আলমের ভাগিনা শোভনের এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আজকে তার উপর দায়িত্ব পড়েছে তাকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দেয়ার জন্য। একদম পরীক্ষার হলে ঢুকিয়ে দিয়ে আসতে হবে।
সেটা অবশ্য বাসায় থেকে বেশি দূরে নয়। হেটে গেলে বিশ মিনিট আর রিকশায় গেলে পাচ থেকে দশ মিনিট লাগে।
আলম মানুষের ভিড় ঠেলতে পছন্দ করেনা। পরীক্ষার হলের সামনে প্রায় হাজার খানেক মানুষ। তাই শোভনকে কাছাকাছি রেখে বাসায় ফিরে যায়।
এটা শুনে তার আপা তো রেগে আগুন। এতদিন তিনিই ছেলেকে পরীক্ষায় নিয়ে গেছেন রিকশায় করে। আর আজকে ছেলেকে হাটতে হয়েছে। আজ ভাইকে দায়িত্ব দিয়ে তিনি এই ঝামেলায় পড়েছেন।
আলম বললো,"তোমার ছেলে বড় হচ্ছে। এখন কেন ওকে সব কাজে সাহায্য করতে হবে?"
আপা বলেন,"আমার ছেলেকে আমি এক গ্লাস পানিও নিজে নিয়ে খেতে দেইনা। এত আদরের ছেলে আমার। আর এই সামান্য কাজটা তুই পারলিনা? ওকে হাটিয়ে নিয়ে গেলি?"
আলম বললো,"তুমি যে ওকে এমন ননির পুতুল বানাচ্ছো। কাল যখন ভালো কলেজে ভর্তি করবে। সে কি পারবে একা থাকতে? পারবে গ্লাসে পানি ঢেলে খেতে? হোস্টেল বা মেস যেখানেই থাকুক, মাঝে মাঝে টয়লেট পরিস্কার করতে হয়, সে কি পারবে?"
আপা বললেন,"আমার এতটুকুন ছেলে। নিজ থেকে কিছুই করতে পারেনা। ওকে দূরের কোন কলেযে দিবোনা।"
আলম বললো,"সেটা সময় হলেই দেখা যাবে। আজকে ওকে কোন একটা কাজে সিদ্ধান্ত দিচ্ছোনা। কাল সে কি পারবে নিজের জন্য কোন সিদ্ধান্ত নিতে? সবকিছু নিয়ে যখন মাকে প্রশ্ন করবে, ওর বন্ধুরা কি ওকে নিয়ে হাসবেনা?"
আপা বললেন,"সে কি বড় হবেনা?"
আলম জবাব দিলো,"তোমার ছেলে কখনোই বড় হবেনা। কারণ তুমি চাওনা সে বড় হোক। এখন যেমন তোমার কথায় রোবটের মতো উঠ-বস করে, বিয়ের পর বউ এর কথা উঠ-বস করবে। তখন আবার তুমি বউএর উপর দোষ দিবে।
ছেলেকে যে তুমি নিজ হাতে পঙ্গু বানাচ্ছো, সেই দোষ কে নিবে?"
41
View