গতকাল আমার ভাগিনা সৌরভের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিলো। অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই খাতা দেয়া হয়, ঘন্টা পড়ার আগে উলটানো যাবেনা।
সৌরভ এখানেই ভুল করেছিলো, সে না বুঝে আগেই খাতা উলটে দেখেছিলো শুধু, কোন উত্তর লিখেনি। তারপর ছয়জন শিক্ষক মিলে ওকে ধমকা-ধমকি করেছে।
এতটাই রুঢ় ভাষায় ওকে ধমকানো হয়েছে যে সে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ে। ফলে সে জানা প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেনি৷ এমন ঘটনা আমিও অনেক দেখেছি। কেউ অপরাধ করলে তাকে অনেকভাবেই শাস্তি দেয়া যায়। কিন্তু কিভাবে ধমক দিলে কেউ আতংকগ্রস্থ হয়ে যায় সেটা আল্লাহই জানেন।
অনেক মহান শিক্ষকের অবদানে আজকে আমি এই অবস্থানে এসেছি। তাদের কথা স্মরণ হলেই সম্মানে মাথা নিচু হয়। আবার এমন অনেক শিক্ষকও দেখেছি যাদের শিক্ষক হওয়ার ন্যুনতম যোগ্যতা নেই।
একটা গল্প শুনেছিলাম। পুলিশের ভাইভা পরীক্ষায় একজনকে প্রশ্ন করা হলো, আমার একটা গরু আছে, এর ইংরেজি অনুবাদ। সে পারেনি। তাকে চাকরিতে নেয়া হলো।
ভাইভায় তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো, সে কি বুঝতে পেরেছে কি-না তাকে প্রশ্নের উত্তর পারা সত্ত্বেও নেয়া হলো। সে 'না' সূচক উত্তর দিলো।
ভাইভা গ্রহণকারী ব্যক্তি বললেন,"তুমি এখানে চাকরি না পেলে আর কোথাও পাবেনা। তারপর কয়েক বছর পর ঘুষ দিয়ে কোন স্কুলে শিক্ষকতায় ঢুকবে। তুমি নিজেই কিছু জানোনা, তাহলে পড়াবে কি? তুমি আর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধংস করবে।"
জাপানে আসার পর আমার অসুস্থতা ধরা পড়েছে তা ঠিক হতে অন্তত তিনমাস লাগবে। আমার প্রফেসরের সাথে ক্লাস থাকে সপ্তাহে একদিন।
প্রতি সপ্তাহেই উনি আমার স্বাস্থ্যের আপডেট নিয়ে ক্লাস শুরু করেন। আর প্রতি সপ্তাহেই আমাকে বলেন যে, আমি নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর না দিয়ে বেশি পড়াশোনা করছি। ওয়াও! একজন শিক্ষক এই কথা বলছেন, এটা ভাবা যায়?
আমি জানি, যাদের জন্য সৌরভের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে তারা কোনদিন নিজের ভেতর অপরাধবোধ অনুভব করবেনা, কোনদিন লজ্জিতও হবেনা। কারণ এই জাতি নির্লজ্জ, বেহায়া। আমরা বাংলাদেশিরা কখনো অপরাধ করেও লজ্জিত হইনা, সেটাকে জাস্টিফাই করি।
ওই শিক্ষকরা হয়ত আল্লাহর হক কি আর বান্দার হক কি সেটাও জানেনা। এই মুর্খ জাতি এখনো শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করে যাচ্ছে। হয়ত তার ভাগ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে ঢাবি ছিলোনা, শিক্ষকরা একটা উছিলা মাত্র।
একজনকে পরকীয়া করতে দেখে বলেছিলাম যে, উনি কাজটা নৈতিকভাবে এবং ধর্মীয়ভাবে খারাপ কাজ করছেন। উনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। ভাই আমার, তার এই পরকীয়াকে জাস্টিফাই করা শুরু করে দেয়। ইন্না-লিল্লাহ!
জাপানিরা কারো সাথে ধাক্কা লাগলে ভুলটআ যারই থাক, উভয়েই ক্ষমা চাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে। আর আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে নির্লজ্জ জাতি, নিজে ভুল করেও পারলে মানুষের গায়ে হাত তুলি।
35
View