Fiction

বিভ্রমের মর্গ

October 19, 2026

18 views

শহরের শেষ প্রান্তে, নির্জন এক ময়লার স্তূপ থেকে একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। লাশটির অবস্থা এতটাই বিকৃত ছিল যে প্রথম দেখায় পুলিশ শনাক্ত করতে পারেনি যে এটি ছেলে নাকি মেয়ে।  ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ লাশটিকে মর্গে পাঠায়।

এসআইএস মর্গ, যার অবস্থান ঢাকার উত্তরখান থানার এসআইএস হসপিটাল এর আন্ডার গ্রাউন্ড এ। সাধারণত যেখানে গাড়ি পার্কিং করার কথা সেখানেই গড়ে উঠেছে শহরের সবথেকে ভয়ানক মর্গ টি। মর্গের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন মেডিসিন অফিসার লিয়ন। কলিগদের মতে লিয়ন একটা সাইকো।গুজব রয়েছে লিয়ন ডেডবডির কিডনি , চোখ এমনকি ছেলে ডেডবডির  অভ্যন্তরীণ নানান অঙ্গ‌ও খেয়ে ফেলে! তবে এর কোনো প্রমান নেই । মর্গটির সম্পূর্ণ দেয়াল জুড়ে রয়েছে স্টিলের লকার; যার ভিতরে বেশ কয়েকটা ডেডবডি ফ্রিজের হাওয়া খাচ্ছে। সহজেই যাতে সবকিছু পরিষ্কার করা যায় এমন চিন্তা করে টাইলস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মর্গটি কে । এক কোণায় কয়েকটা স্ট্রেচার পড়ে আছে ।

মর্গটি সম্পূর্ণ অন্ধকার। আন্ডার গ্রাউন্ডে হওয়ায় সূর্যের আলো প্রবেশের সুযোগ নেই। মাঝে একটি হলদে আলোর বাতি টানানো। যা কিছু ক্ষণ পর ধুপ ধুপ জলে উঠে আবার নিভে যায়। চারদিকে বরফ গলার শব্দ, ফরমালিনের গন্ধে মহ মহ করছে। সাধারণ কেউ এখানে প্রবেশ করলে এর পরিবেশ দেখে ভয়ে উপস্থিত মারা যেতে পারে।

শনিবার দুপুরে ডেডবডি টাকে এই মর্গে আনা হয়। উপস্থিত ওয়ার্ড বয় করা অনেক ভয়ে ভয়ে ডেডবডি টাকে মর্গে রেখে যত দ্রুত সম্ভব ফেরত যায় । জীবনে প্রথম মেডিসিন অফিসার লিয়ন কোনো ডেডবডিটি দেখে অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরার পর প্রচন্ড পরিমানে বমি করে। ডেডবডি প্রায় পচে গেছে, বডি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। যা সহ্য করার মতো নয় । কিছুটা সময় নিয়ে লিয়ন পোস্টমর্টেম শুরু করে।শুরুতেই বোঝার চেষ্টা করে বর্তমানে লাশটি ঠিক কোন অবস্থায় আছে। রিপোর্টে ভয়াবহ সব তথ্য উঠে আসে। লাশটির মাংস পচে যাওয়ায় তা গলে একটু একটু করে হাড় থেকে আলাদা হয়ে টাইলসে পড়ছে । মাথা একদম থেতলানো তার উপর আবার তা একদম পচে গলতে শুরু করেছে। যৌনাঙ্গও কেটে ফেলা হয়েছে, যার কারণে বাহ্যিক ভাবে বোঝার উপায় নেই এটি ছেলে নাকি মেয়ে। বাডির বেশ কয়েকটা হাড় ভেঙে পাউডার হয়ে গেছে একদম । লিয়ন জীবনে প্রথম কোনো লাশ কে ভয় পাচ্ছে। ইতোমধ্যে দুইবার সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে । পুনরায় আবার লিয়ন পোস্টমর্টেম করা শুরু করে। দ্বিতীয় দফার রিপোর্টে উঠে আসে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য --- ডেড বডিটি একটি মেয়ের। তার মৃত্যু স্বাভাবিক ভাবে হয়নি। প্রথমে সে ফাঁসি দেয় , পরে সে ধর্ষণের শিকার হয় । হ্যাঁ, মৃত অবস্থায় সে ধর্ষিত হয় । তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে সে কোনো মানুষের দ্বারা ধর্ষিত হয় নি। তাকে একাধিক বার ধর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু কোনো মানুষ তা করে নেই । প্রথমে লিয়ন ভেবেছিল তার যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে কিন্তু আসলে তা নয়। একাধিক বার এবং দ্রুত বেগে মিলনের শিকার হওয়ায় তার যৌনাঙ্গে বিশেষ তাপ উৎপন্ন হয় যার ফলে যৌনাঙ্গ গলে যায়। এর কোনো সাইনটিফিক ব্যাখ্যা তার কাছে নেই। এই লাশের পোস্টমর্টেম করতে গিয়ে লিয়নের মতো একজন সাইকোপ্যাথ চিন্তায় পড়ে যায়।

দুদিন পর, লিয়ন কয়েকপেক মদ খেয়ে মাতাল হয়ে মর্গের ডেডবডি টার পাশে বসে আছে। হঠাৎ লিয়ন লক্ষ্য করে ডেডবডি টা মর্গে নেই। লিয়ন এখনো ডেডবডির সেলাই করে নি । মাতাল অবস্থায় লিয়ন ডেডবডি খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । স্বপ্নে লিয়ন মেয়েটা কে দেখে এক পুরনো বটগাছে ফাঁসি দেয়া অবস্থায়। এরই কয়েক মূহুর্ত পর এক কবিরাজ এসে বটগাছ থেকে লাশটিকে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চোখের পলকে সব উধাও হয়ে যাচ্ছে।  লিয়ন ঘুম থেকে আতকে উঠে। ভয়ে ভয়ে ডেডবডি খোঁজার চেষ্টা করলে দেখে ডেডবডি তার জায়গাতেই আছে । লিয়ন মনে করছে যে, সে এক ঘোরের মধ্যে আছে। কোন কিছুই তার ঠিক লাগছে না। সারাদিন লিয়ন তার দেখা স্বপ্ন নিয়েই ভাবতে থাকে। ভয়ে ভয়ে পুরো দিনটি পার করে । লিয়ন সিদ্ধান্ত নেয় যে - সে আর এই লাশের পোস্টমর্টেম করবে না । কর্তৃপক্ষ কে জানিয়ে দেয় তা । কর্তৃপক্ষ তাকে অনুরোধ করে লাশটির সেলাই সম্পূর্ণ করে দিতে। যাতে তারা পরিবারের কাছে  লাশটি ফিরিয়ে দিতে পারে।

পরেরদিন সকালে লিয়ন মর্গে আসে উদ্দেশ্য ডেডবডি টির  সেলাই সম্পন্ন করা। মর্গে ঢুকে লিয়ন তাজ্জব বনে যায় ।দেখে লাশটি টেবিলর উপর বসে তার‌ই আসার অপেক্ষায়। লিয়ন প্রচন্ড ভয় পায়। ভয়ে কয়েকবার চিৎকার করে। লাশটি লিয়ন কে উদ্দেশ্য করে বলে- ডাক্তার সাহেব আপনি কী আমার মৃত্যুর কারণ বের করতে পেরেছেন? ভয়ে লিয়নের কণ্ঠস্বর বন্ধ হয়ে গেছে। সে অনেক কষ্টে জবাব দেয় -- তোমার মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক নয়।  লাশটি উচ্চস্বরে হাসতে থাকে। একপর্যায়ে বলে - আমাকে জিনের মাধ্যমে ধর্ষণ করা হয়েছে। এক কবিরাজ এ সব কিছু করেছে । জবাবে লিয়ন কিছু বলে না, শুধু হা করে তাকিয়ে থাকে । আর মনে মনে ভাবতে থাকে - ডেডবডি তার সাথে কথা বলছে । তবে কী লাশ কথা বলে ?

বিকালে লিয়ন ঘুম থেকে উঠে দেখে সে তার নিজ ঘরে । তাকে তার সহকর্মীরা অবচেতন অবস্থায় মর্গ থেকে উদ্ধার করে তার নিজ ঘরে নিয়ে আসে। লিয়ন বিছানা থেকে উঠে বসছে এমন সময়  সে অনুভব করে,তাকে কেউ একজন ডেকে বলছে -- ডাক্তার সাহেব ভয় পেয়েছে, ভয় পেয়েছে। তারপর এক বিদ্রুপ হাসি ভেসে আসে ঘরের এক কোণা থেকে ।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+35 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login