বাসে উঠে রহমত সাহেব পকেটে হাত দিয়ে থমকে গেলেন। মানিব্যাগ নেই। ফোন নেই। বাসের টিকিটের খুচরো পয়সাটুকুও নেই। রহমত সাহেব মাথায় হাত দিলেন। বাস থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বললেন,
"ঠিক আছে। দুইশো বছর গেলে নিরাপদে যাক। তবে সেখান থেকে ফেরার সময় আমার মানিব্যাগটা আর ফোন ফেরত দিয়ে গেলেই হবে।"
তারপর হঠাৎ মনে হলো ঘটনাটা কিন্তু দারুণ হয়েছে। বাসা পৌঁছতে পৌঁছতে রাত সাড়ে নয়টা। ইমতিয়াজ দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল।
"বাবা, আজ গল্প বলবে তো?"
"বলব।"
"কীসের গল্প?"
রহমত সাহেব শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বললেন,
"একজন সময়-চোরের গল্প। মানে এমন একজনের গল্প, যে অতীত-ভবিষ্যতে ঘুরে বেড়ায়, আর সঙ্গে মানুষের পকেটও মেরে বেড়ায়।"
ইমতিয়াজ হাঁ করে তাকিয়ে রইল।
"সত্যি গল্প বাবা?"
রহমত সাহেব একটু থামলেন। তারপর বললেন,
"হ্যাঁ বাবা। একদম সত্যি। আজই হয়েছে।"
ইমতিয়াজ চিৎকার করে মাকে ডাকল,
"আম্মু! বাবা আজ সত্যি গল্প বলবে!"
রান্নাঘর থেকে ইমতিয়াজের মা বললেন,
"তোমার বাবার সব গল্পই সত্যি। এটা আরেক গল্প।"
রহমত সাহেব চুপ করে থাকলেন। কারণ একটা বিষয়ে তাঁর মনে সামান্য সংশয় ছিল। লোকটা কি সত্যিই সময়-পর্যটক ছিল, নাকি নিছক একজন চতুর গল্পকার যে পকেট মারার আগে শ্রোতাকে গল্পে ডুবিয়ে দেয়? রহমত সাহেব ঠিক করতে পারলেন না। তবে একটা কথা স্বীকার করতেই হবে ওই মানিব্যাগের দাম যাই হোক না কেন, আজকের সন্ধ্যাটার দাম তার চেয়ে অনেক বেশি।