কামাল আবার চা নিয়ে এসেছে। বসেই প্রশ্ন করলো,"ভাই৷ শুনেছি সম্রাট শাহজাহানকে তার পুত্র আওরঙ্গজেব ক্ষমতার জন্য বন্ধী করেছিলেন৷ অথচ এই ব্যক্তিকেই বলা হয় জিন্দাপীর। এটা কিভাবে সম্ভব?"
উত্তরে বললাম,"দেখো। তুমি যা জানো তার বেশিটাই টুকরো টুকরো তথ্য, যা জোরা দেওয়া। আর বাকিটা ভারতের গদি মিডিয়ার বলা৷ ফলে এখানে সত্য আর অসত্য মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
আমি পড়াশোনা করেছি যদুনাথ সরকার নামের একজন ভারতীয় ইতিহাসবিদের লেখা থেকে। তিনি মুসলিম ছিলেননা। কিন্তু নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছেন।"
সে প্রশ্ন করলো,"তাহলে ভাই। আপনিই বলেন, আসলে কি হয়েছিলো?"
বললাম,"সম্রা শাহজাহান স্ত্রীর শোকে সম্রাজ্য পরিচালনায় মনোযোগ দিতেন কম৷ বিশ বছর লাগিয়ে রাজকোষ খালি করে নির্মাণ করেন তাজমহল।
তাজমহলের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দামী দামী পাথর আনার জন্য জনগণের উপর বাড়াতে হয় করের বোঝা।
সম্রাট নিজেও চাইতেন তার আদরের অযোগ্য বড় পুত্র দারাশিকোহ পরবর্তী সম্রাট হোক, তাই তাকে দিল্লিতে নিজের কাছেই রাখতেন৷ আর যোগ্য পুত্র আওরঙ্গজেবকে দূরে রাখার জন্য অপেক্ষাকৃত কঠিন এলাকা দক্ষিণাত্বে পাঠিয়ে রাখেন।
এ সময় সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হকে দারাশিকো হঠাৎ ঘোষণা দেন যে সম্রাট মারা গেছেন। আর এখন থেকে তিনিই সম্রাট।
এক সময়ে সম্রাটের অপর দুই পুত্র সুজা এবং মুরাদও ক্ষমতার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এক রকম বাধ্য হয়েই ক্ষমতার কথা চিন্তা করতে হয় তাকে৷
উনি সম্রাট না হলে দারাশিকো সম্রাট হতেন।
তিনি ছিলেন অযোগ্য এবং আমোদপ মানুষ। সম্রাজ্য চালাতে ব্যর্থ হতেন। আর যদি পিতার মতো আরেকটা তাজমহল বানাতে চাইতেন, তাহলে জনগণের কি অবস্থা হতো?"
কামাল বললো,"তাই বলে নিজের পিতাকে বন্দী করতে হবে জেলখানায়?"
বললাম,"ওইটা আসলে জেলখানা নয়। একটা বাগানবাড়ি টাইপের ছিলো। আর সেখানে তিনি গৃহবন্দী ছিলেন। সেখান থেকে তাজমহল দেখা যেতো। তার জন্য সকল প্রকারের সুযোগ সুবিধা ছিলো। এমনকি তার কন্যা জাহানারা তার সেবা করতেন।
সবচেয়ে বড় কথা, তাকে বন্দী না করলে তিনি আবার সেই অযোগ্য দারাশিকোকে সম্রাট বানাতে চাইতেন।"
কামাল বললো,"আমি শুনেছি, তাজমহল নির্মাণের পরপরই আওরঙ্গজেব তাকে বন্দী করেন।"
জবাবে বললাম,"এটার জন্যও তো আওরঙ্গজেব দায়ী নয়। তার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে দারাশিকো যে ষড়যন্ত্র করেছে সেটা কিন্তু কেউ বলতে চায়না।
আসলে সম্রাট আওরঙ্গজেব অত্যন্ত ধার্মিক মুসলিম ছিলেন, যে কারণে তাকে জিন্দাপীর বলা হয়। আর এই জন্যেই আমাদের সমাজের একটা বড় ইসলামোফোবিক অংশ তাকে অপছন্দ করে৷ তার সম্পর্কে জেনে না জেনে অনেক মিথ্যা রটিয়েছে যার হয়ত ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।"
22
View