কাজল খেয়াল করলো, বাদল রিকশাওয়ালাকে দশ টাকা ভাড়া এমনিতেই বেশি দিয়েছে। রিকশাওয়ালা চানও নি।
তারপর বিদায়ের আগে রিকশাওয়ালাকে তার বাড়িতে কে কে আছে, সবাই ভালো আছে কি-না ইত্যাদি জিজ্ঞেস করেছে। এমনকি সালাম দিয়ে এবং মুসাফাহা করে তাকে বিদায় দিয়েছে।
কাজল জিজ্ঞেস করলো,"ভাই। তুমি কি উনাকে আগে থেকে চিনো? নাকি তোমার কোন আত্মীয় হয় উনি?"
বাদল বললো,"আজকেই তো দেখা হলো। আগে কখনো দেখেছি কি-না বলতে পারবোনা।"
কাজল আবারও জানতে চাইলো,"তাহলে দশ টাকা কেন বেশি দিয়েছো?"
বাদল বললো,"দশ টাকা দিয়ে আর আজকালকার দিনে কি হয়? এক কাপ চায়ের দামই তো দশ টাকা। ধরে নাও চা খাওয়ার জন্যেই দিয়েছি উনাকে।"
কাজল বললো,"তুমি রিকশাওয়ালার সাথে এত সুন্দর আচরণ করলে যে, আমি ভেবেছি উনি তোমার কোন আত্মীয়।"
বাদল পাশ দিয়ে চলে যাওয়া একজন রিকশাচালককে সালাম দিলো। তারপর কাজলের প্রশ্নের জবাবে বললো,"দেখো। উনারা দিনমজুর মানুষ। অত্যন্ত পরিশ্রমী। আল্লাহর কাছে উনারা অত্যন্ত প্রিয়৷ হয়ত দুনিয়াতে উনাদের চেয়ে আমার একটু বেশি আয়-রোজগার আছে, এটাই।
তা না হলে উনার সামনে গর্ব করে কথা বলার মতো আমার কিছুই নেই৷ মিজানের পাল্লায় হয়ত উনাদের হিসাব সহজ হবে৷ তাই উনাদের দোয়া নেয়ার চেষ্টা করি। এই জন্যেই উনাদের সাথে সুন্দর আচরণ করি আরকি।
আর মাঝে মাঝে মনে হয় যেন, মনের মধ্যে অহংকার জমে যাচ্ছে, মনে হয় শয়তান গোপনে ওয়াস-ওয়াসা দিচ্ছে। তখন ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবাইকে সালাম দেই বেশি করে। কারণ, যে আগে সালাম দেয়, সে নবীজি সা: এর হাদিস অনুযায়ী অহংকারমুক্ত।"
কাজল শুনে বললো,"তুমি ঠিক বলেছো। উত্তম আখলাকের অধীকারী হওয়া আমাদের জন্যে ফরজ৷"
35
View