একটা দেশের নাম ছিল স্বর্ণভূমি। স্বর্ণভূমির মাটি ছিল সোনা ফলানোর মতো উর্বর, আর দেশের মানুষগুলো ছিল পরিশ্রমী এবং বুদ্ধিমান। কিন্তু যত সময় গড়ালো, স্বর্ণভূমির শাসনভার চলে গেল এক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে। এই গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং ধনসম্পদ লুট করতে শুরু করল বিভিন্ন কৌশলে।
শাসকদের প্রধান কৌশল ছিল এক অদ্ভুত বৃক্ষের মিথ্যা গল্প প্রচার করা। এই গাছটির নাম ছিল "অসীম সমৃদ্ধি বৃক্ষ"। শাসকগোষ্ঠী মানুষকে বোঝাতে লাগল, এই গাছ যত বড় হবে, দেশের মানুষের তত ভালো হবে। কিন্তু আসলে সেই বৃক্ষ ছিল একটা বিষাক্ত লতা, যেটা দেশের মাটিতে শিকড় বিস্তার করে আস্তে আস্তে সমস্ত সম্পদ শুষে নিচ্ছিল।
এই বৃক্ষের যত্ন নিতে, দেশের সাধারণ মানুষকে নানা কর এবং দানে বাধ্য করা হলো। মানুষ আশা করল, একদিন হয়তো এই বৃক্ষের ফল থেকে সমৃদ্ধি আসবে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেল, বৃক্ষ বড় হলো, কিন্তু মানুষ শুধু দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হতে লাগল। শাসকরা তাদের অট্টালিকায় বসে বৃক্ষের ছায়ায় বিলাসিতায় ডুবে থাকল, আর সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন খরা, দুর্ভিক্ষ এবং অভাবে ভুগতে থাকল।
কিছু মানুষ বুঝতে পারল যে, এই বৃক্ষের শিকড় দেশের মাটিকে বিষাক্ত করে তুলছে। তারা প্রতিবাদ শুরু করল, "এই বৃক্ষ কাটতে হবে।" কিন্তু শাসকরা তাদের মিথ্যা আশ্বাস দিতে লাগল, "এই বৃক্ষই দেশের সমৃদ্ধির চাবিকাঠি।" প্রতিবাদকারীদের দমন করতে শাসকরা নানা রকম অত্যাচার চালাল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দেশের আরও বেশি মানুষ চোখ খুলে দেখতে লাগল, এই বৃক্ষ আসলে তাদের সর্বনাশের কারণ।
অবশেষে, একদিন এক সাহসী কৃষক দাঁড়িয়ে বলল, "আমরা যদি সবাই মিলে এই বৃক্ষের শিকড় কেটে ফেলি, তবে আমরা আবার আমাদের মাটি ফিরে পাবো।" সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলো। তারা কুঠার হাতে তুলে নিল এবং শাসকদের ভয়কে উপেক্ষা করে বিষাক্ত বৃক্ষটি কেটে ফেলল।
বৃক্ষের পতনের সাথে সাথে শাসকদের ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ল। দেশের মানুষ আবার নিজেদের ভাগ্য নিজের হাতে তুলে নিল। ধীরে ধীরে, বিষমুক্ত মাটি নতুনভাবে সোনা ফলাতে শুরু করল। এবং মানুষ বুঝল, তাদের দেশ কখনোই একটি বিষাক্ত বৃক্ষের উপর নির্ভর করে সমৃদ্ধ হবে না, বরং তাদের নিজেদের পরিশ্রম এবং সততার মাধ্যমে।
গল্পের শিক্ষা হলো, শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং দুর্নীতি কখনোই একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি আনতে পারে না। সত্যিকারের উন্নয়ন আসে মানুষের শ্রম, সততা, এবং ঐক্য থেকে।