আনিসের ভাগিনা সুজন সকালে ঘুম থেকে বারোটায়। ফলে তাকে সকালের নাস্তা করতে হয়না। সে আসলে সারা রাত মোবাইল ফোন নিয়ে জেগে থাকে। আর দিনের বেলায় ঘুমায়।
আসলে সুজনের বাবা বিদেশ থাকে।
বাবার একমাত্র আদরের ছেলে, তাই কেউ কিছুই বলেনা। সে তার মতো করে জীবন চালায়। এমনকি তার মাও তাকে ভয় পায়। মেধাবী ছেলে, পিতার অবর্তমানে অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে।
আনিস সুজনকে সার্কাডিয়ান রিদম সম্পর্কে জিগ্যেস করলে গুগল থেকে দেখে বিস্তারিত জানায়। ২০১৭ সালে আমেরিকার তিনজন বিজ্ঞানী এটা নিয়ে গবেষণা করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।
আনিস তাকে কারেকশন করে দিয়ে বলে,"তিনজন মার্কিন বিজ্ঞানী 'দেহ ঘড়ি' বা সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) নিয়ন্ত্রণকারী আণবিক প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।"
এরপর এটি সম্পর্কে আরো বলে,"সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) হলো মানবদেহের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি যা ২৪ ঘণ্টা পর পর প্রাকৃতিক চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
এটি মূলত আলো ও অন্ধকারের ওপর ভিত্তি করে ঘুম, শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, হরমোনের নিঃসরণ এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই ছন্দ শরীরের সুস্থতার জন্য জরুরি, যা সাধারণত মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।"
এরপর আনিস সুনজকে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলতে পারেনা।
আনিস তাই বলতে শুরু করে,"রাত ১১টা থেকে ২টা এই সময়ের মাঝে মানবদেহে মেলাটোনিন (Melatonin) হরমোনটি সবচেয়ে বেশি নিঃসৃত হয়। মস্তিষ্কের পাইনাল গ্রন্থি থেকে নির্গত এই হরমোন শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে, যা অন্ধকার পরিবেশে সক্রিয় হয়। এখন এই সময়টা তুমি যেহেতু ঘুমাচ্ছোনা, তোমার সার্কাডিয়ান রিদম ভেঙ্গে যাবে।"
সুজন প্রশ্ন করে,"এতে কি কোন সমস্যা হতে পারে?"
আনিস জবাব দেয়,"মানবদেহের এই পুরো সিস্টেম আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তিনি দিনকে পরিশ্রম করার জন্য এবং রাতকে ঘুমিয়ে আরাম করার জন্য দিয়েছেন। তুমি সেই সিস্টেম এর ক্ষতি করতেছো৷
দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগ-বালাই শরীরে বাসা বাধবে তোমার। আমাদের শরীরের দিনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ হয়, তুমি তার পরিবেশ উলটে দিচ্ছো দিনে ঘুমিয়ে আর রাতে সজাগ থেকে।"
সুজন জিজ্ঞেস করলো,"এর ফলে কি কি সমস্যা হতে পারে?"
আনিস উত্তর দিলো,"এর ফলে প্রধানত মানবদেহের হরমোনের ব্যালেন্স নষ্ট হয়। থাইরয়েড,ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, ব্লাড প্রেসার থেকে শুরু করে অসংখ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এখনই সাবধান হও।"
সুজন বললো,"ইদানীং আমি খুব মানসিক অস্থিরতায় ভুগছি। এর পেছনে কি ঘুমের এলোমেলো কারণ হতে পারে?"
আনিস উত্তর দিলো,"হতে পারে। খুব সম্ভাবনা আছে। দেখো। তুমি ফজরের নামাজ পড়ে দিন শুরু করতে পারোনা। তোমার চেয়ে অভাগা আর কে আছে, বলো?"