Posts

উপন্যাস

শৈলীর দীর্ঘ প্রেমের গল্প

December 12, 2025

Md Jamal Uddin

16
View

মালঞ্চপুরের শীত, কেক আর নীলার চোখ

— উপন্যাস-শৈলীর দীর্ঘ প্রেমের গল্প

অধ্যায় – ১: ফিরে আসা

শীতের শুরুতেই রাহিম ফিরে আসে মালঞ্চপুরে।
শহরের চাকরি ছেড়ে দেওয়া, বাবার রেখে যাওয়া জমির দায়িত্ব, মায়ের নিঃসঙ্গতা—সব মিলেই সে ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত হয়ে উঠেছিল।

মালঞ্চপুর একটা সাধারণ গ্রাম হলেও তার ভোরগুলো যাদুকরী—
ধানের গন্ধ, কুয়াশার ভেজা ঘাস, আর দূর থেকে ভেসে আসা হাঁস ডাক।
রাহিম বারান্দায় দাঁড়িয়ে একদিন ভাবছিল—
“এ গ্রামে আমি কি সত্যিই শান্তি পাবো?”

কিন্তু সে তখনও জানত না, শান্তি নয়,
তার জীবনটাই বদলে যাবে এই গ্রামের শীতে।

অধ্যায় – ২: প্রথম দেখা

গ্রামে তখন শুরু হয়েছে শীতের বার্ষিক উৎসবের প্রস্তুতি—গ্রামীণ কেক ও পিঠা উৎসব
রাহিমকে ডেকে পাঠালেন স্থানীয় চেয়ারম্যান,
"মঞ্চটা তোকে দেখে দিতে হবে। আলোর কাজটাও তুইই করবি।"

রাহিম কাজ শুরু করতেই দেখা হলো তার সাথে।
লাল শাল জড়ানো এক মেয়ে, চোখ দু’টো শীতের ভোরের মতো শান্ত,
আর হাতে কেকের বাক্স।

একটা বাক্স হঠাৎ নিচে পড়ে গেলে রাহিম এগিয়ে গিয়ে তুলে দিল।
মেয়েটি একটু লজ্জায় বলল—
“ধন্যবাদ… কেক ভাঙেনি তো?”

রাহিম তাকিয়ে বলল—
“না, কেক ভাঙেনি… তবে আপনি যদি আরেকটু হাসতেন, আমার মন ভেঙে যেত।”

মেয়েটি হেসে ফেলল।
সেই হাসির শব্দে যেন পুরো মাঠটা একটু আলো হয়ে উঠল।

মেয়েটির নাম—নীলা
শহর থেকে এসেছে, গ্রামের স্কুলে অস্থায়ী শিক্ষকতা করে।

রাহিম স্তব্ধ হয়ে ভাবল—
কেউ কি সত্যিই এত সহজে সুন্দর হতে পারে?

অধ্যায় – ৩: কাছাকাছি আসা

উৎসবের দিন যত এগিয়ে এলো,
ততই রাহিম আর নীলার দেখা বাড়তে লাগল।

নীলা কেক বানাত, রাহিম লাইট বসাত—
কিন্তু ব্যস্ততা কখন যেন পরিণত হলো অভ্যাসে।

একদিন নীলা বলল—
“এই লাইটটা একটু নিচু করে দেবে?”
রাহিম সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলল—
“আপনি যদি দুটি কথা বেশি বলেন, আমি লাইট না, পুরো মাঠটাই সাজিয়ে দেব।”

নীলা তাকিয়ে বলল—
“তুমি অনায়াসে কথা বলো, তাই না?”
“আপনাকে দেখলেই কথাগুলো বের হয়ে আসে,”
—কথাটা বলেই রাহিম বুঝল, সে সত্যিই বদলে যাচ্ছে।

সন্ধ্যায় দু’জন বসত গরম চায়ের সামনে।
চায়ের ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে ওদের চোখ বারবার ছুঁয়ে যেত।

গ্রামের লোকজনও টের পেতে শুরু করেছিল—
“ওদের মধ্যে কিছু একটা হচ্ছে।”

অধ্যায় – ৪: কেক উৎসবের রাত

উৎসবের দিন এল।
গ্রাম যেন হঠাৎ শহরে পরিণত হলো—
লাইট, সঙ্গীত, হাসির শব্দ, কুয়াশা, আর গরম পিঠার গন্ধ।

রাহিমের স্টল আর নীলার স্টল পাশাপাশি।

নীলার চুল বারবার চোখের সামনে এসে পড়ছিল।
রাহিম হাসতে হাসতে বলল—
“এই নড়বড়ে হাওয়ার কাছে আপনি হেরে যাচ্ছেন।”
নীলা বলল—
“হাওয়া আমাকে হারাচ্ছে না, আসলে… কেউ দেখলে তো আর মন খারাপ হয় না।”

ওদের কথার মাঝেই গ্রামে একটা হালকা গান বাজতে শুরু করল।
মুচমুচে কেক, ক্রিম ভর্তি ডোনাট, গরম ভাপা পিঠা—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব পরিবেশ।

রাত যত গড়াল,
দু’জনের চোখাচোখি তত বাড়ল—
কখনো হেসে, কখনো চুপ থেকে।

কখনো দু’জনের হাত ছুঁয়ে যেত কেক দিতে গিয়ে—
আর দু’জনেই ভেতরে ভেতরে শীতের মাঝেও উষ্ণতা অনুভব করত।

অধ্যায় – ৫: হৃদয়ের সত্য

মানুষ কমে এলে নীলার মুখ হঠাৎ অন্যরকম হল।
চাঁদের আলো তার চোখে পড়ায় রাহিম দেখল—
সে যেন কিছু বলতে চায়।

“রাহিম… তুমি কি কাউকে ভালোবাসো?”
রাহিম চমকে উঠল।
“কেন জিজ্ঞেস করছ?”

নীলা কেক সাজাতে সাজাতে বলল—
“কারণ…
তোমার চোখে মাঝে মাঝে একজনকে দেখছি—
আমি না… অন্য কেউ।”

রাহিম থেমে বলল—
“আমি অনেকদিন ধরে কাউকে চাইনি…
কিন্তু এখন চাই।
একজনকে…
যার চোখে সমুদ্রের মতো শান্তি।”

নীলা বুঝল, কথাটা তার জন্যই বলা।
কিন্তু সে কিছু বলল না—
কারণ ভালোবাসা শুধু বলা নয়, অনুভব করার ব্যাপার।

অধ্যায় – ৬: শেষপ্রহরের স্বীকারোক্তি

উৎসব প্রায় শেষ।
লাইটগুলো টিমটিম করছে, কুয়াশা আরও ঘন।

নীলা তার ব্যাগ থেকে ছোট্ট একটা বাক্স বের করল।
ভেতরে ছোট হৃদয়-আকৃতির চকোলেট কেক।
কেকের উপর চকোলেট দিয়ে লেখা—

“Next winter… Can you stay beside me?”

রাহিম বাক্সটা হাতে নিয়ে স্থির হয়ে গেল।
কুয়াশার ভেতর নীলার চোখ ঝাপসা হয়ে উঠছিল।

রাহিম ফিসফিস করে বলল—
“আমি শুধু পরের শীত নয়…
সব শীতে, সব ঋতুতে, সব দুপুরে,
সব ঝড়ে… তোমার পাশে থাকতে চাই।”

নীলার চোখে জল এলো।
রাহিম মৃদু হাসল—
“তোমার একটা হাসি পুরো গ্রামের শীত উষ্ণ করে দেয়।”

নীলা এবার এগিয়ে হাত ধরল।
গ্রামের দূর থেকে ভেসে আসা ফ্লুটের সুরে
তাদের প্রেম যেন নিঃশব্দে জন্ম নিল।

অধ্যায় – ৭: এক নতুন শুরু

এক বছর পর…
শীত আবার মালঞ্চপুরে নেমেছে।

উৎসবের মঞ্চে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্টল—
“রাহিম & নীলা – Together Bakery”
স্টলের সামনে লেখা—
“প্রতিটি কেকের ভেতরে আছে দু’জন মানুষের গল্প।”

গ্রামের মানুষ হাসছে,
কুয়াশা হাসছে,
আর কেকের উপর জমা চিনির মতো
দু’জনের প্রেম ধীরে ধীরে জমে আরও মিষ্টি হয়ে উঠছে।

শেষলাইন

কেউ বলে শীত মনকে ঠান্ডা করে,
কিন্তু রাহিম আর নীলা জানে—
শীতই কখনো কখনো নতুন ভালোবাসার দরজা খুলে দেয়।
যেখানে ঠান্ডা বাতাসও দু’জন মানুষের হৃদয় গরম করে তুলতে পারে।


 

Comments

    Please login to post comment. Login