Posts

গল্প

মৃতের বাড়ির মজার খাওয়া

January 4, 2026

Md. Anwar kadir

38
View

হাসিবের দাদী মারা গেছে আজ ছয়দিন হয়েছে। সে এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। দাদীর কাছে সে খুবই প্রিয় ছিলো৷ 
আজকে দাদীর জন্য দোয়া পড়ানো হবে। প্রায় এক হাজারের উপরে মানুষ খাবে। এটাই হাসিবের অপছন্দ। কেউ মারা গেলে খাওয়ার আয়োজন একটা সময় সনাতন ধর্মের লোকেরা করতো। 
এখন তারাও এটা থেকে বের হয়ে আসছে। কিন্তু আমরা এখনো সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে উঠেপড়ে লেগেছি। তাদের বাড়ির অদূরেই একটা এতিমখানা। তার ইচ্ছা ছিলো, সেই বাচ্চাদের জন্য কিছু একটা করবে। কিন্তু সে ছোট বলে তার কথা কেউ আমলে নেয়নি।
দিনটি শুক্রবার, জুমুআর দিন। জুমুআর নামাজের পর দোয়া পড়ানো হয়। এরপর খাওয়ার আয়োজন। হাসিব নিজেও হাতে লাগায় খাবার সার্ভ করার কাজে৷ 
অনেক মানুষ হয়েছে। এক হাজার অনুমান করলেও মনে হচ্ছে আরো অনেক বেশি হবে। তবে প্রায় পাচ-সাত লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। খাবারের ঘাটতি পড়েনা। উল্টো আরো খাবার বেচে যায়। আত্মীয় সজনের বাড়িতে সে খাবার পাঠানোও হয়। 
হাসিবের কাছে এসব একদম ভালো লাগেনা। তার কাছে কেমন যেন এই আয়োজন একটা উৎসবের আমেজ বলে মনে হচ্ছিলো। সবাই হাসাহাসি করছিলো। কোন খাবারের রান্না ভালো হয়নি সেটা বলছিলো। কার মৃত্যুর খাবার খেয়ে ভালো লেগেছে, এসব আলোচনা হচ্ছিলো।এসব মানুষের বিবেক কোথায়? মানুষ এত অকৃতজ্ঞ হয়? মৃতের বাড়িতে খেয়ে আবার সমালোচনাও করে!
হাসিব ভেতর থেকে অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছিলো। কারো মৃত্যুতে এমন আনন্দঘন আয়োজন করার মানে হয়? সে নিয়ত করে রেখেছে। ভবিষ্যতে কেউ মারা গেলে সে মানুষকে না খাইয়ে টাকাগুলো এতিমখানায় দিয়ে দিবে। ওরা সবার জন্য দোয়া করবে। ওদের অন্তর এবং অন্তরযামী সবাই খুশি হবে!

Comments

    Please login to post comment. Login