প্রথম অধ্যায়: অচেনা চিঠি। রাত তখন ২টা ১৭ মিনিট।
জানালার বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। শহরের সমস্ত আলো নিভে গেলেও আরশের ঘরের টেবিলের ওপর রাখা পুরোনো ল্যাপটপটা তখনো জ্বলছিল। স্ক্রিনে একটা অদ্ভুত ই-মেইল ভেসে উঠল।
প্রেরকের নাম—আরশ নিজেই।
কিন্তু ই-মেইলটা পাঠানো হয়েছে আগামীকাল, রাত ২টা ১৭ মিনিটে। কাঁপা হাতে মেইলটা খুলতেই মাত্র তিনটি লাইন দেখতে পেল সে।
“আগামীকাল রাত বারোটার আগে নীল শাড়ি পরা মেয়েটিকে খুঁজে বের করো। তাকে বাঁচাতে না পারলে, তুমি আর কোনোদিন সূর্যোদয় দেখতে পাবে না।”
আরশ প্রথমে ভেবেছিল, কেউ তার সঙ্গে মজা করছে। কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল। মেইলের শেষে একটা ছবি ছিল।
ছবিতে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে সে চিনত না। অথচ মেয়েটির চোখের দিকে তাকাতেই মনে হলো, এই চোখের জন্যই সে হয়তো বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছে।
ছবির পেছনে দেখা যাচ্ছিল একটা পরিত্যক্ত রেলস্টেশন। আর ছবির নিচে লেখা ছিল—
“তোমার মনে নেই, আরশ। কিন্তু আমি তোমার জন্য সাত বছর ধরে অপেক্ষা করছি।”
ঠিক তখনই দরজায় তিনবার টোকা পড়ল। টক। টক। টক। আরশ দরজা খুলতেই দেখল, বাইরে কেউ নেই। শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটা ভেজা নীল খাম। খামটা খুলে সে যে কথাগুলো পড়ল, সেগুলো তার পুরো পৃথিবী বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
"আরশ, যদি এই চিঠিটা তোমার হাতে পৌঁছে থাকে, তাহলে বুঝবে—আমাদের গল্পটা আবার শুরু হয়েছে।”
চলবে...