Story

মরিস'স কেচাপ

November 3, 2026

10 views

‘খচ’ 

ছুরি দিয়ে কেটে ফেলার এই শব্দটা মরিস খুব পছন্দ করে। কেমন কবিতার মত কানে বাজে।

হাল্কা শীতের সন্ধ্যা এবং হাল্কা ঠান্ডা পরেছে দেখেই মনে হয় এক দুই জনকে উইন্ডব্রেকারে দেখা যাচ্ছে। ‘মরিস'স কেচাপ’ মরিসের বার্গারের দোকান। কেচাপ প্রায়ই অনেক রান্নার মূল উপাদান হিসেবে ব্যাবহার হয়,তাই মরিস দোকানের নামের সাথেই কেচাপ যোগ করে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে যারা আসে তারা তাদের পছন্দমত বার্গার বানিয়ে নিয়ে খেতে পারে। আর মরিসেরও ভালো লাগে এক এক জনের পছন্দ দেখতে, কেউ বেকন তো সাথে টম্যাটো সস, কেউবা আবার সসেজের সাথে সুইট চিলি, প্যাটিও এক একজনের এক এক রকম পছন্দ।  ভাবছেন হয়তো বার্গার ব্যাবসায়ী বার্গার বিক্রি করবে টাকা পাবে, এত ঝকমারি দেখে কেন? কিন্তু মরিস অমনই, বার্গারের সাথে কে কি নেয় এটা দেখতে তার খুব ভালো লাগে। 

এই তো, একটু আগেই তো লোকটা এলো, কাপড় চোপড় যাই হোক না কেন চোখগুলো অদ্ভুত ঝকঝকে।  সোজা এসে বললো বিফ প্যাটি সাথে লেটুস, শসা আর টোম্যাটো সস। 

মরিস বললো, ‘’ অবশ্যই স্যার, তবে সুইট চিলি নিলে কেমন হয়, এই হাল্কা ঠান্ডায় বিফ প্যাটির সাথে সুইট চিলি ভালো লাগার কথা।”

লোকটার চোখগুলো জ্বলে ওঠা মরিসের চোখ এড়ালো না, মরিসও একই রকম, পছন্দ না মিললে তারও খারাপ লাগে।

সোজা তাকিয়ে লোকটা বললো, “ দেখুন মিস্টার, যেভাবে বলেছি সেভাবেই বানান, আর ল্যাটে হবে আপনার এখানে?” 

মরিস বললো, “ ল্যাটে শেষ হয়ে গেছে স্যার তবে ভালো ক্যাপুচিনো হবে।”

লোকটা আবারও সোজা তাকিয়ে বললো, “ উহু চলবে না, তা দোকানে কি আপনি একাই থাকেন নাকি?”

মরিস মজা করে বললো,” স্যারের প্রশ্নটা পুলিশি জেরার মত শোনালো, স্যার কি পুলিশ নাকি?কিছু মনে করবেন না, আপনার চোখগুলো কিন্তু ছুরির মতই ঝকঝকে,  হা হা হা….

লোকটা পায়ের উপর পা তুলে বসলো, টেবিলে আংগুল দিয়ে হাল্কা আওয়াজ তুলে বললো, “ তা না, একা থাকেন মনে হচ্ছে, শহরে একজন সিরিয়াল কিলার ঘুরঘুর করছে শুনলাম, কিছুদিন আগেই তো একটা মেয়ের ছ টুকরা লাশ পাওয়া গেলো।”

মরিস ছুরি দিয়ে শশা ছিলতে ছিলতে বললো, “ হুম শুনেছি, এখনো সেই ব্যাটার সাথে দেখা হয়নি, হলে বার্গার খাইয়ে দিতাম, তার পছন্দমত বানিয়ে দিতাম হা হা হা……

মরিস লক্ষ্য করলো লোকটা এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। গলা পরিষ্কার করে মরিস বললো,

স্যার, আপনার বার্গার তৈরি,  পে ফার্স্ট ছিলো লেখাটা মনে হয় খেয়াল করেননি, আমারি ভুল, আসলে লেখাটা আরও বড় করে….।”

লোকটা মানিব্যাগ বের করতে করতে বললো, “ ঠিক আছে ঠিক আছে বুঝেছি।”

কাউন্টারে এসে ডলারগুলো বের করতে করতে বললো, “তা কত হলো আপনার মিস্টার…..।” 

এরপর লোকটা নিজেকে আবিষ্কার করলো একটা প্লাস্টিকের পর্দা দেয়া ঘরে, দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাধা, মুখেও কাপড় গুঁজে দেয়া, চিৎকার করা তো অসম্ভবই।

দেয়ালে কিসের দাগ ওগুলো? রক্ত? কিন্তু এমন তো কথা ছিলো না, লোকটার পকেটে এখনো বড় ছুরিটা আছে, প্রয়োজন হলে অবশ্যই সে ব্যাবহার করবে। আগেও অনেক বার করেছে, সে যে এমনই,  পছন্দ না মিললেই মেরে ফেলে, ইচ্ছা মত শরীরের যে অংশ কাটতে ইচ্ছা করে কাটে। শহরের একটা নিরিবিলি কফির দোকানের মালিক সে।মানুষের কফির পছন্দ তার পছন্দের সাথে না মিললেই তো তার মাথার মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়ে যায়, এমন হতেই পারে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীতে সবচেয়ে বিচিত্র প্রানী মানুষ এটা সবাই জানে। এই যে কিছুদিন আগেই ছ টুকরা হওয়া মেয়েটাকে তো এ জন্যই সে….

মেয়েটা ব্ল্যাক কফি চেয়েছিলো, কিন্তু সে বানিয়ে দিতে চেয়েছিলো ল্যাটে। পরে অবশ্য ব্ল্যাক কফি রেড কফি হয়ে গিয়েছিলো।

ভাবতে ভাবতেই লোকটা দেখলো বার্গারশপের মালিক ঘরে ঢুকেছে, কি যেন নাম? জিজ্ঞেস করা হয়নি।দোকানের নাম যেন কি? মনে পরেছে ‘মরিস’ দিয়ে কিছু, লোকটার নাম মনে হয় মরিস। আরি,তারও হাতে একই রকম ছুরি।

শপের মালিক আবার বার্গারের প্লেট নিয়ে এসেছে, সামনের চেয়ারে বসেই খচ করে ছুরি দিয়ে এক পোচে লোকটার গলাটা কেটে দিলো, আহ! শান্তির আওয়াজ…আর রক্ত পড়ার টপটপ শব্দটা তো অদ্ভুত রকমের সুন্দর! 

আরে লোকটা তো টম্যাটো সস চেয়েছিলো! কিন্তু রক্তের রঙের সাথে তো সসের রঙ মিলছে না, এটাই তো মরিসের সমস্যা, পছন্দ না মিললে মাথায় সব এলোমেলো হয়ে যায়।

কারো সাথে পছন্দ না মিললে মরিসের বড় খারাপ লাগে। 

Picked up where you left off

Comments

Borhan Mahmud was this story’s first reader

+25 XP

    Please login to post comment. Login

  • Borhan Mahmud 1 hour ago First reader

    ভয়াবহ গল্প, ভাই। এই মরিস লোকটাই তাহলে সেই লোক! ভালো লিখেছেন। শুভেচ্ছা জানবেন।

    • Mishy Hasib 47 minutes ago

      ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা জানবেন।