দ্বিতীয় পাঠ : ১.*নিজেকে ফিরে পাওয়া*
> আবিরের সাথে সামিরার ব্রেকআপ হয়েছে প্রায় এক মাস। এই এক মাসে সময় যেন তার কাছে অন্য রকম হয়ে উঠেছে। আগে যে জিনিসগুলো ছাড়া বাঁচা অসম্ভব মনে হতো, এখন সেগুলোকেই সে জীবনের কঠিন সত্য বলে মেনে নিতে শিখছে।
> একসময় সামিরা ভাবত—পরিবার ছাড়া তার অস্তিত্বই থাকবে না। কিন্তু জীবন তাকে শিখিয়েছে, মানুষ অভ্যাসের দাস নয়, পরিস্থিতির ছাত্র। ঠিক তেমনি, আবিরকে ছাড়া বাঁচা যাবে না—এই ভাবনাটাও ভুল ছিল। বাঁচতে হয়, শিখতে হয়, মানিয়ে নিতে হয়।
> এখন সামিরার একটাই ইচ্ছা—আবিরকে ভুলে যাওয়া। পুরোপুরি।
> কলেজ শেষ করে সে এখন একটি নামকরা কোম্পানিতে চাকরি করছে। পেশায় সে একজন ডিজাইনার। নতুন পরিচয়, নতুন দায়িত্ব—সবকিছুতেই নিজেকে ডুবিয়ে দিতে চায় সে। কিন্তু সমস্যা এক জায়গায়—সামিরার প্রতিটি কাজের সাথেই যেন আবির জড়িয়ে আছে।
> অফিসে যাওয়ার সময় বুকের ভেতরটা হঠাৎ খালি লাগে। প্রতিদিন আবির নিজের গাড়িতে করে তাকে অফিসে নিয়ে যেত। এখন সেই সময়টুকু এলেই সামিরার চোখে ভেসে ওঠে আবিরের হাসিমুখ।
> এই দুর্বলতা থেকে বের হতে সামিরা নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়—সে বাইক চালানো শিখবে।
> কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে একটি বাইক কিনে ফেলে।
> এখন প্রতিদিন সে নিজেই বাইকে করে অফিসে যায়। বাতাসে চুল উড়ে, বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টগুলো একটু একটু করে হালকা হয়।
> ছুটির দিনগুলো ছিল সবচেয়ে কঠিন। আগে এই দিনগুলো আবিরের সাথেই কেটে যেত। এখন ছুটির দিন মানেই স্মৃতি।
> স্মৃতি থেকে পালাতে সামিরা একটি এনজিওতে যোগ দেয়। ছুটির দিনে সে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে। অসহায় মানুষের চোখে কৃতজ্ঞতা দেখে সে বুঝতে পারে—ব্যথা ভুলে থাকার চেয়েও ব্যথাকে কাজে লাগানো অনেক শক্তিশালী।
> অনেক দিনের ছুটি হলে সে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। শহরের বাইরে, সবুজের ভেতর নিজেকে হারিয়ে ফেলে। প্রকৃতিকে আপন করে নিতে চায়, কারণ প্রকৃতি কোনো প্রশ্ন করে না।
> সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরলে নিঃসঙ্গতা তাকে জাপটে ধরে। চার দেয়ালের ভেতর দাঁড়িয়ে তার মনে হয়—এই বিশাল দুনিয়ায় তার কোনো ঠিকানা নেই।
> মাঝে মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে সে।
> মনে মনে প্রশ্ন করে—
> এই পৃথিবীতে কি একজনও ছিল না, যে সত্যিই আমার আপন হতে পারত?
> রিতির সাথে দেখা
> একদিন হঠাৎ করেই সামিরার দেখা হয়ে যায় আবিরের বান্ধবী রিতির সাথে।
> রিতি প্রথমে একটু থমকে যায়, কিন্তু সামিরাই এগিয়ে আসে।
> সামিরা:
> — রিতি… আমি তোমার কাছে একটা কথা বলতে চাই।
> রিতি:
> — বলো।
> সামিরা:
> — আগের দিনগুলোতে আমি তোমার সাথে ভালো ব্যবহার করিনি। আমার রাগ, আমার কষ্ট—সবকিছুর বোঝা তোমার উপর ফেলেছিলাম। আমি দুঃখিত।
> রিতি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর হালকা হাসে।
> রিতি:
> — মানুষ না বুঝে অনেক ভুল করে। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি, সামিরা।
> সামিরা মাথা নিচু করে শুধু বলে,
> — ধন্যবাদ।
> এই পুরো কথোপকথনে সামিরা একবারও আবিরের নাম নেয় না।
> রিতি সেটা লক্ষ্য করে। মনে মনে সে ভাবে—
> মেয়েটা সত্যিই নিজেকে সামলে নিচ্ছে।
> এই ভেবে রিতি খুশি হয়
২.*অফিসের লড়াই*
> সামিরার কোম্পানিতে প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা।
> আবিরের সাথে সম্পর্কে থাকার সময় সে কাজে এতটা মন দিত না। তাই অনেকেই ভেবেছিল—সামিরাকে হারানো সহজ।
> কিন্তু এই এক মাসে চিত্রটা বদলে গেছে।
> এই মাসে সবচেয়ে বেশি প্রজেক্ট হ্যান্ডেল করেছে সামিরাই।
> সে এখন নিশ্চিত—এইবার প্রমোশন তারই হবে।
> অফিসে তার সবচেয়ে কাছের মানুষ রনিতা।
> একদিন লাঞ্চ ব্রেকে—
> রনিতা:
> — জানিস, সবাই অবাক! কেউ ভাবেনি তুই এভাবে কামব্যাক করবি।
> সামিরা (হালকা হাসি):
> — আমি নিজেও ভাবিনি। তবে এখন বুঝি, নিজের জন্য কাজ করলে কেউ আটকাতে পারে না।
> রনিতা:
> — তোর এই বদলটা ভালো লাগছে। আগের সামিরা ছিল অন্যের উপর নির্ভরশীল, আর এখন…
> — এখন তুই নিজের উপর নির্ভরশীল।নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছিস।
> সামিরা কিছু বলে না। শুধু চোখ নামিয়ে নেয়। কারণ সে জানে, এই দাঁড়িয়ে থাকার পেছনে কত ভাঙন লুকিয়ে আছে।
*3.বস মহিত*
> সবকিছুর মাঝেও একটা কাঁটা হয়ে আছে—বস মহিত।
> মহিত কোনোদিনই সামিরাকে পছন্দ করত না।
> মিটিংয়ে তার আইডিয়াকে এড়িয়ে যাওয়া, ছোট ভুলে বড় কথা বলা—সবই ইচ্ছাকৃত।
> একদিন প্রেজেন্টেশনের পর—
> মহিত (ঠাণ্ডা গলায়):
> — কাজটা ঠিক আছে, তবে আরও ভালো হতে পারত।
> সামিরা বুঝে যায়, তার কাজ যতই ভালো হোক, মহিত কখনোই তা স্বীকার করবে না।
> কিন্তু এবার সে ভেঙে পড়ে না।
> চুপচাপ নিজের জায়গায় ফিরে আসে।
> কারণ এখন সে জানে—
> স্বীকৃতি না পেলেও নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়।
> রাতে বাসায় ফিরে সামিরা আয়নার সামনে দাঁড়ায়।
> নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে—
> “তুই একা ঠিকই, কিন্তু দুর্বল না।
> এই পথটা কঠিন, তবু তুই পারবি।”
> দ্বিতীয় পাঠ এখানেই শেষ হয়।
সামিরার জীবনে কি গঠবে কোন নতুন ঘটনা....
41
View
Comments
-
Md Jamal Uddin 3 weeks ago
উপন্যাসটি আমার ভালো লেগেছে পারের পাঠের জন্য অপেক্ষায় আছি।
-
Johora Khatun
3 weeks ago
পরের পর্ব পড়তে চাইলে গল্পে ভোট দিন এবং কমেন্টে জানান—আপনাদের সাপোর্টেই গল্প এগোবে।