হেমন্তের ম্লান আলো এসে জমে তীরের মেহগনি পাতার গায়ে,
ধূসর জলের তোড় কেটে যায় নীল হাওয়ার নির্জন ইশারায়;
হঠাৎ হাসিয়া ভাবি, এই নদী তবে কি সেই ধানসিঁড়ি নদীটাই,
যার তীরে জলপিসি ডানা মেলে ঘুমায় এখনো সন্ধ্যার মায়ায়?
হেঁটে বেড়িয়েছি বহুকাল এই ক্লান্ত পলিমাটির পৃথিবীর বুকে,
দেখেছি ঘাসের নিচে শ্যাওলার রঙ, শিশিরের বিষণ্ণ প্রদীপ;
রাত্রির ডানা কেটে উড়ে যায় যে অন্ধ পেঁচা অতল অসুখে,
তার চেয়ে বেশি দূর যেতে চেয়েছিল আমার চঞ্চল হৃদয়।
নাটোরের সেই চেনা চোখের নীড়েও তো কোনোদিন থামেনি সময়,
বনলতা সেনকে ভুলে গেছি, সে এক মায়াবী আলো ছাড়া আর কিছু নয়!
ক্ষণিকের প্রেমে কিংবা রূপসীর চোখের শান্ত চিলতে ছায়ায়,
মানুষ যা খোঁজে, তা কি মেটে এই পৃথিবীর ক্ষণভঙ্গুর মায়ায়?
অবশেষে থেমে গেছে সব কোলাহল, ছেড়ে এসেছি মাটির ঘর,
হরিণের ক্রন্দন, নক্ষত্রের হাহাকার আর শিশিরের ভেজা ঘাস;
পৃথিবীর রঙিন কান্না মুছে আজ যেখানে বসেছি নিরুত্তর,
পরকালের এই নীরবতা দেয় অনন্ত আলোর এক দূর আশ্বাস।
এখানে নেই কোনো নদী, নেই ধানক্ষেতে ঝরে পড়া আলো,
এই নশ্বর জীবনের চেয়ে অনন্ত রূপের পরলোকই ভালো।