বুটের শব্দে সেদিন কেঁপে উঠেছিল উত্তরবঙ্গের নির্জন মেঠো পথ,
আমরা ভেবেছিলাম, রক্তসূর্যের আলোয় মুছে যাবে সব অন্ধকার।
পোস্টারের লাল কালি এখনো আমার ছানির চোখে জল আনে,
দেওয়ালে লেখা শব্দগুলো আজ বড্ড পুরোনো আর ধূসর।
তখন বসন্তের বয়স কম, বুকে ছিল আগ্নেয়গিরির প্রচণ্ড তেজ,
রাতের মিছিলে হেঁটে আমরা গানে গানে তুলেছিলাম সাম্যের কথা।
কমরেড সুনীলের হাত থমকে গিয়েছিল পুলিশের গুলির আঘাতে,
ওর শেষ চিৎকার আজও শুনতে পাই রাতের গভীর নিস্তব্ধতায়।
আমরা ক্ষমতা চাইনি, চেয়েছিলাম শোষিত মেহনতি মানুষের হাসি,
জোতদারের চাবুক ভাঙতে গিয়ে নিঃশেষ করেছি নিজেদের জীবন।
গা ঢাকা দেওয়া রাত কেটেছে ভিজে থাকা ধানের গুদামে,
একমুঠো বাতাসাই ছিল সেদিনের কঠিন বিপ্লবের একাকী আহার।
এখন হাত কাঁপে, চামড়া কুঁকড়ে গেছে বয়সের ভারে,
টিভি স্ক্রিনে রাজনীতির বেচাকেনা দেখে বুক কেঁপে ওঠে।
সেই লাল ঝাণ্ডা আজও রাখা আছে কাঠের বাক্সে,
সেদিনের বসন্তের বজ্রপাত আজ কেবলই ইতিহাসের ধূসর পাতা।
তবু একা জানালায় দাঁড়িয়ে দূরের ওই তারাটার দিকে ভাবি,
আমরা ভুল স্বপ্নের পিছে ছুটিনি, সময়টা ছিল অকাল।
রক্তের দামে কেনা ভোর আমাদের ঘরে আসেনি সত্য,
তবু সেই ভোরের আলোতেই বেঁচে আছে ক্ষয়ে যাওয়া স্মৃতি।
Comments
First reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.
-
-
সেই নকশাল আন্দোলন, সেই লাল ঝান্ডা হাতে নিয়ে মুক্তির স্বপ্ন দেখা। দারুণ লিখেছেন ভাই।