
শহরের কোলাহল থেকে দূরে, পাহাড়ের ঢালে সেই পুরনো ডাকবাংলোটা যেন একাই দাঁড়িয়ে থাকে। লোকে বলে, অমাবস্যার রাতে ওখানে কোনো মানুষের ছায়া দেখা যায় না, বরং ছায়া ঘুরে বেড়ায় মানুষ ছাড়া।
অনীক পেশায় একজন শখের ফটোগ্রাফার। নির্জনতার খোঁজে সে আজ এই ডাকবাংলোতে আশ্রয় নিয়েছে। রাত তখন প্রায় একটা। চারিদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর ঝোড়ো হাওয়ার শোঁ শোঁ শব্দ। অনীক তার ক্যামেরার লেন্স পরিষ্কার করছিল, এমন সময় বারান্দায় কারো পায়ের শব্দ পেল।
সে টর্চ জ্বালিয়ে বাইরে বের হলো, কিন্তু কেউ নেই। শুধু বাতাসের দাপটে একটা পুরনো ইজিচেয়ার একা একাই দুলছে। অনীক ভাবল মনের ভুল। ঘরে ফিরে এসে সে অবাক হয়ে দেখল, তার ডিজিটাল ক্যামেরার ডিসপ্লেতে একটা ছবি ভেসে উঠেছে। অথচ সে গত দশ মিনিটে কোনো ছবি তোলেনি!
ছবিটি ছিল অন্ধকার এক বারান্দার। ল্যাম্পপোস্টের ক্ষীণ আলোয় দেখা যাচ্ছে একটা অবয়ব— যা দেখতে ঠিক অনীকের মতোই, কিন্তু তার চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলছে। অনীকের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমশীতল একটা স্রোত বয়ে গেল। সে যখন ধীরে ধীরে ক্যামেরার স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সামনের আয়নার দিকে তাকাল, দেখল আয়নায় তার কোনো প্রতিফলন নেই! তার বদলে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই জ্বলজ্বলে চোখের ছায়াটা।
সেদিন রাতে বাংলোর সেই ঘর থেকে শুধু একটা ক্যামেরার শাটার পড়ার শব্দ পাওয়া গিয়েছিল, তারপর সব নিস্তব্ধ। পরদিন সকালে লোকজন এসে দেখল ঘরটা ফাঁকা, শুধু মেঝেতে পড়ে আছে অনীকের ক্যামেরাটা। যার মেমোরি কার্ডে শেষ ছবিটা ছিল— একটি শূন্য ইজিচেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ধোঁয়াটে এক মানুষের ছায়া।