাবে নিজেকে কোরআনের সাথে রাখতে চাচ্ছেন।
ভালো কাজ করছেন। নফল ইবাদাত করছেন। দানখয়রাত করছেন।
মনেপ্রানে আল্লাহকে স্মরণ করছেন বা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আর আপনার এগুলো করার আগে আল্লাহ আপনাকে স্মরণ করে বসে আছে।
শুধু আপনাকে না, তার সৃষ্ট সব মানুষকে।
আপনি আমি কিন্তু মহান আল্লাহ “Good Book” এ আছি।
তবে শুধু শুধু কেন মন খারাপ করছেন? কেন ডিমটিভেটেড হচ্ছেন?
কেন ভাবছেন অমুকের “Good Book” এ না থাকতে পারলে আপনার জীবনে কিছু হবে না।
কাম অন ব্রো......
আপনি আমি অলরেডি “Good Book” এ আছি। জাস্ট চিল এন্ড say আলহামদুলিল্লাহ্।
#ভাউ