
শীত নামা বিকেলে গ্রামের আল পথে হাঁটছি তোমার হাত ধরে। পাহাড়ের কোলে হাসি-আড্ডার খুনসুটিতে দেখছি দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ। ধানের জমি। কোথাও বা উড়ে যাওয়া সাদা বক। ক্লান্ত বিকেলে থেমে থেমে ভেসে আসা ঘুঘুর ডাক। চারিদিকে ঘুঘুর ডাকে নেমে আসে সন্ধ্যা।
বহু বছর পর এমন রোদ্দুরে বিল পেয়ে তুমি ছুটে যাও দূরে, বুনোফুলের ঘ্রাণ মেখে। অমন করে কি দেখে আছি— পাহাড়ের মেঠো পথে তোমার হেলেদুলে চলা। যেন দূরে উঁকি দেয়া পাহাড়ের ঢেউ আমার সামনে হাজির হলো সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে। প্রকৃতির প্রেম আর তোমারে দেখার আনন্দ আমার। আমি কুয়াশা ঘেরা বিলের মাঝে শীতের চাদর গায়ে বসে আছি।
পাহাড়ে আগর গাছ ভেদ করে হালকা রোদের নরম আলো ঠিকরে পড়ছে তোমার মায়ামুখে। আমরা পাহাড়ের ভ্যালিতে পথের কিনারে হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা পথ এগোলাম, বখশোখিলের দিকে। এখানে আমার শৈশবের অনেক স্মৃতি জমে আছে। জমে আছে কৈশোরের দুরন্তপনা, একাকী হাঁটতে যাওয়া শীতের বিকেল।
কেমন অদ্ভুত শীতের উষ্ণতায় জমে যাচ্ছি আমি। এ-কি তোমার ছোঁয়া নাকি শীতের উষ্ণতা? যেন সমস্ত শীতজুড়ে তোমার অনুরণন বাজে আমার বুকে। আমি তোমার ছোঁয়া পেতে ছুঁটে যাই পাহাড়িয়া গ্রামে, বুকের কাছাকাছি। তোমার মুখে গুনগুন সুরের আওয়াজ— 'তুজ যে শুরু, তুজ যে পে খাতাম মেরি জিন্দেগী কি দাস্তান'....
আমি সমস্ত পথ ভুলে যাচ্ছি। আল পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি তোমার দিকে। সামনে দাঁড়ানো আমার নয়নতারা— আমি যেন একটা ঘোরের ভেতর দিয়ে সোনালি রোদের আলোয়, বিকেলের হাওয়ায় উড়তে থাকা পাখির মতো তোমার কাছে চক্রাকারে ঘুরতে থাকি।
আমার শৈশব স্মৃতি, অতীত-জীবনের সব ফেলে আসা দিনের কথা তোমারে বলতে থাকি। আমার এই স্মৃতির ভেতর তুমি হারিয়ে যাচ্ছো বুকে মাথা রেখে। যেন নিজের মতো করে স্মৃতিগুলো আপন হয়ে যাচ্ছে তোমার মনের আনন্দে।
পাহাড় থেকে ভসে আসা বুনোফুলের ঘ্রাণে সন্ধ্যা নেমে আসছে। আমাদের এই স্মৃতি সুন্দর দিনে হাঁটতে হাঁটতে বেলা ফুরিয়ে আসছে। পাহাড়ের ওপাশে ম্রিয়মাণ আলোয় রক্তিম রেখায় হারিয়ে যাচ্ছে সূর্য। তোমার একলা হাঁটার পথে চেয়ে আছি। আহা দিন, আহা সন্ধ্যার মিলনমেলা।