Posts

উপন্যাস

ত্রি-রমনী (পরিচ্ছেদ ০৬)

July 3, 2025

M. Khanam

25
View

অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মারজিয়া। পেছন থেকে সবুজ রঙয়ের অপারেশন থিয়েটারের জামা পরিহিত এক মধ্যবয়স্ক পুরুষ সার্জন এসে মারজিয়ার কাধে হালকা বারি দিল। মৃদু হেসে, গুড জব— বলতে বলতে হেসে চলে গেল। মারজিয়াও তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। 

ঘাড়ের উপর নীচু করে তার লম্বা সোজা চুলগুলো বাঁধা। চোখের উপর সামান্য আইলাইনার দিয়ে চিকন দাগ টানা আর ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিপ। বাম নাকের উপর থাকা ডায়মন্ডের সাদা নাকফুলটা চকচক করছে। হালকা সাদা-গোলাপি থ্রিপিচ পরনে তার। বড় একখানা রুমে চেয়ারে বসে টেবিলের উপর থাকা মনিটরে কিছু রিপোর্ট দেখছে আর সামনে খুলে রাখা বই-ফাইল দেখছে। 

সাদা এপ্রোন পরা এক লোক ভেতরে এসে মারজিয়ার পাশে দাঁড়াল। হেসে বলল, আই ওয়াজ ওয়াচিং ইউ৷ ভেরি ফাইন জব—এজ এলউয়েজ। 

মারজিয়া ফাইল থেকে চোখ না সড়িয়ে বলে, হুম। 

মারজিয়াকে উপর থেকে নীচে দেখতে দেখতে লোকটি বলে, আমি দশ বছর যাবত এই হসপিটালে আছি, আজ পর্যন্ত তোমার মত একজন ডাক্তার আমি দেখি নি। কিভাবে পারো বলো তো! 

মারজিয়া লোকটির দিকে তাকায়। গম্ভীর কণ্ঠে বলে, সাকিব, আপনি কি আমাকে কিছু বলতে চান?

সাকিব হাসে। দ্যাটস হোয়াট আই লাইক এবাউট স্মার্ট উইমেন! তোমাদের বুঝাতে হয় না, ইশারাই যথেষ্ট। একটু থেমে মারজিয়ার মুখের উপর উড়তে থাকা চুলগুলোর দিকে তাকায়। সেগুলো সড়ানো জন্য হাত এগিয়ে আনতেই মারজিয়া মাথা সড়িয়ে ফেলে। সাকিব শব্দ করে হাসে। এত বছর যাবত তুমি এখানে আছো, আই নো ইউ ভেরি ওয়েল, মারজিয়া! হাতটা নীচে নামাতে নামাতে বলে, ইউ আর নট গেটিং এনি ইয়াংগার! এই বয়সে যে পুরুষই তোমাকে বিয়ে করতে চাইবে তারা হয় কোনো দুই বাচ্চার বাবা নাহয় কোনো লোভী ব্যক্তি। খানিকটা থেমে মারজিয়ার চোখে চোখ রেখে মিষ্টি একখানা হাসি দিয়ে বলে, আমার সবসময়ই তোমার প্রতি একটা এট্রাকশন কাজ করত। তাই কেননা আমরা—সাকিবকে কথাটা আর শেষ করতে দেয় না মারজিয়া৷ 

আমি আপনাকে চারবার স্টোর রুমে ভিন্ন ভিন্ন নার্সদের সাথে দেখেছি। এছাড়া আমার জানা মতে আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার ডিভোর্স এখনও ফাইনাল হয় নি। হয়ত আরও একটা ক্যাটাগরি ওই লিস্টে যুক্ত করতে পারেন—কণ্ঠে খানিকটা রাগভাব এনে বলে, ছ্যাছড়া ব্যাটা। রাগান্বিত চোখে সাকিবের দিকে তাকিয়ে থাকে মারজিয়া৷ 

সাকিব শব্দ করে হাসে। হাহাহা, ইউ উইমেন টেইক সেক্স টু সিরিয়াসলি! পুরুষদের ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন না। সেক্স হচ্ছে আমাদের জন্য প্রসাবের মত। মন চাইল, গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে করে এলাম! অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে বলে, তোমার মত একজন ইন্টেলিজেন্ট মেয়ে যে সেক্সকে এতটা গুরুত্ব দিবে, বিষয়টা আশ্চর্যজনক!

হিলের মৃদু আওয়াজ করে রুমের ভেতরে ঢোকে জারিন। পরনে তার সবুজ স্ক্রাব।। মারজিয়ার কাছে এগিয়ে আসে। বলে, আমি যে রিপোর্টটা পাঠিয়েছিলাম দেখেছিলে?

টেবিল থেকে একটা ফাইলটা নিয়ে তার হাতে দেয় মারজিয়া। গম্ভীরকণ্ঠে বলে, এই মুহুর্তে অপারেশন করানোটা বেশ রিস্কি। 

আমিও তাই ভাবছিলাম। তাহলে কাল একটু সময় বের করো, ডীনের সাথে কথা বলি এ ব্যাপারে। মারজিয়া মাথা নাড়ে। ফাইলটা হাতে নিয়ে চলে যেতে থাকে সে। 

মারজিয়ার টেবিলের পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে তাদের কথা শুনছিলো সাকিব। জারিন চলে যাওয়ার সময় হাসিমুখে বলে, টেইক কেয়ার, জারিন।

জারিন ঘুরে সাকিবের দিকে তাকায়। একখানা হাসি দিয়ে বলে, ওহ, ডক্টর সাকিব। গতকালই একখানা মুভি দেখতে দেখতে আপনার কথা মনে পড়ল। থ্রি ইডিয়টস—দেখেছেন এটা?

এটা তো বেশ পপুলার সিনেমা। দেখেছি তো! 

জারিন হাসে। বলে, এই সিনেমাতে একটা মজাদার বিষয় দেখিয়েছিল—

কোনটা? স্পীচের সীনটা? শব্দ করে হাসতে হাসতে বলে, স্তন?

নাহ। গম্ভীরকণ্ঠে বলে, যেখানে সেখানে প্রসাব করা পুরুষদের জেনেটেলিয়া বরাবর ইলেকট্রিক শক দেওয়াটা। সাকিব চুপ করে তাকিয়ে থাকে। কথাটা বুঝার মত বুদ্ধি তার আছে। হাসি বন্ধ করে দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে যায় সে। 

জারিন ঘুরে মারজিয়ার দিকে তাকায়। মারজিয়া মনোযোগ সহকারে একখানা রিপোর্ট দেখছে। এ পৃথিবীর কিছুই তাকে বিচলিত করে না৷ বিচলিত না হওয়ার এক অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে মারজিয়া হোসাইন। মুচকি হেসে রুম থেকে বেড়িয়ে আসে জারিন। 

কিছুক্ষণ বাদে উসমান রুমের দরজায় এসে নক করে। মারজিয়া ঘুরে তার দিকে তাকায়। তার চোখে চোখ পড়তেই উসমানের গলা শুকিয়ে আসে। ভয়ে ভয়ে বলে, ম্যাডাম, রিসেপশনে একজন লোক এসেছে। আপনার সাথে দেখা করতে চাচ্ছে। আপনার পরিচিত বলল।

হাসপাতালটা চারকোনা, খানিকটা শপিং মলের মত দেখতে। করিডোরে দাড়ালে পুরো নীচতলাটা দেখা যায়। নিউরোসার্জারি ডিপার্টমেন্ট চারতলায়। মারজিয়া করিডোরে দাঁড়িয়ে  নীচে তাকায়। রিসেপশনের পাশে জাকিকে দাঁড়িয়ে  থাকতে দেখে সে। নীচ থেকে জাকিও তাকে দেখে। 

চারতলার করিডোরে দাঁড়িয়ে  আছে বেশ কয়েকজন ডাক্তার ও নার্সরা। তাদের কয়েকজন সবুজ পোষাকে, সদ্য অপারেশন থিয়েটার থেকে বেড়িয়েছে। সবাই নীচে তাকিয়ে জাকি আর মারজিয়াকে দেখছে। একজন সাদা এপ্রোণ পরা মহিলা ডাক্তার বলে, এই প্রথম কোনো পুরুষ মানুষ ওর সাথে দেখা করতে এসেছে। 

জারিনকেও দাঁড়িয়ে  থাকতে দেখা যায়। তার চোখগুলো এক নজরে জাকির দিকে তাকিয়ে আছে। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত পরখে পরখে দেখতে থাকে। নিজের কেবিনে ঘুমাচ্ছিলো সে। স্টাফরা তাকে ডেকে নিয়ে এসেছে এই বিরল দৃশ্য দেখার জন্য। তার ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে আছে উসমান। বলে, এভাবে কি দেখছো?

খানিকটা ঘাড় বেঁকিয়ে জাকির দিকে তাকিয়ে থাকে জারিন। বিস্ময়ের সুরে বলে, এই হারকিউলিসকে কোথা থেকে ধরে আনছে ও?! 

উসমান সামনে তাকিয়ে একটু চিন্তিত চোখে জাকিকে দেখে। মনে মনে ভাবে, কেন নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছিস, ভাই! তুই হারকিউলিস হ বা বাদশা আকবর, এই মহিলার সামনে কুত্তা পরিমানও ইজ্জত থাকবে না তোর!

মারজিয়া আর জাকি হাসপাতালের ক্যাফেতে সামনাসামনি বসে আছে। আসেপাশে আরও অনেক ডাক্তাররা এপ্রোণ পরে ঘুরছে। অনেকেই যাওয়ার সময় মারজিয়াকে দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছে। বিস্ময়ের চোখে জাকিকে দেখছে। 

জাকি টুকটাক শুনেছে আলিশার কাছ থেকে তার বোনের ব্যাপারে, কিন্তু বিষয়টা যে এতটা গুরুতর আজ নিজ চোখে দেখে তার বিশ্বাস হল। ভয়ে ভয়ে বলে, আপু, আমাদের প্রথম দেখাটা সেভাবে হয় নি যেভাবে আমি পরিকল্পনা করেছিলাম। আপনি হয়ত রেগে আছেন, আমার সাথে কথাও বলতে চাচ্ছেন না। কিন্তু যেটা হয়ে গেছে সেটা তো আর বদলাতে পারছি না কিন্তু সমাধান করার চেষ্টা করা উচিৎ। কণ্ঠে দৃঢ়তা এনে বলে, আলিশাকে নিয়ে আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই। আমি শুরু থেকেই ওকে খুব সম্মান করি এবং ওর সাথে একটা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। আমার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি নেই।

নির্বিকার চোখে জাকির দিকে তাকায় মারজিয়া। তোমার উপর রেগে থাকার আমার কোনো কারন নেই। আমি শুধু চাই না এমন কিছু ঘটুক যাতে আমাদের বাবা-মায়ের সমাজে মুখ তুলে বাঁচতে কষ্ট হবে। 

আলিশা খুব ভাল মেয়ে, আপু। আমি ওকে অনেক বছর যাবত চিনি, ও কখনওই এমন কোনো কিছুর সাথে যুক্ত ছিল না যাতে আঙ্কেল-আন্টির বদনাম হবে। জাকির গলা শুকিয়ে আসে। তবুও বলে যায়, আপনি হয়ত ভাবছেন আমরা অনেক বছর যাবত এই সম্পর্কে আছি কিন্তু বিষয়টা এমন না। আমি ওকে প্রথম থেকেই পছন্দ করি কিন্তু আমি জানতাম ও ওমন মেয়ে না যে সে আমার সাথে প্রেম করে বেড়াবে। আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ছি, আমার চাকরিটা পার্মানেন্ট হয়েছে এরপরই প্রথম আলিশাকে এ ব্যাপারে বলেছি। দ্রুতকন্ঠে বলতে থাকে জাকি। এর আগ পর্যন্ত আমাদের ভেতর সহপাঠি বাদে আর কোনো সম্পর্কই ছিল না।

তোমার বাসায় জানে আলুর ব্যাপারে? 

জী। ভাঙ্গা ভাঙ্গা কণ্ঠে বলে, আমি একমাত্র সন্তান, আমার বাবা-মা দুইজনই চাকরি করে। তারা বেশ আগে থেকে আলুর—মানে আলিশার ব্যাপারে জানে। মারজিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে জাকির কথা আটকে আসতে থাকে। পুরোপুরি অনুভূতি শূন্য দুটি মরা মাছের মত চোখ। পলক ফেলার সময়টাও যেন এক দিনের মত লাগে। জাকি বিচলিত বোধ করে। তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।

যেহুতু তুমি অনেকদিন যাবত আলুকে চেনো তাই আমি ধরে নিচ্ছি ওর স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে তোমার ধারণা আছে। তোমার বাবা-মায়ের ধারণা আছে কি? 

জাকি মৃদু হাসি দিয়ে বলে, তাদের আমার পছন্দের উপর ভরসা আছে। 

শী ইজ নট ইজি টু হ্যান্ডেল। আমাদের বাবা-মাও কখন ওকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি। আমাদের শাসন কখনও ওর কানে ওঠে নি। কিভাবে সামলাবে ওকে? 

এতগুলো বছরে আমি আলুকে কখনও ভুল কিছু করতে দেখি নি। হয়ত সবসময় ওর ধরনটা সঠিক হয় না, কিন্তু ও ভুল কিছু করে না। কথাটা বলতে বলতেই আলিশার হাসিমাখা মুখটা জাকির চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মুখে মৃদু হাসি ফুটে তার, কন্ঠের জড়তা খানিকটা কমে আসে। আসেপাশের সকলের চেয়ে বেশি উদ্দীপনার সাথে ওকে কাজ শিখতে দেখেছি, করতে দেখেছি। ওকে যতটা না ভালবাসি তার চেয়ে অনেক বেশি সম্মান করি। মারজিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে দৃঢ়কণ্ঠে বলে, আমার চোখে আলুর কখনও শাসনের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় নি। ওর চেয়ে বেশি সুশৃঙ্খল মানুষ আমি কমই দেখেছি। জাকির মনের ভয়টা কেটে যেতে থাকে। তীব্রভাবে ছটফট করা হৃদপিন্ডটা খানিকটা শান্ত হয়ে আসে। মৃদু হেসে মারজিয়ার চোখে চোখ রেখে বলে, আলিশা বললে আসলে বোধ হয় না যে ওকে ডাকছি। আলু বললেই ওর চেহারাটা চোখের সামনে চলে আসে।

মারজিয়া তাকিয়ে থাকে জাকির হাসিমাখা মুখটার দিকে। তার চোখ দুটো রাগী রাগী দেখতে তবে হাসলে আর রাগী ভাবটা বুঝা যায় না। শরীরের রংটা রোদে পুড়ে কয়েক শেড কালো হয়ে গেছে। চওড়া কাধ, বুক, লম্বা লম্বা হাত-পা, সুঠাম দেহ। ওকে দেখে মনে হয় এখনই এক থাপ্পড়ে যে কাউকে এখানে শুইয়ে দিতে পারবে। তবুও ছেলের চোখে-মুখে বিচলিত ভাব, যেন এখানে তার জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত শোনানো হবে। মারজিয়া নীচে তাকিয়ে মুচকি হাসে। বলে, এখানের স্যান্ডউইচটা বেশ ভাল। তুমি কফি খাও?

জাকি তড়িগড়ি করে চেয়ার পিছিয়ে উঠতে উঠতে বলে, আপু, আপনি কি খাবেন আমাকে বলুন, আমি নিয়ে আসছি। 

আমার কর্মক্ষেত্রে এসেছো, তাই আপ্যায়নও আমি করব এটাই স্বাভাবিক। বস। মারজিয়া উঠে খাবারের অর্ডার করতে যায়। কিছুক্ষণ পর ট্রে হাতে ফেরত আসে। 

কফির সাথে একটা করে চিনি প্যাকেট ও ক্রিমের প্লাস্টিকের কৌটো দেওয়া, দুইজনের কেউই সেগুলো ছুঁয়ে দেখে না। কোনো কথা না বলে চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে দুইজনেই। স্যান্ডউইচটা খাওয়া শেষ হলে মারজিয়া পিঠ ঠেকিয়ে চেয়ারে বসে। তাকিয়ে দেখে জাকির আগেই খাওয়া শেষ। কফির মগটা হাতে নিয়ে দুইজনেই চুমুক দেয়। সামনে পড়ে থাকা চিনি-ক্রিমগুলোর দিকে তাকিয়ে মারজিয়া বলে, তুমি চিনি খাও না?

কফির কাপটা ঠোঁট থেকে নামিয়ে জাকি বলে, মিষ্টি কোনো কিছুই খুব বেশি পছন্দ না।

আজ সন্ধ্যায় কি করছো?

অফিসে এসে জানলাম যে আলু অফিসে আসে নি তাই আধা দিনের ছুটি নিয়ে বের হয়ে এখানে চলে এসেছি। আপনার সাথে কথা না হলে সরাসরি আপনাদের বাসায় যেতাম। এখন আসলে আর কিছু ভাবি নি কি করব। 

মারজিয়া একটু থেমে কিছু ভেবে বলে, তোমরা দুইজনই প্রাপ্ত বয়স্ক, নিজেদের ভালো-খারাপ বুঝো। তুমি বরং আজ সন্ধ্যায় তোমার পরিকল্পনা মতাবেক আমাদের বাসায় আসো। আলুর সাথে বসে দুইজনে মিলে ঠিক কর কি করবে। কফির মগে চুমুক দিয়ে বলে, বাবা ছয়টার আগেই বাসায় চলে আসেন। তুমি সাতটা নাগাদ চলে আসো তাহলে? 

জাকি সৈনিকের মত দৃঢ় কণ্ঠে বলে, জী! তার অবস্থা দেখে মারজিয়ার হাসি আসে। কিন্তু সে হাসে না। 

জাকিকে বিদায় দিয়ে চারতলায় ফেরত যায় মারজিয়া। নিজের কেবিনে বসে কিছু ফাইল-রিপোর্ট নাড়াচাড়া করছে। জারিন এসে কেবিনের দরজায় দাঁড়ায়। আগ্রহের সুরে বলে, কে ছিল এই ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো?

জারিনের দিকে না তাকিয়েই জবাব দেয়, আলুর বয়ফ্রেন্ড। 

কিহ! ছেলে তো খুবই সুন্দর দেখতে! বিয়ে-শাদির কথা চলছে নাকি?

ওমনই। 

জারিন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে  মারজিয়াকে কাজ করতে দেখে। এরপর চুপচাপ চলে যায়। 

Comments

    Please login to post comment. Login