নিজেকে রুমে দেখে জেসমিন বুঝতে পারলেন ইয়ামিন জ্বীন ওকে রুমে রেখে গেছে।
এই বিষয়টা জেসমিন কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে সাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে লাগলেন। স্বপ্ন দেখা জ্বীনকে ভালোবাসবে এটা কখনও ভাবতে পারেনি জেসমিন, ইয়ামিন জ্বীন ওকে ভালোবাসে, জেসমিন ও ইয়ামিনকে পছন্দ করে ভালোবাসে এটা ভেবে জেসমিন সব সময় হাসিখুশি থাকায় আশা জেসমিনকে বললেন।
কিরে আজকে দেখি বেশি খুশি লাগছে কারণ কি।
বান্ধবীর কথার জবাবে জেসমিন বললেন। কই আমিতো রোজ দিনে এরকম থাকি।
আশা" না না আমিতো বুঝি তাইনা, আজ তোকে বেশি খুশি লাগছে, তোর এই খুশির কারণ তোর ঐ জ্বীন তাইনা।
জেসমিন" সেরকমি মনে কর।
আশা" দেখিস তোর হাসি মুখের কারণ জ্বীনটা না জানি একদিন কষ্টর কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
জেসমিন" এমনটা বলিসনা৷ ইয়ামিন জ্বীন হলেও খারাপ না। তোর মাথায় খালি সব সময় খারাপ চিন্তা।
আশা" খারাপ চিন্তা না, আমার ফুফুকে একবার জ্বীনে ধরছিলো আমি তখন বুঝেছি জ্বীনেরা কতটা ভয়ংকর ও খারাপ হয়।
জেসমিন" সবাই খারাপ হয়না বুঝলি। এসব বাদদে, আপুর তো বিয়ে হয়ে গেলো, আমি বাড়িতে যাবো কবে।
আশা" বাড়িতে গিয়ে কি করবি। কালকেই তো বিয়ে হলো। আপুকে নিয়ে আসি, বাড়ি থেকে আত্মীয় স্বজনরা চলে যাক তারপর তুই যাবি।
আশায় কথায় জেসমিন ও তেমনটা জোড়াজুড়ি করলেন না কেননা এখানে থাকলে ইয়ামিন জ্বীনের সাথে দেখা করতে পারবে কথা বলতে পারবে, বাড়িতে গেলে সেই সুযোগ হবে কিনা কে জানে।
যাইহোক,
জেসমিন সব সময় অপেক্ষা করতো রাতের জন্য কারণ রাতের বেলা ইয়ামিন তাঁর সাথে দেখা করে কথা বলে।
রোজ রাতের মত সেই রাতেও তাঁর ব্যাতিক্রম হলেন না। ইয়ামিন জ্বীন দেখা করলেন জেসমিনের সাথে।
দুজনের দেখা হতেই ইয়ামিন বললেন।
কেমন আছো।
জেসমিন" আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, তুমি কেমন আছো।
ইয়ামিন " আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তোমার জন্য এটা নিয়ে আসছি, এটা একটা ফল খেতে অনেক মজা খেয়ে দেখো।
ইয়ামিনের কথায় জেসমিন প্রথমে সেটা খেতে না চাইলেও পরে একটু মুখে নিয়ে বুঝতে পারেন আসলেই এই ফলটার স্বাদ অন্য রকম। এরকম মিষ্টি ফল আগে কখনও সে খায়নি।
ইয়ামিনের নিয়ে আসা ফলটা খেতে খেতে জেসমিন ইয়ামিনের দিকে তাকিয়ে বললেন৷
আচ্ছা তুমি থাকো কোথায়, জ্বীনেরা কি মানুষদের দুনিয়াতে থাকে নাকি৷
ইয়ামিন " না আমাদের জ্বীন রাজ্য আছে, জ্বীনেরা সেখানেই থাকে, তবে কিছু কিছু জ্বীন মানুষদের দুনিয়াতে মানে গাছ, পুরুনো বাড়ি, শশ্নান, পুরুনো কবরস্থান এগুলাতে থাকে। আমি আমার রাজ্যে থাকি, মাঝে মধ্যে আসি তোমাদের দুনিয়াতে।
জেসমিন" ওহহহ, তোমার মা বাবা নেই।
ইয়ামিন" হ্যাঁ আছেন৷ মা বাবা ছাড়াও পরিবারে আরো সদস্য আছে সময় করে তোমাকে একদিন পরিচয় করাই দিবো সবার সাথে।
জেসমিন" তাই নাকি, আমাকে জ্বীন রাজ্যে নিয়ে যাবে।
ইয়ামিন" হ্যাঁ নিয়ে যাবো, তুমি যেতে চাইলে বা অনুমতি দিলে।
জেসমিন" আমার না ভয় করে, যদি কিছু হয়।
ইয়ামিন" কি আবার হবে কিছুই হবেনা। জেসমিন তোমাকে একটা কথা বলি।
ইয়ামিনের কথায় জেসমিন বললেন কি কথা বলো। তখন ইয়ামিন বললেন, আমিতো তোমাকে অনেক পছন্দ করি ভালোবাসি, তুমিও আমাকে পছন্দ করো জানি, চলো আমরা বিয়ে করে ফেলি।
বিয়ের কথা শুনে জেসমিন অবাক হয়ে বললেন, এখনি বিয়ে করতে হবে, ইয়ামিন আরো সময় যেতে দাও আমাদের মাঝে ভালোলাগা বা সর্ম্পক আরো গভীর হোক তারপর না হয় ভাবা যাবে এসব৷
জেসমিনের কথা শুনে ইয়ামিন বললেন, ঠিক আছে তুমি যা বলবা তাই হবে। আমিতো জ্বীন আমি চাইলে জোর করে বিয়ে করতে পারি, কিন্তু তোমাকে কষ্ট দিয়ে কিছু করবোনা, তুমি মন থেকে রাজি হলে তখন তোমাকে বিয়ে করবো।
জেসমিন" আচ্ছা এখন তাহলে বাড়িতে চলে যাই, রাত অনেক হইছে আশা নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছে, ও জেগে আমাকে পাশে না দেখলে আবার চিন্তা করবে।
কথাটা বলে ইয়ামিনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জেসমিন রুমে চলে গেলেন।
সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে জেসমিন বাহিরে গিয়েছিলেন ইয়ামিন জ্বীনের সাথে দেখা ও কথা বলতে। ওর সাথে কথা বলা শেষে আবারো রুমে এসে দেখলেন আশা ঘুমাচ্ছে, এই দেখে জেসমিন মনে মনে ভাবলেন, ভালোই হলো আশা ঘুমাচ্ছে কিছু বুঝতে পারেনি৷ এই বলে ও যখনি ঘুমাতে যাবে। ঠিক তখনি আশা চোখ খুলে বললেন৷
আশা" কিহ ভেবেছিস আমি ঘুমাইছি। আমি ঘুমের ভান করে ছিলাম, সুধু তাই না আমি তোকে ফলো করছিলাম আমি সব দেখেছি তুই জঙ্গলে ঐ জ্বীনটার সাথে কথা বলছিস। জেসমিন তোকে এত করে সাবধান করার পর ও জ্বীনটার সাথে কথা বলিস দেখা করিস। আমি কালকেই তোর মা বাবাকে বলে দিবো। কথাটা বলে ঘুমিয়ে পড়লেন আশা।
তারপর _____