করিম সাহেব অনেকদিন ধরে তার কন্যার জন্য বর খুজছিলেন। অনেক কষ্টে উপযুক্ত বর পাওয়া গেছে৷ বর উচ্চ শিক্ষিত, বেসরকারি চাকরি করে, লাখ টাকা বেতন।
বিয়েতে ঘুষ (যৌতুক) হিসেবে টাকা লাগবেনা৷ তবে ফার্নিচার-টিভিসহ একটা বাইক দিতে হচ্ছে, এটা নেহায়েতই কম। কি আর করা যাবে! উনি মেয়ের বাবা, তাই দিতে হবে।
গ্রামের বাড়িতে বিয়ে। উনার বাড়িতে বেশি যায়গা নেই, তাই বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে কম মানুষ নিয়ে আসার জন্য বরকে অনুরোধ করলেন করিম সাহেব। সবমিলিয়ে একশ মানুষ নিয়ে আসবে বর। এটাই ফাইনাল হয়েছে৷
তবে করিম সাহেব ধরে রেখেছেন দুইশত মানুষ বরযাত্রী। তিনি জানেন, বিয়েতে অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি লোক বরযাত্রী হয়ে থাকে।
কিন্তু বিয়ের দিন করিম সাহেবের সকলের মাথা নষ্ট হওয়ার অবস্থা। কারণ, বর আসার আগেই বরের দুইশত জন বন্ধু বাইক নিয়ে হাজির। তাদেরকে খাওয়ায়ে তিনি এদিক-ওদিক ফোন করে আরো একশত মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন।
কিন্তু বর এসেছে আরো প্রায় দুইশত মানুষ নিয়ে। করিম সাহেবের তো চিতকার কান্না করতে মন চাচ্ছে। এত মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা কিভাবে করবেন তিনি? বিয়ের খাওয়া বলে কথা। রান্না ভালো না হলে মান-ইজ্জত যাবে। তার উপর এত মানুষকে বসতে দিতেও হবে।
অনেক কষ্টে তিনি সবকিছু সম্পন্ন করেছেন। মেহমানদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমাও চেয়েছেন খাবারের মান রক্ষা করতে না পেরে৷
সবশেষ বিয়ে পড়ানোর সময় হলো। বরপক্ষের এলাকার চেয়ারম্যান এবং কন্যাপক্ষের এলাকার চেয়ারম্যান গল্প করছিলেন। এর মধ্যে করিম সাহবে টাকা দিয়ে বিয়ে পড়ানোর কাজীকে গোপনে বিদায় করে দিয়েছেন।
করিম সাহেব চেয়ারম্যান দুজনের কাছে ক্ষমা চেয়ে বললেন, তিনি এই ছেলের কাছে তার মেয়ে বিয়ে দিবেননা। অনুষ্ঠানের সবাই একযোগে হা করে গেলো। চেয়ারম্যান দুজন তাদেরকে কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।
করিম সাহেব বললেন,"দেখুন। আপনাদের কষ্ট দিয়েছি বলে, আপনাদের কাছে আমি করজোড়ে ক্ষমা চাচ্ছি।
আমাদের কথা ফাইনাল হয়েছিল, একশত মানুষ বরযাত্রী হিসেবে থাকবেন। কিন্তু এসেছেন চারশত বরযাত্রী। মেহমানদের কাছে আমি ক্ষমা চাওয়ার ভাষা খুজে পাচ্ছিনা। তাদেরকে ভালো করে আপ্পায়ন করতে পারিনি৷
এই ছেলের বিবেক আছে বলে মনে হয়না। একশত মানুষের জায়গায় আমি অনুমান করে রেখেছিলাম দুইশত মানুষের৷ কিন্তু সে নিয়ে এসেছে চারশত বরযাত্রী।
এতই যদি মেহমানদারী করার ইচ্ছে থাকতো, তবে সে নিজের বাড়িতে আয়োজন করে খাওয়াতে পারতো। এমন ছেলের কাছে আমি মেয়ে দিবোনা।"
বরযাত্রীদের মাঝে কেউ কেউ তেড়ে আসতে লাগলো করিম সাহেবের দিকে৷ দুই চেয়ারম্যান মিলে সবাইকে শান্ত করলো।
তারপর করিম সাহবেকে বুঝাতে চেষ্টা করলো। করিম সাহেব তাদের কাছে আবারও হাতজোড় করে বললেন,"দেখুন আপনারা৷ আমি জেনেবুঝে এমন একটা শিক্ষিত-মুর্খ ছেলের কাছে আমার মেয়ে দিতে পারিনা। এটা আমার মেয়ের জীবনের প্রশ্ন। আপনাদের মেয়ে হলেও কি আপনারা এমন কাজ করতেন?"
উভয় চেয়ারম্যান মনে হয় ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন। তারাও সম্মত হলেন করিম সাহেবের সাথে।
45
View