পুরাতন রাজপথের ধূলি মেখে যখন গোধূলির আলোয় হাঁটি,
আমার পদশব্দে জেগে ওঠে কত ঝরা পাতার ইতিহাস।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই জীর্ণ শরীর নিয়ে আমি
শুধু একাকীত্বের ছায়াপথ ধরে হেঁটে চলি নীরব চরণে।
হঠাৎ কোনো মোড়ের মাথায় থমকে দাঁড়ায় চেনা মুখ,
শ্রদ্ধানত মস্তকে বলে ওঠে, স্যার, কেমন আছেন?
সেই ক্ষণিকের সালামের ধ্বনি বাতাসে মিলিয়ে যায়,
আবার আমি ফিরে আসি আমার সুনসান নীরবতার ভিড়ে।
একসময় এই কণ্ঠস্বরে মুখরিত হতো চত্বর,
কত শত কৌতুহলী চোখ চেয়ে থাকত
আমার চক ধুলোমাখা হাতের পানে।
আজ আমার সেই চেনা বারান্দাগুলো বড় দূরবর্তী,
মঞ্চের আলো নিভে গেলে যেমন নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে অভিনেতা।
ধূসর সন্ধ্যার দিকে চেয়ে মাঝে মাঝেই প্রশ্ন জাগে মনে,
জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলে এসে আমার তবে প্রাপ্তি কী?
কোনো জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ কিংবা সঞ্চিত সোনাদানা নয়,
তবু কি তবে আমার হাত দুটি সত্যি নিঃস্ব থেকে গেল?
না, ওই যে একঝাঁক তরুণ আলো নিয়ে এগিয়ে চলেছে দূর দিগন্তে,
ওদের বুনে দেওয়া স্বপ্নের ভেতরেই রয়ে গেছে আমার প্রচ্ছন্ন স্বাক্ষর।
আমার প্রাপ্তি কোনো জাগতিক অর্জনের অংকে মাপা যায় না,
আমি তো রয়ে গেছি শত শত প্রদীপের বহমান আলোকশিখায়।