পথের ওপর পা রাখলেই কি একটি গন্তব্যের জন্ম হয়?
নাকি গন্তব্য কেবলই এক মনগড়া ফাঁদ, ক্লান্ত মনের সান্ত্বনা?
আমরা যারা পথ চলি, তারা কি সত্যিই কোথাও পৌঁছাতে চাই?
নগরের ধূলিধূসর পিচঢালা সড়ক কিংবা নির্জন কোনো গ্রামের আলপথ,
সবই তো অনবরত চলা, এক অসীম শূন্যতার ভেতর যাত্রা।
গন্তব্য বলতে মানুষ বোঝে, একখানা নিশ্চিত ছাদ, এক চিলতে আলো,
সে তো যাত্রার সমাপ্তি বিন্দু, গতির কফিনে শেষ পেরেক মারা।
যেখানে গন্তব্য শেষ হয়, সেখান থেকেই কি শুরু হয় স্থবিরতা?
আমার পায়ে লেগে থাকা ধুলো আমাকে কোনো ঠিকানার কথা বলে না,
তারা শুধু বলে এগিয়ে যাওয়ার কথা, হাওয়ায় বিলীন হওয়ার কথা।
মানুষ একবিন্দুতে থমকে দাঁড়ানোর জন্য তবুও ব্যাকুল হয়?
কোন অলীক গন্তব্যের টানে মানুষ ভুলে যায় চলার অনন্ত সুর?
আমি দেখি মানুষ গন্তব্যের মানচিত্র এঁকে রাখে শোবার ঘরের দেওয়ালে,
আর আমি আঁকি শূন্যতার মানচিত্র, যার শেষ সীমানায় শুধুই দিগন্ত।
দিগন্তের ঠিকানাটা সম্ভবত লুকিয়ে আছে পথের শেষ মোড়ের গাঢ় অন্ধকারে,
যেখানে গন্তব্য আর পথ এক হয়ে মিশে যায় কোনো নিঃশব্দ নদীর মোহনায়।