জাপানে এসেছি কয়েক মাস হয়ে গেলো। মাস্টার্স করছি। এখানে আমার যিনি প্রফেসর, আলহামদুলিল্লাহ একটা জ্ঞানের সাগর, হাসিমাখা মুখ৷ কিন্তু প্রায়ই একটা হাফপ্যান্ট পড়ে ক্লাস নেন। প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম, পরে মানিয়ে নিয়েছি৷
আমাদের দেশে এমনটা কল্পনাও করা যায়না। তবে স্থান-কাল-পাত্র বলতে একটা কথা তো আছেই। সমস্যা হলো, আমাদের দেশের মহান শিক্ষকরা ফুল পড়লেও জ্ঞানের সাগর হতে পারেন না।
তারা কথায় কথায় ছাত্রদের সাথে ঝগড়া লেগে যান। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকরাও নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে তেলের গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
আমার অবশ্য মনে গেথে আছে যে ঘটনা তার প্রধান চরিত্র একজন পরিদর্শক, উনি একজন ইউএনও হতেও পারেন।
এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা, হিসাব মিলাতে গিয়ে মাথা খালি গুলায়ে যায়। আমি সম্ভবত তৃতীয় ব্যাঞ্চ এ বসেছি। প্রথম ব্যাঞ্চে বসা ছেলেটার গায়ে জার্সি।
সবাই মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছি। আমাদের রুম এর গার্ড দেয়া শিক্ষক সতর্ক করলেন। এমনইতেই কঠিন হিসাবের গোলমাল হয়ে যাচ্ছে, তার উপর এমন একটা উটকো ঝামেলা। তিনি আসলেন, এসেই সেই জার্সি পড়া ছেলেটাকে দাড় করালেন, তারপর ধমক দিলেন।
সে কেন জার্সি পড়ে পরীক্ষা দিতে এসেছ। কিন্তু এটা নিয়ে কারো আপত্তি থাকতে পারে সেট আমি জানতাম না। শুধু একটা ধমক দিয়েই থামলেন না। তাকে অনেকক্ষণ ধরে ধমকালেন ভদ্রলোক।
ছেলেটা তখন কাপতে শুরু করেছে। এর মধ্যে মহান শিক্ষকরাও এসে ধমকালেন। পেছন থেকে আমার হিসাব আরো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। তাহলে ছেলেটার কি অবস্থা?
ইন্না-লিল্লাহ। যাইহোক, আমার পরীক্ষা খারাপ হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো রেজাল্টও হয়েছে৷ কিন্তু ওই ছেলেটার কি অবস্থা? সে হয়ত এ+ পাওয়ার আশায় পরীক্ষায় বসেছিলো। তবে সে কি পাশ করতে পেরেছে কি-না সেটা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে।
জাপানে আমি কখনো প্যান্ট পড়ে ক্লাস করি। আবার কখনো ট্রাউজার পড়ে। কারো কিছুই আসে যায়না। কিছু বিদেশী ছাত্ররা হাফপ্যান্ট পড়েও ক্লাস করেন। আমাদের শিক্ষকরা যদি মহান হতেন তবে হয়ত আজকে আমরা জাতি হিসেবে এত পিছিয়ে যেতাম না। যদিও আমাদের মহান শিক্ষক আছেন, তবে তাদের সংখ্যাটা এতই ছোট যে চোখে দেখা যায়না।
আমাদের সামাজিকতায় হয়ত হাফপ্যান্ট যায়না। তবে শিক্ষকরা এখানে মহান মানুষ হতে পারেনা৷
তাদেরকে ছাত্ররা ভয়ংকর কোন একটা আজব প্রাণী মনে করে থাকে। শিক্ষকের নাম শুনলেই আতংকগ্রস্থ হয়ে যায়। অতচ তাদের সম্মান করার কথা ছিলো।
ঘটনাটি যদি আমাকেই ট্রমাটাইজড করে রাখে তাহলে ওই ছেলেটার কি অবস্থা সেটা আল্লাহই ভালো জানেন