লোহার ফটক খোলার তীক্ষ্ণ শব্দটা পেছনে ফেলে
আমি যখন গ্রামের পথে পা বাড়ালাম,
রোদের উত্তাপ বহুকাল পর আমার ত্বক ছুঁয়ে খেল।
চারপাশের খোলা আকাশ দেখে চোখ দুটো ধাঁধিয়ে ওঠে,
দীর্ঘ বন্দিদশায় বুকভরে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাসটাই তো ভুলেছিলাম!
গ্রামের সীমানায় ঢুকতেই সেই চেনা ছাতিম ফুলের ঘ্রাণ,
যেন কোনো জাদুবলে টেনে নিয়ে গেল আমার হারিয়ে যাওয়া অতীতে।
বাঁশঝাড়ের ছায়াঘেরা আলপথ ধরে যখন হাঁটছিলাম,
শালুক ফোটা বিলের হাওয়া এসে ছুঁয়ে গেল কপাল।
মনে হলো নদীটাও যেন থমকে দাঁড়িয়ে চিনতে চাইছে আমায়।
যে নিঝুম প্রান্তর আর ধানখেত ছেড়ে গিয়েছিলাম,
সেখানে আজ নতুন ফসলের ঘ্রাণ, নতুন কোনো জীবনের সুর।
পুকুরঘাটে পানি নেওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো বধূ
আকস্মিক থমকে তাকায়, চোখের কোণে জমে অচেনা সংশয়।
বৃদ্ধ বটগাছটা ঠিক আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে শান্তভাবে,
শুধু তার গুঁড়িতে জমেছে আরও কয়েক পরতের প্রবীণ শ্যাওলা।
কারাগারের চার দেয়ালে যে সময়টা জমে বরফ হয়েছিল,
আমার গাঁয়ে এসে সেই সময় আবার নদীর মতো বইতে শুরু করল।
বুকের ভেতরে জমে থাকা বহু বছরের জমাট অন্ধকার
এক নিমিষে গলে গেল ভোরের পাখির সেই চেনা কাকলিতে।
আজ আর কোনো প্রহরীর ভারী বুটের আওয়াজ নেই,
শৃঙ্খলের ঝংকার পেরিয়ে আমি এখন এই মাটির মুক্ত সন্তান।
নিজের ভিটের উঠানে পা রাখতেই শিউলি গাছের তলায়
থমকে দাঁড়াই, চোখের জলে মুছে যায় জেলের সমস্ত অপমান।
এতকাল পর অবশেষে আমি আমার ঘরে ফিরলাম।
Comments
First reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.
-
-
ফেলে আসা স্মৃতিরা যখন হাতরে ফেরে হৃদয়ের মনিকোঠায় তখন হাজারো হাহাকার। খুব সুন্দর লিখেছেন কবি।