সুবোধ, তুই পালিয়ে যা,
এখানে স্লোগানের হাটে আজ তোর কোনো কাজ নেই।
ভাড়ায় আনা গলার আওয়াজে জমেছিল রাজপথ,
প্লাকার্ড হাতে ঘেমে ভিজে গিয়েছিল তরুণেরা।
বুকের ভেতর উন্নয়ন, আর হাতে ছিল একশো টাকার অলিখিত রসিদ।
মিছিল শেষে তোদের স্লোগান দর্শন উবে গেল ধোঁয়ায়,
নেতা উঠে গেল শীতাতপ গাড়িতে।
আর তোদের ভাগ্যে জুটলো শুধু শূন্য পকেট আর রোদে পোড়া চামড়া।
সুবোধ, তুই পালিয়ে যা,
মানুষ এখন আর ন্যায়ের মিছিলে হাঁটে না,
মানুষ এখন পকেটের খাঁচায় অচিন পাখির খোঁজে ঘাম ঝরায়!
সুবোধ, তুই এখন আর ঘরে ফিরিস না।
তোর ওই চশমার কাঁচ দিয়ে আজ আর আকাশ দেখা যায় না।
মিছিলের লেজ ধরে যারা হেঁটেছিল দুপুরের রোদে,
প্ল্যাকার্ডের কাঠগুলো ভেঙে এখন উনানের কাঠ হয়েছে,
আর নেতার গাড়ির হর্ন হারিয়ে গেছে অনেক দূর, কোনো এক অভিজাত গলির মোড়ে।
সুবোধ, তুই কি শুনেছিস সেই গুঞ্জন?
মিছিল শেষে যখন ব্যানারগুলো গুটিয়ে রাখা হলো রাস্তার কোণে,
তখন হিসেব মেলাতে গিয়ে দেখা গেল,
তিন দিনের গলা ফাটা চিৎকারের দাম এসে পৌঁছায়নি পকেটে।
নেতার পিঠে হাত রাখা চামচারা চোখ ফিরিয়ে বলল,
আজ ফান্ড শর্ট, আগামী মিছিলে দেখা হবে ভাই!
অথচ তোরা ভেবেছিলি, এই ঘামঝরা পায়ে একদিন বুঝি দেশ বদলাবে,
ভাঙা সাইকেলের টায়ার ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে মুক্তির সুবাতাস।
এখন রাজপথের পিচে শুধু পড়ে আছে চিপসের প্যাকেট আর ছিঁড়ে যাওয়া ফেস্টুন।
মাইকে তখনো ভেসে আসছে,
উন্নয়ন চলছে, উন্নয়ন চলবে!
সুবোধ, তোর দিনকাল বড় খারাপ আজ।
যেখানে মানুষ এখন আর নিজের ছায়ার ওপরও ভরসা রাখতে পারে না,
সেখানে মিছিলে না গিয়ে তুই বরং নদীর ধারে একা বসে থাক।
যে খোয়াব তুই পেটে ভাত না খেয়ে বুনেছিলি,
তা আজ ফুটপাতে পাঁচ টাকার চায়ের কাপে ডুবে মরে গেছে।