আরিয়ান হতভম্ব হয়ে গ্রিল আঁকড়ে ধরল। "তার মানে... মায়া কোথায়? আপনি কী করেছেন মায়ার সাথে?"
ড. সায়ান নিচু গলায় বললেন, "মায়া একদম সুরক্ষিত আছে, আরিয়ান। আসলে মায়াই আমার কাছে এসেছিল আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে। সে বলছিল আপনি নাকি ইদানিং খুব হিংস্র হয়ে উঠছেন। তখন আমি আর মায়া মিলে একটা খেলা সাজালাম। উদ্দেশ্য ছিল আপনাকে পাগল প্রমাণ করে আপনার কোটি টাকার সম্পত্তি ও বইয়ের সমস্ত রয়্যালিটি নিজেদের নামে করে নেওয়া।"
সায়ানের মুখে একটা নিষ্ঠুর হাসি ফুটে উঠল। "আপনার স্মৃতিভ্রমের ড্রাগ আমিই আপনাকে থেরাপির নামে খাওয়াচ্ছিলাম। আয়নায় লেখা, রক্তের দাগ, পেছনের লেকে প্রমাণের নাটক—সবকিছুই আমার আর মায়ার সাজানো প্ল্যান!"
আরিয়ান স্তব্ধ হয়ে শুনছিল। তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত দুজন মানুষ তার সাথে এই জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতা করেছে!
"কিন্তু ডক্টর," আরিয়ান হঠাৎ খুব শান্ত গলায় বলল, "আপনি একটা বড় ভুল করে ফেলেছেন।"
সায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। "কীসের ভুল?"
আরিয়ান পকেট থেকে বের করল একটা ছোট ব্লুটুথ ডিভাইস, যা তার শার্টের বোতামের সাথে লুকানো ছিল।
"আপনি হয়তো ভুলে গেছেন, আমি শুধু গল্প লিখিই না... গল্পে কীভাবে ফাঁদ পাততে হয় সেটাও আমি ভালো জানি।" আরিয়ান ঠান্ডা হেসে বলল। "গত তিন মাস ধরে আমার মনে সন্দেহ ছিল। তাই আজ সকালে পুলিশ যখন আমাকে ধরে আনে, আমি ইচ্ছা করেই লাইভ ভয়েস ট্রান্সমিটারটা চালু রেখেছিলাম। আর এখন আপনার পুরো স্বীকারোক্তি সরাসরি থানার কন্ট্রোল রুমে রেকর্ড হচ্ছে!"
ঠিক তখনই করিডোরের লাইটগুলো জ্বলে উঠল। পিছন থেকে হেঁটে এলেন ইন্সপেক্টর রফিক এবং তাঁর সাথে পুলিশ দল। রফিকের হাতে একটা অডিও রিসিভার স্পিকার জ্বলজ্বল করছে।
সায়ানের মুখ নিমেষেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে পেছাতে গিয়ে পুলিশের মুখোমুখি পড়ে গেল।
"দারুণ অভিনয় করলেন, ডক্টর সায়ান!" ইন্সপেক্টর রফিক হাতকড়া বের করে সায়ানের হাতে পরাতে পরাতে বললেন। "আমরা ইতিমধ্যেই মায়াকে শহরের বাইরের একটা গোপন ফ্ল্যাট থেকে আটক করেছি। সে সবই স্বীকার করেছে।"
সায়ান বিশ্বাসই করতে পারছিল না তার সব পরিকল্পনা এভাবে ভেস্তে গেল।
আরিয়ান লকআপের ভেতর থেকে সায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, "আপনার প্ল্যানটা বেশ ভালো ছিল, ডক্টর। কিন্তু কাঁচের মানুষ বাইরে থেকে যতই স্বচ্ছ দেখাক না কেন, ভেতরে আঘাত করলে সে নিজেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।"
তিন মাস পর...
বইয়ের দোকানে ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্মচারীরা। আরিয়ান চৌধুরীর নতুন উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। উপন্যাসের প্রচ্ছদে লেখা—"কাঁচের মানুষ"।
বইটি রাতারাতি অল-টাইম বেস্টসেলার। কারণ পাঠকরা জানে, এই গল্পের প্রতিটি শব্দ কাল্পনিক নয়... রক্ত আর বাস্তব অভিজ্ঞতায় লেখা।
(সমাপ্ত)