২০২৬ সালের কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশি লেখক আনমনা মনীষিতা এবং সাজিদ উল হক আবির। এই সংক্ষিপ্ত তালিকার জন্য বিশ্বের ৭ হাজার ৮০৬ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ২৫ জন লেখককে বেছে নেওয়া হয়েছে।
২৬ বছর বয়সী আনমনা মনীষিতা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এবং ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের সম্পাদকীয় সহকারী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। তার ছোটোগল্পের নাম, ‘এ ম্যাসকুলিন ফেস্ট’।
এই ছোটোগল্পটি ১৯৫০ এর দশকের পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রেক্ষাপটে লেখা। গল্পটি একজন তরুণী বাঙালি মুসলিম নারীর নারীত্বের অপ্রত্যাশিত বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে চলার কাহিনী।
৩৩ বছর বয়সী সাজিদ উল হক আবির ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা আবির একজন কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক। তিনি 'কালি ও কলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার' পেয়েছেন। তিনি এ পর্যন্ত ১১টি বই লিখেছেন।
আবিরের ছোটোগল্পের নাম, ‘মফিজের রিলেশনে স্পার্ক নাই’। এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অরুণাভ সিনহা ও শবনম নাদিয়া। দরিদ্র মফিজের স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের জটিলতা, ভাঙন এবং প্রাণ ও পরিবেশ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গল্পের কাহিনী।
এদিকে কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কারের এশিয়া অঞ্চলের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ মে এবং জুনের শেষ দিকে সামগ্রিকভাবে বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। গত বছর এশিয়া অঞ্চল থেকে বিজয়ী হন বাংলাদেশের লেখক ফারিয়া বাশার। প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি লেখক এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কারের আঞ্চলিক পর্যায়ে জয়ী হন।
উল্লেখ্য, কমনওয়েলথভুক্ত ৫টি অঞ্চলের দেশগুলোর লেখকদের অপ্রকাশিত ছোটগল্পের জন্য বার্ষিক এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য লেখাগুলো গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১ নভেম্বর অনলাইনে জমা নেওয়া হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় পাঁচজন আঞ্চলিক বিজয়ী নির্বাচিত হন। এদের মধ্যে একজনকে সামগ্রিক বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং পুরস্কার হিসেবে তিনি পাবেন ৫ হাজার পাউন্ড। বাকি চারজনের প্রত্যেককে আড়াই হাজার পাউন্ড দেওয়া হবে।