হাজী ছেলিম আমার সাথে বসে চা খাচ্ছে, ভাবা যায়। বললাম, "কেমন আছেন, ভাই?"
উত্তর না দিয়ে ক্ষেপে গেলো। আমি তো ভয় পেয়ে গেছি, কিন্তু উনি কথা বলতে পারেননা। পাশ থেকে উনার কোন এক চেলা বলে দিলো রেগে যাওয়ার কারণ। হাজী সাহেব কেন বললাম না।
সরি বলে জিজ্ঞেস করলাম,"পাজি হাসেব। সরি, হাজী সাহেব৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো কেন দখল করে আছেন? আপনার তো আর সম্পদের অভাব নেই। ছাত্রদের জন্য ওগুলো ছেড়ে দিলেই তো পারেন।"
হাজী ছেলিম রাগে গরগর করে কিছু বলার জন্য চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হলো বেচারা। আহা! আল্লাহ বেচারার জবান বন্ধ করে দিয়েছেন। তার চেলা আমাকে বুঝিয়ে দিলো, আর যেন এমন প্রশ্ন না করি। কারণ তার বস উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে।
বললাম,"ভাইজান। এখনো সময় আছে, সাবধান হয়ে যান। যে আল্লাহ আপনার জবান কাইড়া নিয়েছেন, তিনিই তো আপনাকে জানটিও দিয়েছেন। যদি তওবা করার আগেই সেটাও নিয়ে যান?"
এবার আর কিছু না বলে কেবল চোখ লাল করে তাকালো আমার দিকে। বেচারা হয়ত মনে মনে অনেক গালি দিচ্ছে আমাকে। আহা! আল্লাহ ওর গালি দেয়ার পথেও বাধা দিয়ে রেখেছেন।
বললাম,"হাজী সাহেব। হজে যাওয়ার আগে কি মেয়েদের হক মিটিয়েছেন? এটা কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।"
পাশ থেকে তার চেলা বলে উঠল,"বসের কোন মেয়ে নাই। থাকলেও তাকে কিছুই দেওয়ার প্রশ্ন আসেনা। মেয়েরা কি পারবে হাজী সাহেবের এত বড় সম্রাজ্য ধরে রাখতে?"
কথা সত্য। একদম খাটি কথা। এবার বললাম,"আপনার ছেলেটা সিংহের মতো দাড়ি না রেখে এমন মোষের মতো গোপ রাখলো কেন? কেমন বলদের মত যেন?"
এবার ছেলিম সাহেবের হাতে কিছু একটা দেখলাম। যন্ত্রপাতি টাইপের কিছু একটা হবে আরকি। এটা আমার উপর প্রয়োগ করার আগেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। আহা! বড় বাচা বেচে গেছি।
31
View