Story

কচ্ছলা

November 3, 2026

13 views

কচ্ছলা, এই কচ্ছলা, বলি রাত হয়েছে, এখনো উঠছিস না ক্যানো রে?!


মাথা চুলকে কচ্ছলা চোখ মেলে, উঠে বসে আড়মোড়া ভাঙে। উফ! প্রতিদিন মায়ের এই মিষ্টি গলায় ডাকাডাকি কত ভালো লাগে? মানুষের মত কোথায় একটু হেঁড়ে গলায় ডাকবে।

কচ্ছলা,এই কচ্ছলা,এখনো উঠবি নাকি দেবো নাক মুলে?

ধুর আর ভালো লাগে না, কচ্ছলা বিরক্ত মুখে গাছের ডাল থেকে নামে। নিচের ডালেই মা রান্না করছে। কচ্ছলা হাঁড়িতে উঁকি দেবে, ভেতরের জিনিস দেখেই কচ্ছলার মুখ কালো হয়ে যাবে।

আজও ইঁদুর সেদ্ধ?

ইশ, ভিখিরিনন্দীনি এসেছেন, উনার জন্য ভিখিরিভোগ সাজিয়ে রাখতে হবে, যা রান্না করছি তাই খেয়ে নে।

এসব আমি খাবো না, কতবার বলেছি একটু পচা মাছের কাবাব করতে।

ইশ, পচা মাছ! জিনিসপত্রের যা দাম বেড়েছে মানুষেরা ওই পচা মাছও খেয়ে নিচ্ছে, দেখ গিয়ে।

ধুর তোমার যত বাজে কথা, মানুষেরা কত ভালো ভালো খাবার খায়।

হয়েছে, মানুষ কি খায় সেটা নিতে এতো ভাবতে হবে না, তুই মানুষ না, শাঁকচুন্নি, এটা মনে রাখিস।

কচ্ছলা আবার মুখ কালো করে, আসলেই তো, সে তো একটা সাধারণ শাঁকচুন্নি। যার কত স্বপ্ন ছিল, একজন বর হবে, একটা ঘর হবে, এই অপূর্ন স্বপ্ন নিয়েই তো সে মরে গেলো। 

পাশের গাছের শাঁকচুন্নি পিনপিনি প্রতিদিন তার স্বামীর শোকে পিনপিন করে কাঁদে। কচ্ছলার আবার এসব পিনপিনিয়ে কান্না টান্না আসে না। সে এখন মডার্ন যুগের মডার্ন শাকচুন্নি, এসব আবেগী কান্না কাঁদতে তার বয়েই গেছে। 

এই, যা গিয়ে দাঁড়া, আমি খাবার নিয়ে আসছি।

মায়ের গলায় কচ্ছলার ভাবনার জগৎ ভেঙে যায়। সে গাছ থেকে হড়হড়িয়ে নামে। মা বলে উঠবে,

এই, এখন আবার না খেয়ে কোথায় যাচ্ছিস?

আরে কি জ্বালা! সারারাত গাছে বসে থাকবো নাকি? একটু ঘুরে আসি।

বলি ভোর হওয়ার আগে কিন্তু ফিরে আসবি, তা না হলে গাছে উঠতে দেবো না।

ধুর, এই জন্য না আমাদের শাকচুন্নিদের কোন উন্নতি হলো না, মানুষ কোথায় খাদ থেকে চাঁদে চলে গেলো, আর আমরা ভোর হওয়ার আগে ঘরে ফিরি, যত্তসব! 

কচ্ছলা চুলগুলো দুলিয়ে হাঁটা শুরু করবে, এমন ভাবে ঘুরে বেড়াতে কচ্ছলার খুব ভালো লাগে। মনে হয় পৃথিবীটা শুধু তার, সে একাই এই পৃথিবীর রানী। কোথাও কেউ নেই, শুধু আছে রানী কচ্ছলা।

এই পৃথিবী আমার, শুধু আমার

কচ্ছলা গুনগুনিয়ে উঠবে, হঠাৎ মানুষের গলার আওয়াজ পাওয়া যাবে।

ক..কে…ওটা কিসের আওয়াজ?

এই সেরেছে, পৃথিবীটা দেখা যাচ্ছে কচ্ছলার একার নয়, ওই তো একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাটা মনে হয় কচ্ছলার গান শুনে ফেলেছে। হাতে আবার ওটা কি? একটা ডান্ডার মাথায় চারকোনা আয়নার মত চকচক করছে, ভয়ংকর কোন অস্ত্র নাকি? কচ্ছলা একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে পরবে, মানুষটা মনে হয় ভয় পেলেও একটু সামলে উঠেছে, এবার সে বকবক শুরু করবে।

হ্যালো গাইজ, আমি সাদিব দ্যা ঘুরাফিরা গাই।ওয়েলকাম টু মাই এনাদার ভ্লগ, আমি এখন দেখাবো আমার গ্রাম। 

ইশ, আমার গ্রাম! গ্রাম কি ব্যাটা তোর একার নাকি? আমি তাহলে এখানে কি মুড়ি পোড়াচ্ছি?

কচ্ছলা বিড়বিড় করে, আর মানুষটা বকবক করে।

হ্যাঁ বন্ধুরা, তোমাদের জন্য, শুধু তোমাদের জন্য আমি এই রাতের বেলা গ্রামের মেঠো পথে বের হয়েছি, তোমাদের দেখাবো আমি রাতের গ্রাম…..

অন্ধকারে এই ব্যাটা কি গ্রাম দেখাবে কচ্ছলা কিছুই বুঝতে পারে না। মানুষটা সেই চকচকে আয়নার মত জিনিসটার দিকে তাকিয়ে বকবক করেই যাচ্ছে। দেবে নাকি আয়নাটা আছড়ে ভেঙে…..

এবার আমি কিছু কমেন্ট পড়বো, রাতার জোনাকি লিখেছে, “ ভাইয়া আপনাকা ভূতে ধরবা।” হা হা হা

ভূত?! আমি  ভূত একদম ভয় পাই না….ইশ, ভূত নাকি ভয় পায় না, দেবে নাকি ব্যাটার ঘাড়ে সুড়সুড়ি? সুড়সুড়িটা কে দিলো বুঝতে পারলে ব্যাটার গ্রামের মেঠো পথে চক্কর কাটা বন্ধ হয়ে যাবে, হা হা হা।

কচ্ছলার ভীষণ হাসি পেয়ে গেলো, ওমনি তার শরীরে কিছু একটা হয়ে গেলো। মানুষটা চিৎকার করে উঠলো….

ও বাবারে….ভূ…ভূত…

কি? আমি একটা রূপবতী শাকচুন্নি, আর আমাকে কি না বলে ভূত! ব্যাটাকে আজ বুঝিয়ে দেবো ভূত আর শাকচুন্নি কত প্রকার এবং কি কি?

কচ্ছলা স্টাইল মেরে মানুষটার দিকে এগিয়ে গেলো। একটা শাকচুন্নিকে হেঁটে আসতে দেখে মানুষটা ভয়ে ল্যাগবেগিয়ে মাটিতে পরে গেলো। কচ্ছলা কি করবে ভেবে পেলো না, কালো ডান্ডায় আয়নার মত জিনিসটা চকচক করছে, সে ডান্ডাটা তুলে নিয়ে ছুটতে শুরু করলো।

( চলবে)




Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login