বুলু অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছে। ইমাম সাহেব আসরের নামাজ পড়াতে প্রায় সাত থেকে আট মিনিট লাগিয়েছেন। মাত্র চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়াতে এত সময় নেয়ার কি আছে? বুলুর বাবাকেও একদিন এটা নিয়ে বিরক্ত হতে দেখেছি। তিনি মুরুব্বি মানুষ, তাই আর কিছুই বলিনি।
বুলুকে জিজ্ঞেস করলাম,"আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে কি তাড়াহুড়ো করা যায়?"
সে একটু হকচকিয়ে গেল। হয়ত এইভাবে চিন্তা করেনি। বললাম,"ভাবো রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাড়িয়ে আছো, তখন কি তাড়াহুড়ো করতে পারবে?"
সে মাথা নাড়িয়ে 'না' সূচক জানালো৷ বললাম,"নামাজ আসলে ধীরেসুস্থে আদবের সাথে পড়তে হয়। শরীর এবং মনে এই অনুভূতি আসতে হবে যে আমি সারা জাহানের মালিকের সামনে দাড়িয়েছি। প্রতিটি পদক্ষেপ আল্লাহর জন্যই অনুভব করে নিতে হবে। এমন না যে লাফালাফি করে শেষ করে ফেললাম।"
বুলু হয়ত একটু লজ্জিতও হয়েছে। সে জিজ্ঞেস করলো,"আচ্ছা। নামাজ পড়ে আমাদের কি লাভ হয়? আর আল্লাহ কেন নামজ পড়তে বললেন?"
উত্তরে বললাম,"নামাজ হলো আল্লাহর কাছে হাজিরা দেয়ার এবং তার নিকটবর্তী হওয়ার একটি উপায়৷ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার আনুগত্য আদায় করেন; আর বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।
আসলে আমাদের প্রতিটি আনন্দের বিষয়ে এবং নেয়ামতের বিষয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানানো উচিত। তার প্রশংসা করা উচিত। তাহলেই তিনি নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দিবেন।
আবার আমাদেরকে বিপদ-আপদ এবং বালা-মুসিবত দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন। তাই এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে সাহায্য চাওয়া উচিৎ, তাহলে মুশকিল আসান হয়ে যায়। তিনি চাইলে তার নিজগুণে বিপদ কাটিয়ে দিতে পারেন৷"
সে এবার পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে। তাই হাসছে। আমি আবার বললাম,"আসলে নামাজে আমরা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করি, তার সাথে কথা বলি, আল্লাহর প্রশংসা করি, বিপদে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তার কাছে দোয়া করি।
তাই নামাজ এমনভাবে পড়া উচিত যে, নামাজ থেকে উঠে আসার পর আমাদের আর কোন দু:খ বা অভিযোগ থাকবেনা। যে তার দু:খ আল্লাহর সাথে শেয়ার করে ফেলেছে তার আর কোন কিছুতেই টেনশন থাকার কথা না।
এটা ভালোভাবে অনুভব করতে হবে যে আমি আমার পরম প্রতিপালকের সামনে বসে আছি যাকে জান্নাতে না গেলে দেখা যাবেনা। যে এটা মন থেকে অনুভব করতে পারবে, সে চাইবেনা এই সুন্দর মুহুর্ত, এই সুন্দর নামাজ এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাক।"
40
View