
শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটা পুরনো বাড়িতে একা থাকতেন অবিনাশ বাবু। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। তাঁর দিন কাটে বই পড়ে আর বারান্দার টবে জল দিয়ে। হঠাৎ একদিন তাঁর ঠিকানায় একটি হলুদ খাম এল। প্রেরকের জায়গায় কোনো নাম নেই, শুধু লেখা—"পুরনো বন্ধুর পক্ষ থেকে।"
চিঠিটা খুলে অবিনাশ বাবু অবাক হলেন। ভেতরে কোনো লেখা নেই, শুধু একটি শুকনো নীল অপরাজিতা ফুল আর একটি ছোট ম্যাপ। ম্যাপটি তাঁরই ছোটবেলার গ্রামের বাড়ির পেছনের বাগানের।
অবিনাশ বাবুর মনে পড়ে গেল পঞ্চাশ বছর আগের কথা। তাঁর প্রাণের বন্ধু ছিল সুমিত। দুজনে মিলে ঠিক করেছিল বড় হয়ে মস্ত বড় আবিষ্কারক হবে। সেই সময় তারা বাগানের এক কোণে একটা 'টাইম ক্যাপসুল' পুঁতে রেখেছিল। তাতে ছিল তাদের প্রিয় কিছু খেলনা আর একটি প্রতিজ্ঞাপত্র।
পরদিন ভোরেই অবিনাশ বাবু রওনা হলেন নিজের গ্রামের দিকে। অনেক কষ্টে সেই পুরনো বাগান খুঁজে বের করলেন। এখন সেখানে জঙ্গল হয়ে গেছে। ম্যাপ মিলিয়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল সেই টিনের কৌটো।
কৌটো খুলতেই তিনি দেখলেন, ভেতরে পুরনো খেলনার পাশাপাশি একটি নতুন চিরকুট। তাতে লেখা:
"বন্ধু, আমি জানতাম তুমি আসবে। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু হারিয়ে যায়, কিন্তু স্মৃতি আর বন্ধুত্ব কখনো পুরনো হয় না। ভালো থেকো।"
অবিনাশ বাবু চারপাশে তাকালেন। কাউকে দেখতে পেলেন না, কিন্তু তাঁর মনে হলো—বাতাসে সুমিতের হাসির শব্দ ভেসে আসছে। তিনি বুঝলেন, সুমিত হয়তো পাশে নেই, কিন্তু এই ছোট্ট উপহারের মাধ্যমে সে আবার প্রমাণ করে দিয়ে গেল যে, কিছু বাঁধন মৃত্যু বা দূরত্বের চেয়েও শক্তিশালী।