ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদির ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থ্রিলার এবং সায়েন্স ফিকশনের লেখকদের মতো গতানুগতিক ধারার বা ফর্মুলা নির্ভর লেখকদের জন্য কিছুটা হুমকি হতে পারে। তবে সিরিয়াস উপন্যাসিকদের চ্যালেঞ্জ করার জন্য যে মৌলিকতা এবং হাস্যরসের দরকার এআই এর মধ্যে তার ঘাটতি রয়েছে।
ফরাসি সাহিত্য জার্নাল La Nouvelle Revue Francaise (NRF) এ প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে রুশদি লিখেছেন, ‘আমি চ্যাটজিপিটিকে আমার স্টাইলে ২০০ শব্দ লিখতে বলে পরীক্ষা করে দেখেছি। চ্যাটজিপিটির লেখাটি ছাইপাঁশ ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’
বুকারজয়ী এই লেখক বলেছেন, ‘জেনারেটিভ এআই রাইটিং টুলসগুলো ফর্মুলা লেখকদের জন্য হুমকি হতে পারে। সমস্যা হলো এই জিনিসগুলো যেকোনো কিছু খুব দ্রুত শিখে যায়। এটি থ্রিলার এবং সায়েন্স ফিকশনের মতো সাহিত্যের লেখকদের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে, যেখানে মৌলিকতা কম গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিনেমা এবং টিভির জন্য যারা চিত্রনাট্য লেখেন, তাদের জন্য এই হুমকি তীব্র হতে পারে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘হলিউড ক্রমাগত একই চলচ্চিত্রের নতুন সংস্করণ তৈরি করছে। এক্ষেত্রে এআই চিত্রনাট্য তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।’ চ্যাটজিপিটির দক্ষতা সম্পর্কে রুশদির রায় কঠোর ছিল। তার মতে এতে কোন মৌলিকতা নেই এবং আপাতদৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণরূপে হাস্যরসের অনুভূতি বর্জিত।
উল্লেখ্য, সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাসের জন্য বুকার প্রাইজ জিতেছেন। এটি তার দ্বিতীয় উপন্যাস ছিল। রুশদির অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো, ‘শালিমার দ্য ক্লাউন’, ‘দ্য গোল্ডেন হাউস’, ‘ভিক্টরি সিটি’, ‘শেম’।
সূত্র: এএফপি