একজন অশীতিপর বুড়ি এসেছেন সাহায্যের জন্য। বুড়ি প্রায়ই আসেন। ঠনঠন করে কথা বলেন। মনেই হয়না বয়স হয়েছে৷ মেয়ে নেই, ছেলে দেখেনা, তাই সাহায্য চাইতে এই বয়সে বাড়ি বাড়ি ঘুরেন।
মা তাকে দশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিলেন এবং সাথে কিছু চাল দিয়ে বললেন, তার ছেলে রনির পরীক্ষার জন্য যেন দোয়া করেন।
কিন্তু বুড়ি আবার কানে শোনেনা। তাই চাল আর টাকা নিয়ে চলে গেছেন। এটা দেখে মা বুড়িকে উদ্দেশ্য করে নানা কথা বকতে শুরু করবছেন একা একাই। তবে রনি সবকিছুই লক্ষ করেছে।
সে তারপরও মাকে জিজ্ঞেস করেছে যে, কেন চিতকার চেচামেচি করছেন তিনি।
মা আবারও শুরু করেছেন সেই একই কাহিনি।
রনি মাকে জিগ্যেস করলো,"এটা নিয়ে এত কথার কি আছে?"
মা বললেন,"আমি যে তার উপর দয়া করলাম। মানুষের মাঝে কি এতটুকু কৃতজ্ঞতাবোধ থাকেনা?"
রনি বললো,"উনিও তোমার প্রতি দয়া দেখিয়েছেন। তোমারও উনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ। কোরানের সুরা আযযারিয়াত এর ১৯নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে, ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের হক আছে। আজকে উনি নিজের হক বুঝে না নিলে তুমি নিজেই দায়বদ্ধ থাকতে।"
মা একটু চুপ করলেন।
রনি মাকে বললো,"তুমি উনার কাছে কেন দুআ চাইতে গেলে? তুমি যে উদ্দেশ্য নিয়ে দান করেছো, এটাই যথেষ্ট। কারণ প্রতিদান দিবেন আল্লাহ। তিনি তোমার অন্তর দেখেছেন। এটাই কি যথেষ্ট নয়?"
মা বললেন,"বুড়িকে যখনই আসে কিছু না কিছু দেই। কিন্তু একটা ধন্যবাদও দেয়না।"
রনি বললো,"যদি ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য দান করে থাকো, তবে আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান পাবে কিভাবে? উনার অন্তরে হয়ত তোমার জন্য অনেক দুআ। আল্লাহ সেটাই বিচার করবেন।"
এ পর্যন্ত বলে দম নিল রনি।
তারপর আবার বললো,"মনে রাখবে মা, সকল সম্পদের মালিক আল্লাহ। তুমি শুধু আমানতদার। তুমি সঠিক হাতে সেই সম্পদ পৌছে দিবে, এটাই দায়িত্ব তোমার। তা না হলে আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। এই সম্পদ নিজের মনে করে অহংকার করলেই ভুল করবে।"
48
View