কথা ছিল অন্যরকম, কথা ছিল মেঘ হবে আলো,
তুমিও তাকাওনি আর, পথও তাই অন্ধকার হলো।
জল পড়ে, পাতা নড়ে... অথচ নদীর নিচে নদী
কতখানি বিষ গুলে একা একা বহে নিরবধি।
তোমাকে বলিনি আমি, কখনো বলব না কোনোদিন,
কী করে বুকের মাঝে জমে ওঠে ছাইমাখা নিকোটিন।
কাকে বলে একা হওয়া, কাকে বলে ভুল ভাঙা ঘর,
আমি শুধু খাদের কিনার ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম, তারপর।
বৃষ্টি আসে মাঝরাতে, চিলকোঠা ভিজে যায় জলে,
তুমি যাকে আলো বলো, তাকে লোকে অন্ধকার বলে।
যে আঙুল চিনে ফেলেছিল বিষাদের শেষ দাগ,
সেই আঙুল এখন একাই সয় পৃথিবীর সব রাগ।
দেওয়ালের কাছে গিয়ে কেঁদে ফেলে একলা এক শিশু,
যেমন একা দাঁড়িয়ে থাকে ক্ষয়ে যাওয়া কোনো এক যীশু।
আমরা তো শর্ত রেখে ভালোবাসিনি কোনো এককালে,
তবে কেন জলছবি মুছে যায় নষ্ট এই সকালে?
পার্কের ওই বেঞ্চে পড়ে থাকা এক ছেঁড়া টিকিট,
বাতাসে যে উড়ে যায়, যেন এক চেনা চেনা স্মৃতি।
আমাকে ক্ষমা কোরো না, তুমি শুধু ডেকে নিয়ো রাতে
মৃত নদীর নাম ধরে, যখন অন্ধকার নামবে আঙিনাতে।
তোমার আঁচলে ঢাকা স্বপ্নের নিঝুম নগরী,
যেখানে প্রেমিকের বদলে দাঁড়িয়ে থাকে কোনো আততায়ী।
আমি সেই শেষ মিছিলে হারিয়ে যাওয়া এক তরুণ,
যার বুকের পকেটে রাখা কেবলই বিচ্ছেদের আগুন।