বন্ধুর বিয়েতে যাবো। বলে দিয়েছে, সকাল সকাল বের হতে। কনের বাড়িতে গিয়ে সকালের নাস্তা হবে। আমিও খুশি মনে রেডি হয়ে গেছি। বাধ সাধলো আমার স্ত্রী। সকালের নাস্তা রেডি করে রেখেছে আগেই।
সে বললো, কিছু খেয়ে নেয়ার জন্য। কারণ, সাধারণত বিয়ে বাড়িতে বরপক্ষের জন্য কেউ সকালের নাস্তার আয়োজন করেনা।
আর আমি চাইলেও গিয়ে সকালের নাস্তা ওখানে করতে পারবোনা। কারণ, আমার থাইরয়েড এর সমস্যা, মেটাবলিক ডিজঅর্ডার আছে। খাবার সঠিক সময়ে খেতে হয়।
অগত্যা খেয়ে বের হলাম। বর একটা দোকানের লোকেশন বললো, যেন সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করি। ওরা এ পথেই কনের বাড়ি যাবে, আমাকে সাথে নিয়ে যাবে।
বসে এক কাপ চায়ের অর্ডার দিলাম। তাড়াতাড়ি চা শেষ করলাম, যদি আগেই চলে আসে ওরা। কিন্তু ওরা আর আসেনা। কেউ আর ফোনও ধরেনা। অনেক পরে বর ফোন ধরে বললো যে, সে রেডি হচ্ছে।
কিছুক্ষনের মাঝেই বের হয়ে যাবে। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম। বলে কি? ভাগ্য ভালো যে, আমার স্ত্রী জোর করে সকালের নাস্তা খাওয়াই দিয়েছে। বসে বসে অনেকগুলো কাপ চা আর কপি শেষ করলাম। বসে থাকতে থাকতে গায়ে ব্যাথা এসে গেছে। বরকে ফোন দিলে বলে,"এই যে চলে এসেছি।"
জোহরের নামাজের সময় ফোন দিলাম। বললো, যেন আমি মসজিদে না যাই। ওরা কিছুক্ষণের মাঝে চলে আসবে। কিন্তু নামাজ তো আর ফাকি দেয়া যায়না।
পাশের একটা মসজিদে ঢুকে তাড়াতাড়ি নামাজ পড়ে এসে আবার কল দিলাম। বললো,"কাছাকাছি চলে এসেছি।"
এর আরো প্রায় এক ঘন্টা পর বরের গাড়ি আসলো। মনে মনে নিজেকেই দোষ দিচ্ছিলাম। বন্ধুর বিয়ে খাওয়ার জন্য মানুষ এত পাগল হয়ে যায়? এবার বোঝো ঠেলা!
এদিকে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে যাচ্ছে৷ কনের বাড়ি যেতে আরো প্রায় দেড় ঘন্টা লাগবে। আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারিনা। দোকানের উল্টাপাল্টা কিছু খেতেও পারিনা। মনে মনে নিজেকে বলছিলাম,"আরো খাও বন্ধু বিয়ের দাওয়াত৷"
44
View
Comments
-
Kazi Eshita
3 weeks ago
দরকার নাই এমন দাওয়াত এর