যে মানুষটা একদিন ধুলোমাটি মেখে
আমাদের পাশাপাশি হেঁটেছিল খোলা রাস্তায়,
সে আজ উঁচু রাজপ্রাসাদের অলিন্দে দাঁড়িয়ে
আমাদের দিকে তাকায় বেশ খানিকটা ওপর থেকে।
তার হাতের করমর্দন এখন আর উষ্ণ নয়,
সে এখন মেপে নেয় কার পোশাক কতটা দামি।
সিংহাসনে বসতেই তার চামড়া বদলে গিয়ে
হয়ে উঠল এক নিরেট কড়কড়ে লোহার বর্ম।
যে প্রজারা একদিন তাকে কাঁধে তুলে নিয়েছিল,
আজ তারা তার চোখে নিতান্তই নিচু জাতের লোক,
যাদের ভাষা নাকি বড্ড স্থূল ও অমার্জিত,
যাদের পায়ের ছাপ এসে নোংরা করে তার মসৃণ মেঝে।
রাজা এখন চারপাশে প্রাচীর তুলে আটকে রাখেন নিজেকে,
অথচ ওপাশে অন্ধকার ভিটেয় জমে ওঠে নিঃশব্দ হাহাকার।
সেই ধুলোবালিমাখা সাধারণ প্রজাদের পাড়ায়
প্রতিটি সাঁঝবেলায় এখন কেবল নেমে আসে
এক অনিশ্চিত ভয় আর না বলা প্রবঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস।