মঞ্জু চা খেতে খেতে প্রশ্ন করলো,"ভাই। যদি আমাদের ভাগ্যে সবকিছু লেখাই থাকে তাহলে আর কাজ করে লাভ কি?"
বললাম,"দেখো ভাই। তাকদীরে বিশ্বাস জিনিসটা আমি যতটুকু বুঝি তাতে আমার চলে যাবে৷ কিন্তু তোমাকে বুঝাতে হলে আমাকে আরো জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তার চেয়ে এই বিষয়টি তুমি কোন আলেমের কাছ থেকে জানো।"
সে অনুরোধ করে বললো,"আপনি যতটুকু বুঝেন তাই বলেন।"
জবাবে বললাম,"তুমি যেহেতু জানোনা তোমার ভাগ্যে কি লেখা আছে, তা কাজ করবে। কারণ ভাগ্যে লেখা থাকলেও কাজ করেই সেটা অর্জন করতে হয়।"
সে আবার প্রশ্ন করলো,"ভবিষ্যতে কি হবে সেটা কিভাবে আল্লাহ জানেন?"
বললাম,"দেখো, সময় আল্লাহর সৃষ্টি। তার জন্য সময় কোন কিছুই না। সময়ের কোন বিন্দুতে কে কি করবে সবই তো তিনি জানেন। তিনি তো আর সময়ের অধীন নন।
সূরা ইখলাসের শেষ আয়াতে বলা হয়েছে,"তার সমকক্ষ কেউই নেই।" তাই আল্লাহর সাথে আমাদের তুলনা দিয়ে লাভ নেই।'
মঞ্জু উল্টো প্রশ্ন করলো,"তাহলে আর ভাগ্যে লেখার মানে কি?"
বলা শুরু করলাম,"আমাদের সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ, এটাই সত্যি, আমরা যারা করি তার শক্তি তিনি প্রদান করেন। এমনকি ভালো কাজ এমন এবং মন্দ কাজেরও।
তবে তিনি চাননা আমরা মন্দ কাজ করি। আর এই জন্যেই কোরান-হাদিসে ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ করা হয়েছে।
কথা হলো, আল্লাহ আমাদেরকে কাজ করার জন্য স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, শক্তি দিয়ে দিয়েছেন। আর এই জন্যেই মন্দ কাজের বিচার হবে আর ভালো কাজের পুরস্কার দেয়া হবে।
এখানেই শেষ না। আমাদের ভাগ্যের অনেক কিছুই আল্লাহ নিয়ন্ত্রণ করেন। সেখানে আমাদের হয়ত হাত থাকেনা। তবে তিনি আমাদের ভালোর জন্যেই ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তাই আল্লাহকে দোষ দেয়ার সুযোগ নেই।
আর আমরা তো জানিনা যে আমাদের ভাগ্যের উপর কখন আল্লাহ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিবেন। তাই ভালো কাজ করতে হবে। অনেক সময় খেয়াল করবে, আমরা অজান্তেই ভালো কাজ করি। এটাই হয়ত তিনি আমাদের দিয়ে করিয়ে নেন।
মন্দ কাজ করার জন্য আমরাই নিয়ত করি এবং তা বাস্তবায়ন করি, তাই এর শাস্তি তো পেতেই হবে।"
একটু থেমে আবার বললাম,"দেখো। হাদিসে বলা হয়েছে কাজ করে যাওয়ার জন্য। ফলাফল আল্লাহ দিবেন। তাই আমাদের ভালো কাজ করে যাওয়া উচিৎ এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা উচিৎ।"