শহরের এক কোণে ছোট্ট একটি বাড়িতে বাস করত মিশু, এক দুষ্টু এবং প্রাণবন্ত পোষা বিড়াল। তার লোম ছিল সাদা ও কালো মিশ্রিত, আর চোখ দুটি ছিল ঝলমলে, যেন রাতের তারার মতো। মিশুর দুষ্টুমি ছিল ব্যাপক, কখনো খেলার ছলে বসার ঘরের কুশন গুলিয়ে ফেলত, আবার কখনো খাবারের প্যাকেট ছিঁড়ে ফেলত। তার মালিক মোত্তাকিন, এক তরুণ লেখক, জানতেন মিশুর এসব কাজের পরিণতি। কিন্তু তারপরেও মিশুর প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমেনি।
মিশু আর মোত্তাকিনের সম্পর্ক ছিল একেবারে আলাদা। মিশু ছিল মোত্তাকিনের অনুপ্রেরণা, যখনই লেখক নতুন গল্পে হারিয়ে যেত, তখন মিশু তার পাশে এসে বসে থাকত, যেন তাকে নতুন কিছু চিন্তা করার জন্য প্রেরণা দেয়। কিন্তু একদিন, মিশু এমন এক রহস্যময় ঘটনার মধ্য দিয়ে গেল, যা তাদের জীবনের পুরো পথটাই বদলে দিল।
গল্পের শুরু
এক সকালে, মিশু তার প্রতিদিনের মতো খেলাধুলা করে বেড়াতে বের হল। তার চঞ্চল স্বভাব তাকে শহরের এক পুরনো অংশে নিয়ে গেল, যেখানে প্রাচীন ভবনগুলো অচেনা আর একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। একটানা খোঁজাখুঁজির পর, মিশু এক ভাঙা জানালার দিকে এগিয়ে গেল এবং একটি পুরনো বইয়ের পৃষ্ঠা পড়ে দেখল। বইটি ছিল অনেক পুরনো, যার পাতায় অদ্ভুত লেখা এবং চিত্র আঁকা ছিল।
মিশু যতটা সম্ভব বইটি খোলার চেষ্টা করছিল, ততটাই অদ্ভুত এক শক্তি বইয়ের মধ্যে থেকে বের হয়ে আসছিল। এই শক্তি শুধু বইয়ের পাতার মধ্যে নয়, পুরো শহরের একটি শক্তিশালী ইতিহাসে লুকানো ছিল। সেই রহস্যময় বইটি মিশুর সামনে এসে গিয়েছিল, যেন তাকে এক নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করার জন্য ইশারা করছে।
অভিযান শুরু
মোত্তাকিন ছিল মিশুর পেছনে। তিনি বুঝতে পারলেন যে মিশু কোনো রহস্য খুঁজে পেয়েছে, কিন্তু এই রহস্যের ভিতরে কী লুকানো ছিল, তা তিনি জানতেন না। মোত্তাকিন দ্রুত মিশুর কাছে গিয়ে জানতে পারলেন, যে বইটি মিশু খুঁজে পেয়েছে, সেটি একটি পুরনো শহরের ইতিহাসের অংশ, যেখানে এক সময় অদ্ভুত ঘটনাবলী ঘটেছিল। বইয়ের পৃষ্ঠায় লেখা ছিল, "যখন এই বইটি খোলা হবে, অতীতের গোপনীয়তা উন্মোচিত হবে।"
মোত্তাকিন জানতেন, এই বইয়ের মধ্যে থাকা ইতিহাস কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধারণ করে। মিশু আর মোত্তাকিন একে একে পুরনো শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে শুরু করল, যেখানে বইয়ের লেখা অনুসারে রহস্য লুকানো ছিল। এভাবেই শুরু হল তাদের অভিযান।
রহস্যময় ঘটনার মুখোমুখি
এখন মিশু শুধু একটি সাধারণ বিড়াল ছিল না, সে ছিল এক অদ্ভুত রহস্যের অংশ। মিশু এবং মোত্তাকিন একে একে সেই শহরের প্রাচীন স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে শুরু করল, এবং সেখানে দেখা মিলল এক অদ্ভুত পোর্টাল, যা তাদের আরও গভীরে টেনে নিল। এই পোর্টালের ভিতর ছিল এক শক্তিশালী গোপনীয়তা, যা বহু বছর ধরে চুপিচুপি শুয়ে ছিল।
মিশু যেন কিছু বুঝে উঠছিল না, কিন্তু তার অদ্ভুত আগ্রহ তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। মিশু আর মোত্তাকিন তাদের অভিযানে সফল হতে থাকল, এবং একসময় তারা সেই গোপন ইতিহাস উন্মোচিত করল। শহরের অতীতের লুকানো সত্য বেরিয়ে এল, আর মিশু তার দুষ্টুমির মাধ্যমে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করল।
শেষ অবধি
মিশু আর মোত্তাকিন অবশেষে তাদের অভিযানে সফল হলো। মিশু বুঝতে পারল, তার দুষ্টুমি আসলে ছিল এক গভীর রহস্যের অংশ, যা তাকে তার মালিকের সাথে ঐতিহাসিক সত্যের সন্ধানে নিয়ে গিয়েছিল। মিশু তার আগের জীবন ছেড়ে এক নতুন পথে এগিয়ে গেল, যেখানে তার দুষ্টুমি ছিল আরও একটি শক্তি, যা ইতিহাসের পাতা থেকে এক নতুন অধ্যায় লিখে ফেলেছিল।