Posts

গল্প

ওয়েটিং লিস্ট

May 7, 2024

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

130
View
রাত প্রায় এগারোটা বাজছে। ধানমন্ডির রাস্তা কিছুটা শান্ত। গাড়ির আনোগোনা কম। কিছু রিকশা আর প্রাইভেট কার কিছুক্ষণ পর পর দেখা যাচ্ছে কাঁচ-ঘেরা ক্যাফের স্মোকিং জোন থেকে। আকাশে একটু পর পর আলোর ঝলকানি। তীব্র দাবদাহের পর বৃষ্টির দেখা মিলবে সম্ভবত। ক্যাফের ভেতরেও কমছে মানুষের ভিড়। আধা ঘণ্টা আগেও মানুষের কিচিরমিচির শব্দে ফোনের ওই প্রান্তের কথা শোনা যাচ্ছিল না। এখন দুদিকেই চুপচাপ। মাঝেমধ্যে নির্জনতা উপভোগ করা প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। ক্যাফের টিভি স্ক্রিনে চলছে বার্সেলোনা ভার্সেস পিএসজির ইউফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেকেন্ড লেগ। প্রথম হাফে বার্সেলোনা মোটামোটি ভালো খেলছে, যদিও প্যারিসের মাঠে সময়টা তাদের জন্য অনুকূল মনে হচ্ছে না।

এত রাতে একটা নির্জন ক্যাফেতে আমার বসে থাকার কথা না। আমিসহ পুরো ক্যাফেতে মাত্র চারজন কাস্টোমার দেখা যাচ্ছে। দুজন কাপল। আর একজন আমার মতোই একা বসে এক নজর খেলা দেখছে, বাকিটা সময় মোবাইলে মনোযোগ দিয়ে রেখেছে। সাধারণত আমি ঘড়ির কাঁটা রাত দশটায় পৌঁছানোর আগেই বাড়ি ফিরি। দুই-একদিন ব্যতিক্রম ঘটে বিশেষ কোনো কারণে, আজকের কারণ সদ্য চাকরি হারানো। আজকে সন্ধ্যাতেই খবর পেলাম চাকরিটা আর থাকছে না। শুধু আমি একাই না, তালিকাতে আছে আরো প্রায় তেরোজনের নাম। সারা পৃথিবীর শ্রম আইন নিয়ে কিছুক্ষণ তর্ক করা যেত চাইলে, সমস্যা হচ্ছে, এমন দেশে তর্ক বা আলোচনার কোনো গ্রাউন্ডই তৈরি হয়নি। আপাতত আগামীকাল থেকে চাকরি থাকছে না, সেটাই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। আমি বরাবরই বাস্তবতাকে সহজভাবে মেনে নেওয়া মানুষ, কিছুক্ষেত্র ছাড়া। হৃদয়ঘটিত জটিলতায় কোনো বাস্তবতাই আমাকে পিটিয়ে মানুষ বানাতে পারে না। অনির্দিষ্টকালের জন্য আমি বেয়াড়াই থাকি।

প্রচণ্ড কোলাহলযুক্ত জায়গা খুব সচেতনভাবেই আমি এড়িয়ে চলি। সম্ভবত শৈশবের একটা দীর্ঘ সময় ফাঁকা ফ্ল্যাটে একা তালাবদ্ধ থাকার কারণে একসঙ্গে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে দমবদ্ধ লাগে। খুব কম মানুষের সান্নিধ্যই আমাকে শান্ত রাখে, বাকিটা সময় মানুষের ভিড় দেখলেই আমার ভেতরটা সমুদ্রের মতো উত্তাল হতে থাকে। এ কারণেই হয়তো আমি নির্জনে থাকতে ভালোবাসি, একা, নিজের সাথে, নিজের মতো করে। তবে মাঝে মাঝে, খুব ইচ্ছে করে কারো কারো পাশে চুপচাপ বসে থাকি, সমস্ত সন্ধ্যা, সম্ভব হলে পুরোটা রাত। সেটা খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। নিজের নিঃসঙ্গতা অন্যের কাছে প্রকাশে আমার আড়ষ্টতা আছে। কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করলেও আমার বলা হয় না। কাউকে দেখতে ইচ্ছে করলে মনে হয়, বেশি চেয়ে ফেলা হবে। অথচ এসব মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।

ইউফার আজকের ম্যাচে হলুদ আর লাল কার্ডের ছড়াছড়ি। প্রথমার্ধে রাফিনহার গোলে বার্সেলোনা এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় বার্সেলোনার গোল শোধ করলো তাদেরই সাবেক সতীর্থ উসমান দেম্বেলে। খেলার সমীকরণ পাল্টে গেছে। আরাজুকে লাল কার্ড দেখানোর পরই ম্যাচ থেকে খেঁই হারিয়ে ফেলেছে কাতালিয়ানরা। বাজে রেফারিংয়ের কারণে ম্যাচ দেখার আগ্রহ হারালাম। টিভির স্ক্রিনের দিকেও আর ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করছে না। আকাশে ক্রমশ মেঘ ভারী হয়ে বিকট শব্দে হুঙ্কার জানাচ্ছে। বৃষ্টির খোঁজ এখনো মেলেনি। ক্যাফের চারপাশ নিশ্চুপ হয়ে আছে। আজকে রাতে বাড়ি ফিরবো না নিশ্চিত। ফিরলেও মেইন গেট খোলা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কোথায় যাবো, এখনো জানি না।

ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁই ছুঁই। ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের স্টার কাবাবের বিল্ডিং ঘেঁষা বিন্স অ্যান্ড অ্যারোমা কফিজ-এর দোতলায় বসেই দেখা যায় নিচের সব দৃশ্যাবলী। একটা কালো টয়োটা অ্যালিয়নের গতি ধীর হচ্ছে কাছাকাছি এসে। সম্ভবত পার্কিংয়ের জায়গা খুঁজছে। এই গাড়িটার সঙ্গে আমি পরিচিত। ১৮ বছর আগে এই গাড়ি দেখলেই আমার বুক কেঁপে ওঠতো। বয়স না পরিস্থিতি? কোনটা অনুভূতিতে পরিবর্তন আনে? এখনো কি আমার বুক কাঁপে? নাহ! কিছু টের পাওয়া যাচ্ছে না। বরং আমি একটা শান্ত নদীর মতো স্থির হয়ে আছি। ভেতরে যেসব ঝড় বইছিল, সেসবও যেন কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছে। গাড়ির মালিক সম্ভবত জায়গা খুঁজে পেলেন। বনানী থেকে ধানমন্ডি পর্যন্ত এই জার্নির পুরোটা সময় তিনি আমার কানেই ছিলেন, ফোনের লাইনে। এটা তার পুরোনো স্বভাব। এমন হলেই বুঝে নিই তার মন ভালো না, অথবা সে নিঃস্ব বোধ করছে। গত ১৮ বছরে এমন অসংখ্য সময় এসেছে, যখন তিনি আমার কাছে ফিরে ফিরে এসেছেন, নিঃস্ব হলেই। নিঃসঙ্গ সময় তাকে আমি কখনো ফিরিয়ে দিইনি।

ঘণ্টা দুয়েক আগেও এই জায়গাটায় বসে চোখ জ্বলছিল। চারপাশে সিগারেটের ধোঁয়ায় উল্টোদিকে বসা মানুষের মুখও দেখা যাচ্ছিল না ঠিকমতো। এখন সব নিশ্চুপ। কাপল দুজন কিছুক্ষণ আগেই চলে গেছেন। ইউফার ম্যাচ দেখা ভদ্রলোক এখনো আছেন। যদিও খেলার দিকে তার এখন মনোযোগ কম। খুব নীচু স্বরে ফোনে কথা বলছেন। কপালে খানিকটা চিন্তার ভাঁজ। যুবায়ের এসেই দুইটা এসপ্রেসো অর্ডার করলো, সঙ্গে গার্লিক মাশরুম। নরমালি আমি লাতে খাই। ওর সঙ্গে থাকলেই কেবল এসপ্রেসো খাওয়া হয়। গার্লিক মাশরুম অবশ্য আমার পছন্দের। এটা ওর জানা আছে বলেই কোনোকিছু জিজ্ঞাসা ছাড়াই অর্ডার করলো। সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার পর এ জিনিসের স্মেলও এখন আর আমি সহ্য করতে পারি না। খুবই অদ্ভুত বিষয়! এমন একটা জিনিসে যে কীভাবে আমি ১৭ বছর অভ্যস্ত ছিলাম! যুবায়ের একবার আমার দিকে তাকিয়ে পকেট থেকে মালব্রোর প্যাকেট বের করে ধরালো। তারপর কিছুক্ষণ চুপচাপ টানতে থাকলো। আমার চাকরি না থাকা নিয়ে ওর তেমন একটা ভ্রুক্ষেপ নেই। ওর ধারণা, চাকরি পাওয়া আমার কাছে ওয়ান টু’র ব্যাপার। আজকে চাকরি গেলেই আমি কালকে কোথাও জয়েন করতে পারবো! এই দেশে থেকেও এমন একটা ধারণা ওর কীভাবে হয়, একা একাই ভাবি! অবশ্য ওর তো তেমন চাকরি বাকরি করার প্রয়োজন হয়নি, জানবেই বা কীভাবে।

যুবায়েরকে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত লাগছে। প্রেমঘটিত ব্যাপারে আমরা দুজনই সম্ভবত খুব ইমোশনাল। আমাদের ভাগ্যও প্রায় এক রকমই! তবে ওর আর আমার মধ্যে কিছুটা পার্থক্যও আছে। সেটা অভিজ্ঞতার ভিন্নতার কারণেই। গতকাল প্রেমিকার সঙ্গে মান-অভিমান হয়েছে। এখন পর্যন্ত দু পাশ থেকেই যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আমার বদ্ধ বিশ্বাস, এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা সাময়িক। যুবায়ের যদিও মানতে নারাজ। ও বলছে, এবারই সব শেষ! এমন কথা অবশ্য আগেও বহুবার বলেছে ও। তাই ওর এই “এবারই সব শেষ”কে বিশেষ একটা পাত্তা দেওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হলে বনানী থেকে এই রাতে ধানমন্ডিতে এসে আমার সামনে বসে থাকার মানুষ না ও। প্রেমিকা অভিমানে থাকলেই ওর আমার কথা মনে পড়ে! এ জিনিস আমি ১৮ বছর যাবত হজম করে যাচ্ছি। ইদানিং অবশ্য খোঁচা মেরে বলার চেষ্টা করি। ও নিরুপায় হয়েই উত্তর দেয়- “আমার আর কে আছে, বল! প্রেম ভাঙলে তো তোর কাছেই আসতে হবে!” কী সরল স্বীকারোক্তি! যেন পৃথিবীর সকল ভাঙা হৃদয়ের শুশ্রূষা করতে আমি লঙ্গরখানা খুলে বসে আছি! হায় ঈশ্বর! তবু আমার সিরিয়াল কেন ১৬ হাজার ১০৮ জন গোপিনীর মাঝে থাকে? আমি তো সাক্ষাৎ ক্লেমেন্টিয়া!!!

যুবায়ের বলে, পৃথিবীতে ও দুইজন নারীকেই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে। একজন হেলেনা আন্টি, মানে ওর মা। দ্বিতীয়জন আমি! ওর আফসোস কেন আমি ওর প্রেমিকা না হয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড হলাম! কিন্তু এই বেস্ট ফ্রেন্ডের টার্মটাও যুবায়েরের নিজের ক্রিয়েট করা। আমি কোনোদিন কোথাও ওকে বেস্ট ফ্রেন্ড দাবি করি নাই। যুবায়েরই দেখি মানুষের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় খুব গর্বের সাথে বলে “শি ইজ মাই অনলি বেস্ট ফ্রেন্ড!” প্রথম প্রথম আমি খুব বিব্রত হতাম। ভার্সেটিতে যুবায়ের আর আমার প্রেম প্রেম ফিলিং টের পায়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে এটা সত্যি, আমরা কোনো প্রেমের সম্পর্কে কোনোদিনও ছিলাম না। কিন্তু ১৫ বছর আগে আমরা শুধুই বন্ধু ছিলাম না, আমাদের মধ্যে প্রেম বোধও ছিল। উই ওয়্যার মোর দ্যান ফ্রেন্ডস! এই মোর দ্যান ফ্রেন্ডসকে বেস্ট ফ্রেন্ডে পরিণত করার সর্বোচ্চ কৃতিত্ব যুবায়েরের। সেটা নিয়ে অবশ্য এখন আমার খুব একটা সমস্যা হয় না। এই রকম ফ্রেন্ড জোনে পড়ে যাওয়ার ঘটনা যুবায়ের ছাড়া আমি কাউকে ঘটাতে দেখিনি, সেই সুযোগই দিই না। 

অবশ্য কিছুদিন আগেই একজন এমন প্রচেষ্টা করতে যাচ্ছিলেন। “উই আর গুড ফ্রেন্ডস, রাইট?”- ভদ্রলোক এই বাক্য বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার মস্তিষ্কে কবি ইমরুল হাসানের কবিতার লাইনগুলো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠলো- “আমারে দিও না তুমি বন্ধুত্বের দেয়াল/আড়ালেই থাকবো আমি, তোমার অভিমান/যেহেতু বসন্ত শেষ হয়া যায়/প্রেম ধীরে মুছে যায়/নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়/ জীবনানন্দ আওড়ান…।” ভদ্রলোকের বন্ধুত্বের দেয়াল তৈরির প্রচেষ্টা দেখে আমার ভয়ঙ্কর হাসি পাচ্ছিল। কিন্তু ওই মুহূর্তে আমি সেটা আটকাতে পেরেছি। অনেককিছুই আমি কন্ট্রোল করতে পারি। আমার আশেপাশের মানুষদের সেটা বোঝার ক্ষমতাই নেই। যতটুকু প্রকাশ করি, তারচেয়ে অনেক বেশি ভেতরে চাপা দিয়ে রাখি। এই যে ভদ্রলোক কয়েকটা শব্দের মাধ্যমে ইট আর সিমেন্ট নিয়ে তৈরি হচ্ছিলেন বন্ধুত্বের দেয়াল সৃষ্টির লক্ষ্যে, উনি জানেনই না- দেয়াল তৈরির প্রচেষ্টা না করলেও আমি কোনোদিন আমার গোপনতম অনুভূতি প্রকাশ হতে দিতাম না। সেসব আমার হৃদয়ের গভীরতম স্থানে মেহফুজ থাকতো। আরো দীর্ঘদিন থাকবেও হয়তো।

দ্বিতীয় দফা এসপ্রেসো চলছে। গার্লিক মাশরুমে ভয়ঙ্কর লেভেলের সয়া সস দিয়ে সল্টি বানিয়ে রেখেছে, চিজ ব্রেড ছাড়া মুখে দেওয়াই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। কফির সঙ্গে মুখে দিয়ে ব্যালেন্স করার ট্রাই করছিলাম। এমন বিশ্রী স্বাদের গার্লিক মাশরুম আমি জীবনে খুব কম খেয়েছি, একই অভিমত যুবায়েরেরও। ঘড়িতে প্রায় দেড়টা বাজে। ক্যাফে ক্লোজ করার টাইম চলে এসেছে। যুবায়েরের অভিযোগ শেষ হচ্ছে না এখনো। প্রেমিকা যদি ফোনও দেয়, ও কী কী পয়েন্টে ব্রেক আপ করবে, এমন সমস্ত আলাপের মধ্যেই আমাদের ওঠতে বলে গেল রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। ইউফার আজকের ম্যাচ শেষ হলো ১-৪ গোলে বার্সেলোনার হারের মাধ্যমে। এক নজর সেখানে তাকিয়ে বিল দেওয়া হলো। এরপরও প্রায় ২০ মিনিট সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে শুনতে হচ্ছিল “পৃথিবীর কোনো নারীকেই বিশ্বাস করা যায় না, তুই ছাড়া!” যুবায়েরের এসব অভিযোগ ব্রেনে প্রসেস হচ্ছে না, পুরো সিস্টেম জুড়েই “কালকে থেকে আমি চাকরিবিহীন” প্রোগ্রামড হয়ে আছে। বাসায় ফেরার অপশন না থাকাতে যেতে হচ্ছে জেরিন আপার বাসায়। রাতটা একা থাকাও নিরাপদ মনে হচ্ছে না নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যে। যুবায়ের একা যেতে দেবে না। ড্রপ করে দেবে। গাড়িতে ওঠতেই বৃষ্টি নামলো। খুব জোরে না, হালকা, ছিটেফোঁটা। গ্লাসে এসে বিন্দু বিন্দু পানি গড়িয়ে পড়ছে। উইন্ডশিল্ড উইপারগুলো ওঠছে আর নামছে। মৃদুস্বরে বাজছে ব্ল্যাকের “সময় হলো এখন আমার/মুখোমুখি বসবার/বুকের কাছে প্রিয় আগুন/জ্বলে ওঠবার/তোমার সঙ্গে আমি হারিয়ে যাবো/ঘুমের দেশে লুকাবো/বাতাসের দিনে হেঁটে যাবো বহুদূর…।” এ সময় অবশ্য “ছায়ারা সরে যাবে, জানি সূর্য ওঠবে…” বেশি এপ্রোপ্রিয়েট ছিল!

পুরোটা রাস্তায় মোটামোটি চুপচাপ ছিলাম। জেরিন আপার বাসার খুব কাছাকাছি এসে যুবায়ের জিজ্ঞেস করলো, “তোর জ্বর কমছে?” জ্বর!!! আমার!!! কই!!! ও খুব মজা পাওয়ার ভঙ্গীতে হেসে বললো, “তোর ভেতরে ভেতরে জ্বর। ওই ভদ্রলোকের জ্বর। কী যেন নাম? হোয়াটএভার! নিজেই জানোস না! আমরা বলি না, ভেতরে কেমন জ্বর জ্বর লাগতেছে? ওই রকম অবস্থা আর কী তোর। গায়ে ধরলে টের পাওয়া যায় না দেখে লুকাতে পারতেছোস!” ওর সঙ্গে তর্ক করতে ইচ্ছে করলো না। যে যা ভেবে খুশি থাকে, থাকুক! যে জ্বর দেখা যায় না, সে জ্বরে তো আর কারো ক্ষতি হচ্ছে না মনে হয়। থাকলেই কী! বাসার গেটে পোঁছে গেছি। আপা নিচে নামলেন দাঁড়োয়ানকে ঘুম থেকে জাগাতে। যুবায়েরের ফোনটা বাজার আগ পর্যন্ত ও দাঁড়িয়েই ছিল। মোবাইলের স্ক্রিনটা আমার দিকে ঘুরিয়ে দেখালো প্রেমিকার ফোন। যেতে হবে। তড়িঘড়ি গাড়িতে ওঠে স্টার্ট দিলো, আমি আর আপা নিঃশব্দে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালাম। গাড়িটা গলি পেরিয়ে যেতেই আপা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি সারা জীবন সবার ওই ওয়েটিং লিস্টেই থাকবা!”

Comments

    Please login to post comment. Login