বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই ছোটন এসেছে। সে আমার কাছে দেহতত্ত্ব সম্পর্কে জানতে চায়৷ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলাটা খুবই ঝামেলা। আমার প্রত্যক্ষ কোন জ্ঞান নেই, থাকার কথাও না৷ তাই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলাম, কিন্তু ছোটন অত্যন্ত নাছোড়বান্দা।
অবশেষে বলা শুরু করলাম,"সাধারণ গুরুবাদী বা দেহবাদী সাধনায় গুরুকেই ইশ্বর হিসেবে কল্পনা করে সাধনা করা হয়। একটা সময় পর তাদের গুরু সত্যিই তাদের সাধনায় ইশ্বররূপে দেখা দেয় বলে তারা মনে করে৷ সেই ঈশ্বর নানা প্রকারের দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে, যা তারা অনুসরণ করে।
আবার মুসলিম পীরতন্ত্রে বিশ্বাসীদের যারা মাঝে পীরকে দীন শিক্ষা করার শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করেন তাদের মাঝে এসব নেই।
এর বাইরে একটা গ্রুপ আছে যারা পীরকে প্রথমে রাসুল সা: হিসেবে কল্পনা করে সাধনা করে। যখন এই কাজে সফল হয়, তখন পীরকে স্রষ্টা কল্পনা করে সাধনা করে। পীর তাদের কাছে ধরা দেয় স্রষ্টা হিসেবে।
এরপর যে গ্রুপ সম্পর্কে আমার জানা আছে, তাদেরকে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই পীরের মুরিদ হতে হয়। যেহেতু স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একই পীর বাবার মুরিদ সেহেতু তারা আর স্বামী-স্ত্রী থাকেনা। নতুন পরিচয় পীর ভাই-পীর বোন। এরাও হয়ত পীরের বলে দেয়া উপায়ে গোপন যুগল সাধনায় লিপ্ত হয়।
ইসলামের মূল ধারাকে বলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, যারা নবীজি সা: এর সুন্নতকে আকরে ধরে রাখে। এই অংশটাই মুসলমানদের মূল অংশ। তারা পীরদেরকে শুধু শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করা পর্যন্ত হয়ত সমর্থন করতে পারেন, এর বেশি কখনোই না।"
ছোটন একটা কথাও এতক্ষণ বলেনি। সে মনোযোগ দিয়ে শুনেছে।
এবার জিজ্ঞেস করলো,"আপনি বললেন যে, ওরা সাধনায় গুরুকে স্রষ্টারূপে দেখতে পায়। এটা কিভাবে সম্ভব?"
উত্তর দিলাম, "ওরা যে কিভাবে কি করে তা আমার জানা নেই। তবে আমার মনে হয় এখানে শয়তানের ধোকা আছে। ওরা হয়ত শয়তানকে দেখতে পায় ওদের সাধনায়। দেওয়ানবাগী বলেছিল সে এবং তার সাগরেদরা সবাই আল্লাহকে দেখেছে।
মুসলিম জগতে এটা নিয়ে বিতর্ক আছে যে, নবীজি সা: মেরাজের সময় নিজের চোখে আল্লাহকে দেখেছিলেন কি-না। অথচ এদের দাবি, এরা নাকি আল্লাহকে দেখতে পায়৷ এটা শয়তানের ধোকা ছাড়া কিছুই না।"
ছোটন এবার জিজ্ঞেস করলো,"তাহলে ভাই, এটা বলেন যে, ওরা সাধকরা স্বামী-স্ত্রী ভাই-বোন হয়ে গেলে কেমনে?"
জবাব দিলাম,"শুধু ভাই-বোন হয়ে যায় এমনটাই নয়। সাধন সঙ্গিনীকে মা হিসেবেও কল্পনা করে। এরাই মূলত রস সাধনাকারী বামাচারী সাধু। এই সাধনায় নারীর গোপনাঙ্গে ওরা ঈশ্বরকে খুজে পায়।"
ছোটন নতুন করে প্রশ্ন করলো,"কিন্তু এটা না করলে কি সাধনা হয়না? স্ত্রীকে মা বা বোন বলাটা কি নোংরামি না?"
উত্তর দিলাম,"এটা ওদের কাছে নোংরামি না। এর মাধ্যমে ওরা মূলত সমাজ সংসারের সকল বাধন হতে মুক্ত হতে চায়। অঘোরীরা মরা মানুষের মাংস খায়, তার সাথে দেহ সাধনা করে। সাধকরা মূলত সকল প্রকার হিংসা, ঘৃণা, লজ্জাসহ সকল অনুভূতির উর্দ্ধে উঠে যায়। শুধু কি তাই? বাউলরা নারীর হায়েজ এর রক্ত, মল-মুত্রসহ প্রেমভাজা বানিয়ে খায়। আমি মনে করি, এসব করে ওরা শয়তানকে খুশি করে, যা নিজেরাও বুঝেনা। এর ফলে শয়তান এদের কাছে ঈশ্বররূপে দেখা দেয়। অনেক কিছুই দিয়ে বিভ্রান্ত করে থাকে এসব সাধুকে।"
ছোটন আবার প্রশ্ন করলো,"Out of body experience সম্পর্কে বলেন।"
আমি আর কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু ছোটন অনুরোধ করলো, এটাই তার শেষ প্রশ্ন।
তার বলতে শুরু করলাম,"কিছুদিন আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে এই experience করে বুঝতে পারলো যে, তার মরে গেলেই বেশি লাভ, তাই ফেসবুকে একটা পোস্ট লিখে আত্মহত্যা করে।
আসলে মেডিটেশন প্রক্রিয়ায় শরীরের পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়া যায়। ওই সময়টা মানুষ আমাদের সাধারণ Dimension এর বাইরের অনেক কিছুই অনুভব করতে পারে। এটা বিজ্ঞান এখনো আবিস্কার করতে পারেনি, তবে আসলেই এটা একটা বিস্ময়।
মহান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন, everything is light, energy and vibration। তাই মানুষ সম্ভবত energy লেভেলসহ অনেক কিছুই সেই সাধনায় থাকা অবস্থায় অনুভব করতে পারে।
তবে সেখানেও শয়তানের ধোকা আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রটাই এর প্রমাণ। তাই মুসলমানদের এসব সাধনা বা মেডিটেশন থেকে সাবধান থাকা উচিৎ।"
ছোটন আবার জিজ্ঞেস করলো,"মুসলমানদের কি মেডিটেশন করা জায়েজ না?"
বললাম,"তোমার আর কোন প্রশ্নের উত্তর দিবোনা আমি। আসলে নবীজি সা: এবং তার সাহাবীগণ এসব করেননি৷ এমনকি এখনকার কোন মুসলিম স্কলার এসব করেন না, সমর্থনও করেননা। আর ভালো-মন্দের কথা বললে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রই দেখিয়ে দিয়েছে এসব কেমন।"
20
View