অন্ধকার ঘর। এক কোণে হাঁটু মুড়ে বসে আছে মেহরিন। তার চোখে জল শুকিয়ে গেছে। কাল রাতে তাকে তুলে আনা হয়েছে চৌধুরী বাড়িতে।
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো আদ্রিয়ান চৌধুরী। পুরো ঢাকা শহর যাকে ভয় পায়। তার হাতে একটা চাবির রিং। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।
"কি ভেবেছিলি? আমার থেকে পালিয়ে বাঁচবি?" - ঠান্ডা গলায় বলল আদ্রিয়ান।
মেহরিন কাঁপা গলায় বলল, "আমাকে যেতে দিন! আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি?"
আদ্রিয়ান হাঁটু গেড়ে বসলো মেহরিনের সামনে। মেহরিনের মুখটা শক্ত করে ধরলো।
"ক্ষতি? তুই আমার হৃদয়ে ক্ষত করেছিস! সেই ছোটবেলায় আমাকে ফেলে চলে গিয়েছিলি! আর সেই ক্ষতের শাস্তি হলো - তুই আজীবন এই চৌধুরী বাড়ির অন্তঃপুরে বন্দিনী হয়ে থাকবি! আমার শিকলবন্দী প্রেম হয়ে!"
মেহরিন চিৎকার করে উঠলো, "আমি আপনাকে ভালোবাসি না! ছাড়ুন আমাকে!"
আদ্রিয়ান হাসলো, ভয়ংকর সেই হাসি।
"ভালোবাসতে হবে না। শুধু আমার হয়ে থাকলেই হবে। ভালোবাসা আমি আদায় করে নেব। প্রতিটা নিঃশ্বাসে।"
বলেই সে পকেট থেকে একটা ছোট বক্স বের করলো। ভেতরে একটা ডায়মন্ডের নুপুর।
"আজ থেকে তুই কোথাও যেতে পারবি না। এই নুপুর তোর পায়ে থাকবে। এর শব্দ আমাকে মনে করিয়ে দেবে তুই আছিস। আমার কাছেই আছিস।"
মেহরিনের পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল।
চলবে...