চলতি বছরের আর্থার সি. ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ব্রিটিশ লেখক ই. জে. সুইফট। ১২ আগস্ট ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের বিজয়ী লেখকের নাম ঘোষণা করা হয়।
‘হোয়েন দেয়ার আর উলভস এগেইন’ উপন্যাসের জন্য যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক এই পুরস্কার পান সুইফট। বইটি গত বছরের অক্টোবরে আর্কেডিয়া বুকস থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ভবিষ্যৎ ব্রিটেনের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু সংকট, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি আশাবাদের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি ইকো ফিকশন বা পরিবেশভিত্তিক কল্পকাহিনি।
এই উপন্যাসে অ্যাক্টিভিস্ট লুসি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হেস্টারের কয়েক দশকব্যাপী যাত্রার কথা তুলে ধরা হয়েছে। কোভিড লকডাউনের সময়ে বেড়ে ওঠা লুসি জলবায়ু বিষয়ক আন্দোলনে এবং ব্রিটেনের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের প্রচারণায় জড়িয়ে পড়েন। অপরদিকে হেস্টার একজন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা, যার জীবন চেরনোবিল বিপর্যয়ের ঘটনায় গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০৭০ সালে এসে তাদের ভিন্ন ভিন্ন যাত্রাপথ এক বিন্দুতে মিলিত হয়। এই দুই নারী জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ প্রভাব কাটিয়ে ওঠার পক্ষে কাজ করে যান।
ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ডের পরিচালক টম হান্টার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হোয়েন দেয়ার আর উলভস এগেইন বইটি জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখে দীর্ঘমেয়াদী আশার এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী অন্বেষণ। সায়েন্স ফিকশন যখন তার সবচেয়ে শক্তিশালী রূপে ধরা দেয়, তখন তা ভবিষ্যৎবাণী করার বিষয় হয়ে ওঠে না। বরং তা আমাদের দেখায় যে, কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎই অনিবার্য নয়।’ বইটি এর আগে ‘ব্রিটিশ সায়েন্স ফিকশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর সেরা উপন্যাসের পুরস্কার জয় করেছিল।
উল্লেখ্য, আর্থার সি. ক্লার্ক সায়েন্স ফিকশন জনরার সবচেয়ে বিখ্যাত লেখকদের একজন। এই পুরস্কারটি ১৯৮৭ সালে তার অনুদানে চালু হয়। এটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে সম্মানজনক সায়েন্স ফিকশন পুরস্কার। যুক্তরাজ্যে প্রথম প্রকাশিত সেরা সায়েন্স ফিকশনকে প্রতি বছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রথম পুরস্কার বিজয়ী ছিলেন কানাডিয়ান লেখক মার্গারেট অ্যাটউড। তিনি 'দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল' উপন্যাসের জন্য এ পুরস্কার পান।