সেদিন গোলাপ ভাইএর সাথে দেখা। বেচারা ঋণের জ্বালায় বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তিনি দশ বছর আগে ব্যাংক থেকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন, এখন সেটা সুদে-আসলে এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
উনি আসলে ব্যবসায়ী মানুষ।ইট-সিমেন্ট-পাথর-রড-বালি ইত্যাদির ব্যবসায় তার। প্রচুর মুনাফা পাচ্ছিলেন উনি। ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড উনার। কিছুদিন একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিও করেছিলেন। তারপর চাকরি ছেড়ে ব্যব্সায়, তার সাফল্য ছিলো ঈর্ষনীয়।
উনার শখ ছিলো নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞানকে কাযে লাগিয়ে একটা স্বপ্নের মতো সুন্দর বাড়ি বানাবেন। বানিয়েছেনও বটে। কিন্তু সেই বাড়িটাই এখন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে।
উনি ব্যাংক থেকে ঋণটি নিয়েছিলেন উনার ব্যবসায়ের কথা বলে। ব্যাংকও দেখলো উনার ব্যবসায় আকাশে উড়ছে, তাই ঋণটিও দিয়ে দিলো। তারপর, এখন তো বাজে অবস্থায় পড়েছেন।
আমার কাছে পরামর্শ চাইলেন। আমি বললাম,"ভাই। প্রথমত আমি ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নেয়াটা পছন্দ করিনা। আর দ্বিতীয়ত ঋণ নিলে তা এমন কাজে লাগাতে হবে যা দিয়ে আপনি ঋণটি পরিশোধ করতে পারেন।
এখন আপনার বাড়ি তো আপনাকে কোনভাবেই আপনাকে কোন রিটার্ন দিচ্ছেনা। এমনকি তা এমন অবস্থানে আছে যে ভাড়াও দেয়া চলবেনা।"
উনি আবার জিজ্ঞেস করলেন,"এখন কি করা যায় বলো।"
বললাম,"আমার পরামর্শ হলো ঋণটি যেকোন উপায়ে পরিশোধ করুন। এটাই আমার পরামর্শ। প্রয়োজনে গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করুন। যত দেরি করবেন, ঋণের স্থিতি আরো বড় হবে। ঝামেলাও আরো বড় হবে।"
উনি বললেন,"গ্রামের বাড়িতে যত সম্পদ ছিলো, সেগুলোও বিক্রি করে দিয়েছি বউয়ের কথায়। আমার ফোকাস ছিলো শুধু এই বাসাটা করার উপর।"
বললাম,"তাহলে এখন একটাই উপায়৷ এই বাসাটাই বিক্রি করেন। তারপরও ঋণ পরিশোধ করেন।"
উনি জানালেন,"সেই চেষ্টাও করেছি। তবে ক্রেতা নেই, অযোগ্য ক্রেতা হলেও ছেড়ে দিবো কম দামে।"
বেচারা ঋণ করে ঘি খেতে গিয়ে গ্যারাকলে পড়েছে। উনার জন্য অত্যন্ত কষ্ট লাগছে। আমার কাছে অন্য কোন উপায় আছে কি-না জানতে চাইলেন। বলে দিলাম যে, আমার জানামতে কোন অন্য উপায় নেই।
সবশেষে উনাকে পরামর্শ দিলাম যেন গিয়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করেন। উনারাই অভিজ্ঞতার আলোকে ভালো পথ দেখাবেন।
43
View