বুকের ভেতর বিষম গাঙে জোয়ারের ঢেউ এসে বাড়ি খায়।
কার ইশারায় মাঝদুপুরে কাঁচা শিউলির গন্ধ ফোটে?
মেয়েটি তো জানে না কোন তুফান এল তার রক্তে,
কেন অতর্কিতে হাত ছুটে যায় কাচের চুরির দিকে,
কেন শরীরে আগুন ধরে, কেন এক অচেনা হাহাকার জমে ঠোঁটে!
বটগাছটার ওপাশে দাঁড়ানো ওই ছন্নছাড়া যুবক,
তার চোখের দিকে তাকালেই বুকের খাঁচায় ঝাপটায় উন্মাদ কোনো কবুতর।
ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভিটে, শাড়ির আঁচলে বুনো হাওয়া আসে।
মেয়েটির মনে হয়, নদীটা আজ গৃহস্থালির সব সীমানা ডুবিয়ে দিক,
মাটির হাঁড়ি, ধানের গোলা, সংসারের সমস্ত আগল ভেঙে
তাকেই ভাসিয়ে নিয়ে যাক কোনো এক অতল অন্ধকারে!
গাছের পাতায় বাতাস নয়, যেন তীব্র কামনার মাতম;
রক্তের ভেতর কে যেন চাবুক মারে নিশিরাইতে।
কেউ শেখায়নি প্রেম, কেউ শোনায়নি সুর;
তবু এই উদ্দাম, দিশেহারা বুকে এত আগুন কেন?
যেন একঝাঁক কালবৈশাখী একসাথে এসে আছড়ে পড়েছে
থরথর করে কাঁপতে থাকে কিশোরীর শরীরে!
আর কোনো পথ নেই, কোনো নিরাপদ আশ্রয় ন্য, সে চায় এখন আগুন।
আজ এই সর্বনাশা প্রেমের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মেয়েটি বোঝে,
হয় তার হারিয়ে যাওয়া বাকি, নয়তো সর্বনাশের কাছে আত্মসমর্পণ!