Posts

গল্প

আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন?

January 1, 2026

Md. Anwar kadir

38
View

কয়েক বছর ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। আমি যখন গিয়েছি, নানা তখন বাইরে বসে আছেন আনমনে। শরীর ভেঙে পড়েছে। বয়সের ভার আর বইতে পারছেন না। হাতে লাঠি থাকার পরও একজন উনাকে সাপোর্ট দিতে হয়।
যেদিন মায়ের কোল আলো পৃথিবীতে এসেছিলেন সেদিন হয়ত উনাকে কেন্দ্র করে অনেক আনন্দ উদযাপন হয়েছে। 
কথা প্রসঙ্গে বলে উঠলেন,"চেষ্টা তো করিই, কিন্তু ঠিকমতো নামাজ পড়তে পারিনা। মনোযোগ ধরে রাখতে পারিনা। কত রাকাত পড়েছি তা ভুলে যাই। আবার মাঝে মাঝে ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতেও পারিনা।"
সান্ত্বনা দিয়ে বলি,"তাতে কি হয়েছে? আপনি যে চেষ্টা করছেন, তা আল্লাহ দেখছেন। তিনি কারো উপর তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপিয়ে দেননা।
যৌবন বয়সে ঠিকমতো আমল করে থাকলে বুড়ো বয়সেরটা আল্লাহ মাফ করবেন আশা করি।"
উনি অত্যন্ত দু:খ করে বললেন,"যৌবনের শুরুতে অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল ছিলাম। পরে গিয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি।"
উনার চোখের চাহনি উদাস। চোখের কোণে এক ফোটা জল। বললেন,"কত অপরাধ করেছি আমি। আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন?"
আমি অভয় দিয়ে বললাম,"অবশ্যই ক্ষমা করবেন। আপনি যে ক্ষমা চাচ্ছেন, এটাই আল্লাহকে খুশি করবে। তিনি তো ক্ষমা করারা জন্যই অপেক্ষা করছেন। প্রতিদিন শেষ রাতে প্রথম আকাশে এসে ডাকাডাকি করেন আমাদের ক্ষমা করে দেয়ার জন্য।"
উনি একটু ভরা গলায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবার জিজ্ঞেস করলেন,"আমি কি ক্ষমা পাবো?"
আমি উনাকে বনী ইসরায়েল এর সেই ব্যক্তি সম্পর্কে মুসলিম শরিফের নবীজি সা: এর সেই হাদিসটি শোনালাম। 
নবীজি সা: বলেছেনঃ 
"তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক লোক ছিলো। সে নিরানব্বই ব্যক্তিকে হত্যা করার পর জিজ্ঞাসা করল, এ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আলিম ব্যক্তি কে? তাকে এক রাহিবের সন্ধান দেওয়া হয়। সে তার কাছে এসে বলল, যে, সে নিরানব্বই ব্যক্তিকে হত্যা করেছো এমতাবস্থায় তার জন্য কি তাওবা আছে? রাহিব বলল, না। তখন সে রাহিবকেও হত্যা করে ফেলল। এবং এর (রাহিবের) হত্যা দ্বারা একশ পূর্ণ করল।
তারপর সে আবার প্রশ্ন করল এ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আলিম কে? তখন তাকে এক আলিম ব্যক্তির সন্ধান দেওয়া হল। সে আলিমকে সে বলল যে, সে একশ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, তার জন্য কি তাওবা আছে? আলিম ব্যক্তি বললেন, হ্যাঁ। এ তাওবার মধ্যে কে অন্তরায় হতে পারে? তুমি অমুক দেশে যাও। সেখানে কতিপয় লোক আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত আছে। তুমিও তাদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদতে মশশুল হয়ে যাও। নিজের দেশে আর কখনো ফিরে যেয়ো না। কেননা এ দেশটি বড় মন্দ। তারপর সে চলতে লাগল। এমন কি যখন সে অর্ধ পথে পৌছে তখন তার মৃত্যু এল।
এরপর রহমতের ফিরিশতা ও আযাবের ফিরিশতার মধ্যে তার সম্পর্কে বিবাদ লেগে গেল। রহমতের ফিরিশতারা বললেন, সে অন্তরের আবেগ নিয়ে আল্লাহর দিকে তাওবার জন্য ধাবিত হয়ে এসেছে। আর আযাবের ফিরিশতারা বললেন, সে তো কখনো কোন নেক আমল করেনি। এ সময় মানুষের সুরতে এক ফিরিশতা এলেন। তারা তাকে তাদের মধ্যে মীমাংসাকারী নির্ধারণ করলেন।
তিনি তাদের বললেন, তোমরা দুই দেশের মধ্যবর্তী দূরত্ব মেপে নাও। দুই স্থানের মধ্যে যে স্থানের দিকে সে অধিক নিকটবর্তী হবে তাকে সে স্থানেরই গণ্য করা হবে। তারা মাপলেন। তখন তাঁরা তাকে উদ্দিষ্ট স্থানের অধিক নিকটবর্তী পেলেন। তখন রহমতের ফিরিশতা তাকে কবজ করে নিলেন। কাদাতা (রহঃ) বলেন, হাসান (রহঃ) বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন তার মৃত্যু এল, তখন সে বুকের উপর ভর দিয়ে (কিছু এগিয়ে) গেল।"
হাদিসটি হয়ত তিনি আগেও শুনেছেন। তবে ওই অবস্থায় আমার কাছে আবার শুনে একটু খুশি হলেন। এরপরদিনই তিনি মারা যান। আশা করি, তিনি আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা নিয়ে যেতে পেরেছেন।

Comments

    Please login to post comment. Login