ডায়মন্ডের নুপুরটা আলোতে ঝিলিক দিয়ে উঠলো।
মেহরিন দু পা পিছিয়ে গেল। "না! আমি পরবো না! কিছুতেই না!"
আদ্রিয়ান চৌধুরী এক পা, এক পা করে এগিয়ে আসছে। তার চোখে সেই পাগল করা অধিকারবোধ।
"তোর না বলার সাহস কবে থেকে হলো, মেহরিন?"
এক টানে সে মেহরিনের পা নিজের হাঁটুর ওপর তুলে নিলো। মেহরিন ছটফট করছে, কিন্তু পুরো ঢাকা শহর যাকে ভয় পায়, তার শক্তির সাথে সে পারবে কেন?
ঠান্ডা ডায়মন্ড মেহরিনের নরম পা স্পর্শ করতেই সে কেঁপে উঠলো। ক্লিক করে আটকে গেল নুপুর।
"এখন থেকে তুই হাঁটবি, আর এর শব্দে আমি বুঝবো তুই আমার সীমানার মধ্যেই আছিস।"
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বললো, "আপনি কেন এমন করছেন? আমি তো আপনাকে ছেড়ে যাইনি, আপনিই তো..."
"চুপ!" আদ্রিয়ান চিৎকার করে উঠলো। তার চোখ লাল হয়ে গেছে।
"ছোটবেলায় তুই আমাকে কথা দিয়েছিলি, তুই শুধু আমার হবি! তারপর তোর বাবা তোকে নিয়ে রাতারাতি এই শহর ছেড়ে পালালো! ১৫ বছর! ১৫ বছর আমি তোকে পাগলের মতো খুঁজেছি!"
মেহরিন স্তব্ধ। তার মনে পড়লো, ছোটবেলার সেই আদ্রিয়ান ভাইয়া, যে তাকে চকলেট এনে দিতো।
"তুমি... তুমি সেই আদ্রিয়ান ভাইয়া?"
আদ্রিয়ান মেহরিনের গাল শক্ত করে ধরলো।
"ভাইয়া না। এখন থেকে শুধু আদ্রিয়ান। তোর আদ্রিয়ান। আর তুই আমার শিকলবন্দী প্রেম।"
বলেই সে মেহরিনকে কোলে তুলে নিলো। মেহরিনের পায়ের নুপুরটা রিনঝিন করে বেজে উঠলো। সেই শব্দে যেন পুরো চৌধুরী বাড়ি কেঁপে উঠলো।
মেহরিন বুঝে গেল, এই শিকল থেকে তার আর মুক্তি নেই।
*চলবে...*
---