কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিতর্ককে কেন্দ্র করে কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার বিজয়ীদের লেখা এখন থেকে আর প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা গ্র্যান্টা। এ বছরের কিছু আঞ্চলিক বিজয়ী এআই ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠার পর এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকাটি।
সম্প্রতি প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ানে দেওয়া এক বিবৃতিতে গ্র্যান্টা জানিয়েছে, তারা আর এমন কোনো বাহ্যিক প্রকাশনা অংশীদারিত্বে জড়িত থাকবে না, যেখানে তাদের কোনো সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ নেই।
বিবৃতিতে গ্র্যান্টা বলেছে, ‘কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার ২০২৬ সালের আঞ্চলিক বিজয়ী নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এক বা একাধিক গল্প অন্তত আংশিকভাবে এআই ব্যবহার করে লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আমাদের নিজস্ব সম্পাদকীয় সততার স্বার্থে গ্র্যান্টা ট্রাস্টি বোর্ড এখন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আমরা আর কোনো বাহ্যিক প্রকাশনা অংশীদারিত্বে যুক্ত থাকব না।'
মে মাসে কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশন চলতি বছরের পাঁচজন আঞ্চলিক বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। এরপর তাদের গল্পগুলো গ্র্যান্টাতে প্রকাশিত হয়। কিন্তু এগুলো প্রকাশিত হওয়ার পরপরই অনলাইনে বেশ কয়েকজন লেখক ও পাঠক দাবি করেন, ছোটগল্পগুলোর কয়েকটিতে এআই ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশেষ করে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিজয়ী ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর লেখক জামির নাজিরের ‘দ্য সার্পেন্ট ইন দ্য গ্রোভ’ কে নিয়ে মূল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সমালোচক এবং এআই শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম প্যানগ্রামের দাবি, গল্পটিতে এআই ব্যবহারের সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। লেখায় সন্দেহজনক কাঠামো এবং বার বার একই ধরনের রূপক ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এছাড়া কানাডা এবং ইউরোপ অঞ্চলের বিজয়ী মাল্টার লেখক জন এডওয়ার্ড ডিমিকোলির ‘দ্য ব্যাস্টিয়নস শ্যাডো’ গল্পটিতেও এআই ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জামির নাজির এই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি মে মাসের শেষের দিকে ইমেইলের মাধ্যমে অবজারভার পত্রিকাকে বলেছেন, ‘আমার লেখার প্রক্রিয়াটি একটু অন্যরকম। এটি সম্পূর্ণভাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে একটানা ডেস্কে বসে টাইপ করা আমরা পক্ষে অসম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই আমি আমার লেখার জন্য স্পিচ-টু-টেক্সটের ওপর নির্ভর করি এবং এরপর একই স্পিচ-টু-টেক্সট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সামান্য কিবোর্ড সম্পাদনা করি। আমি পেশাগত জীবনে এবং কমনওয়েলথ প্রতিযোগিতার জন্য আমার গল্পটি তৈরি করতেও এটি ব্যবহার করেছি।'
উল্লেখ্য, বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্র্যান্টা তাদের ওয়েবসাইটে কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার বিজয়ীদের গল্পগুলো প্রকাশ করে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে এআই বিতর্কের জেরে তারা আর কোনো গল্প প্রকাশ করবে না। গ্র্যান্টার এই পদক্ষেপ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি কমনওয়েলথ পুরস্কার কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান