নাসির আমাকে বলে বসলো,"ভাই৷ আপনাদের ইসলামে তো পুরুষের জন্য চারটা বিয়ে ফরজ৷ আর মেয়েদের জন্য একটাই। এখানে কিভাবে জাস্টিস হয়ে বলেন?
উল্টো জিজ্ঞেস করলাম,"চারটি বিয়ে ফরজ, এই কথা কোথায় পেয়েছো?"
সে বললো,"আপনাদের কোরানেই আছে।"
এবার বললাম,"বলো তো, কোরানের কোন সুরার কততম আয়াতে এটি আছে। আর সেখানে কি বলা হয়েছে।"
সে বললো,"ভাই। আপনাদের ধর্মগ্রন্থ, তাই আপনিই বলেন।"
বললাম,"এটি বলা হয়েছে সুরা নিসা'র ৩নং আয়াতে। সেখানে আরো অনেক কথাই আছে। তবে বিয়ে সম্পর্কে বলা হয়েছে,"..তবে তোমরা তোমাদের পছন্দমত নারীদের মধ্যে থেকে বিয়ে কর—দুই, তিন অথবা চারটি। কিন্তু যদি ভয় কর যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একজনকেই বিয়ে কর।"
নাসির বললো,"এই যে এখানে চারজনকে বিয়ে করার কথা বলা হয়েছে।"
বললাম, "দেখো। এখানে স্পষ্ট করেই একটি বিয়ের কথাই বলা হয়েছে৷ কারো যদি আর্থিক, সামাজিক এবং শারীরিক সক্ষমতা থাকে তবে সে একের অধিক বিয়ে করতে পারবে।"
সে আবার জিজ্ঞেস করলো,"আপনার কি মনে হয়? কেউ একাধিক স্ত্রীর মাঝে সুবিচার করতে পারবে?"
আমি উল্টো জিজ্ঞেস করলাম,"তুমি কি সমাজে প্রতি বিশ হাজারে একজন দেখাতে পারবে যে একের অধিক বিয়ে করেছে? যে সুবিচার করতে পারবে সেই তো করবে। যদ্ধু লাগলে সমাজে পুরুষের সংখ্যা কমে যায়। তখন এটার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে একজন পুরুষ বন্ধু নিয়ে মা-মেয়ের ঝগড়ার কথা পাওয়া যায় আমাদের সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায়৷
আর এই সুবিধাটা অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের জন্যে। বিশেষ করে যেসব নারী অসহায়। দেখার কেউ নেই। তারা সামাজিক স্বীকৃতিও পেয়ে যাবে।
আশা করি, এবার অবশ্যই বুঝতে পারছো। ইসলামে চারটি বিয়ের অনুমতি দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিয়ে করতে বলেছে একটি।"
40
View