জনাব সুজা একজন চেইনস্মোকার। খুব দামী সিগারেট খান তিনি। তার প্রতিদিন পাচশত টাকার উপর খরচ হয়ে যায় ধূমপানে৷
তিনি ভালো বেতনের একটা চাকরি করেন। অনেক চাপে থাকে। সিগারেট এর নিকোটিন তাকে সাময়িক চাপ সামলানোতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ধূমপান করার কারণে একবার টানা দুই সপ্তাহ হাসপাতালে কাটিয়ে এসেছেন।
এই ঘটনার পর কিছুদিন বন্ধ ছিলো তার ধূমপান। তারপর হঠাৎ কি থেকে যেন আবার শুরু করে দিলেন।
বড় ছেলে মুসাকে তিনি আবার মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন। অনেকদিন পর মুসা বাসায় এসেছে। তার হাতে বেশ কিছু প্লাস্টিকের ব্যাংক। রাতে বাবাকে পেয়ে সে বললো,"বাবা! এখন থেকে আপনাকে ধূমপান বন্ধ করতেই হবে।"
ছেলের মুখে এমন কথা শুনে জনাব সুজা একটু হকচকিয়ে গেলেন।
মুসা সাহস আরো বললো,"আমরা পরিবারের বাকি সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনি এটা বন্ধ না করলে আমরাও আপনার মতো ধূমপান শুরু করবো।"
জনাব সুজা বুঝে গেছেন, তার সোজা পথে চলার সময় হয়ে গেছে। তিনি বাধ্য হয়ে ওয়াদা করলেন যে, আর ধূমপান করবেন না।
তারপর, মুসা তার হাতে দুটো প্লাস্টিকের ব্যাংক ধরিয়ে দিলো। প্রতিদিন তিনি ধূমপানের সেই পাচশত টাকা দুই ভাগ করে এই ব্যাংকে জমা রাখবেন।
একটা ব্যাংকে জমা থাকবে তার ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের ব্যবসায় করার পূজি বাবদ অর্থ। অন্যটাতে টাকা জমা হবে দান করার জন্য। যখন বড় অংকের টাকা জমবে তখন সেটা দিয়ে কোন দরিদ্র কাউকে স্বাবলম্বী করার জন্য কিছু একটা কিনে দেওয়া হবে।
এছাড়াও, মুসা তার বাবার ড্রাইভারকে ডেকে তাকেও দুটো প্লাস্টিকের ব্যাংক ধরিয়ে দিলো। তিনি যে ধূমপান করেন সেটা মুসা লক্ষ করেছে৷
জনাব সুজা ছেলের কাজে খুশি হলেন। তিনি নিজেই স্বীকার করলেন যে, মানুষ যে পরিমাণ অর্থ ধূমপানের পেছনে খরচ তা দিয়েই সমাজে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।
54
View